হাওয়া ভবনের কর্মচারীর টাকায় লন্ডনে বাস করছেন তারেক রহমান!

বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০১৬ ১৭:৫৮ ঘন্টা

নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

হাওয়া ভবনের কর্মচারীর টাকায় লন্ডনে বাস করছেন তারেক রহমান!

হাওয়া ভবন

কাশেম কাব্য : শামসুজ্জোহা ফরহাদ। হাওয়া ভবন এর সাবেক এক কর্মী। রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত ওই ভবন পরিচালনায় সম্পৃক্তদের পৃষ্ঠপোষকতায় দিনে দিনে হয়ে ওঠেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী। শিল্পপতির তালিকায়ও নাম লিখিয়েছেন। বিত্ত-বৈভব ‘লাখ-কোটি’ ছাড়িয়ে এখন শতকোটির ঘরে। সামসুজ্জোহার অঢেল সম্পদের এ হিসাব প্রাথমিক পর্যায়ের। আরও সম্পদের খোঁজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের স্নেহধন্যদের একজন এ শামসুজ্জোহা ফরহাদ। বেগম জিয়ার ভাই প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের মালিকানাধীন মার্শাল ডিস্টিলারিতে কাজ করতো শামসুজ্জোহা। এটা ১৯৯৪ সালের কথা। মামা সাঈদ এস্কান্দারের মাধ্যমে শামসুজ্জোহা ফরহাদের সঙ্গে পরিচয় হয় ভাগ্নে তারেক রহমানের।

২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় এলে হাওয়া ভবনে চাকরি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সামসুজ্জোহাকে। বেতনও আহামরি অংকের ছিল না বলে জানা যায়। সেখানে চাকরির সুবাদে মামা-ভাগ্নে প্রতিষ্ঠিত বস্ত্র কারখানা ড্যান্ডি ডাইংয়ের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হন তিনি। এতে তারেক রহমানের কাছাকাছি আসার সুযোগ হয় সামসুজ্জোহার। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক’বছরের ব্যবধানে গাড়ি-বাড়ি, ব্যাংক-ব্যালেন্স, এফডিআরসহ নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক হন শামসুজ্জোহা।

সম্প্রতি সামসুজ্জোহার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আসে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে। অভিযোগে বলা হয়, সামসুজ্জোহা ব্রিটেনে থাকা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য অবৈধ উপায়ে টাকা পাঠান। ওই অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে শামসুজ্জোহার নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পায় দুর্নীতি দমনে নিয়োজিত সংস্থাটির তদন্ত দল।

তদন্ত দল সামসুজ্জোহা ফরহাদের ঢাকায় দু’টি বাড়ি, দু’টি গাড়ি, কয়েকটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট, চারটি ব্যাংকে হিসাব নম্বরে নগদ টাকা এবং বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পায়। শামসুজ্জোহা ফরহাদ বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন মিরপুরের রূপনগরে ছয় তলা একটি বাড়িতে। সেটি তার নিজের বাড়ি। সম্পদের আর্থিক মূল্য শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বাংলামেইলকে নিশ্চিত করেছে কমিশনের একটি সূত্র।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, মিরপুরে রূপনগরের বাড়ি ছাড়াও ৫টি তলা আরও একটি বাড়ি রয়েছে তার। এছাড়া ধানমণ্ডি, শ্যামলী ও মিরপুরে রয়েছে ৫টি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট। এছাড়া বগুড়া সদরে ৩ একর জমি এবং রংপুরের মিঠাপুকুরে ৭ একর জমির সন্ধান পাওয়া গেছে তার নামে। শামসুজ্জোহা ফরহাদ ও তার স্ত্রী রোজিনা জোহার ব্যবহারের জন্য রয়েছে দুই গাড়ি। গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুরে রয়েছে রাইস মিল, মৎস্য খামার, ইটের ভাটা। কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় অংশিদারিত্বও রয়েছে  শামসুজ্জোহা ফরহাদের। এনসিসি, পূবালী, ইসলামী এবং স্ট্যান্ডার্ট চার্টার্ড ব্যাংকে ১০টি হিসাব নম্বর রয়েছে তার। বিভিন্ন মেয়াদি আমানত সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট) রয়েছে। স্থায়ী আমানতে টাকার অংক কত সে সম্পর্কে তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দুদক কর্মকর্তা জানান, শামসুজ্জোহা ফরহাদের নামে এসব সম্পদ কেনা হয়েছে চারদলীয় জোট সরকারের ক্ষমতার মেয়াদে। সম্পদ কেনার কাগজপ্রত্র দেখে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। যদিও প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তাদের সামসুজ্জোহা বলেছেন, ব্যবসার আয় থেকে এসব সম্পদ তিনি কিনেছেন।

শামসুজ্জোহা ফরহাদের ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চাইলে দুদক কর্মকর্তা জানান, শামসুজ্জোহা ফরহাদ প্রথমে ডিস্টিলারির (মদ চোলাই কারখানা) এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে এইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া এসব সম্পদের তথ্য যাচাই-বাছাই করছে দুদক কর্মকর্তারা। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে অসঙ্গতি থাকলে সম্পদ বিবরণি দাখিলের সুপারিশ করে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হবে।

শামসুজ্জোহা ফরহাদের সম্পদ অনুসন্ধানে সংস্থার উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদকে প্রধান করে তিন সদস্যের অনুসন্ধানী দল গঠন করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন, সহকারি পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান ও মো. শফিউল্যাহ। অনুসন্ধান তদারকি করছেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। অনুসন্ধানের শুরুতে গত ১৩ জানুয়ারি শামসুজ্জোহা ফরহাদ ও তার স্ত্রী রোজিনা জোহার দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সূত্র-বাংলামেইল

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.