নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০১৬
বাংলাদেশে আরও জঙ্গি হামলার হুমকি দিয়ে আইএসের দেওয়া ভিডিওতে তিন যুবককে বাংলায় কথা বলতে শোনা যায়। হুমকিদাতাদের মধ্যে তৃতীয় জন আরাফাত ওরফে তুষার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি এবং রাজউক থেকে এইচএসসি পাসের পর ছিলেন সিটি ডেন্টাল কলেজে ছাত্র বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, টেবিল টেনিস খেলা আর পেশাগত কাজের মধ্যে যে আরাফাত কখন বদলে যেতে থাকেন টেরই পাননি স্বজনরা। আর যখন বুঝতে পেরেছেন ততদিনে আরাফাত নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন এবং ‘হিংস্র’ হয়ে উঠতে শুরু করেছেন।
আর একসময় কোনরকমের খবর না জানিয়ে নিরুদ্দেশ হন তিনি। ২০১৪ সালের পর তার সঙ্গে পুরোনো কোনও বন্ধুদের কারো সাথেই যোগাযোগই ছিল না বলে জানা গেছে।
তার বন্ধুরা জানান, আরাফাত প্রয়াত মেজর ওয়াশিকুর আজাদের ছেলে। পেশায় দন্ত্য চিকিৎসক তুষার গত প্রায় দুই বছর ধরে নিখোঁজ। তবে শেষ যখন তার দেখা পাওয়া গেছে- নানারকম পারিবারিক অশান্তির মধ্য দিয়ে তিনি জীবনযাপন করতো বলেও তাদের দাবি। ততদিনে তিনি নিজের সংসার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।
ভিডিও দেখে তার কলেজেরই একজন সহযোগী অধ্যাপকের দাবি, এটা আরাফাত। ওর সঙ্গে অনেক টেবিল টেনিস খেলেছি একসময়। তিনি যখন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তখন আরাফাত ইন্টার্ন হিসেবে ছিল।
আরাফাতের এক জুনিয়র জানান, ভিডিওতে কথা বলার ধরন দেখেই চেনা যায় এটা আরাফাত। ২০১২ সালে তাকে দাঁড়িসহই দেখেছেন তাই চিনতে সমস্যা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, পরিবারের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক যাচ্ছিল না। শেষদিকে তিনি নিজের শরীরের ওপর নানারকম অত্যাচার করতেন। একসময় নিজেই সবার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। হঠাৎই জানতে পারি তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
আরাফাত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি এবং রাজউক থেকে এইচএসসি পাস করেন। বারিধারার ডিওএইচএস-এ তাদের বাসা।
গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ অন্তত ২২ জন নিহত হওয়ার চার দিনের মাথায় বুধবার আইএসের নামে নতুন এই ভিডিও অনলাইনে আসে। ওই ভিডিওতে তিন যুবককে বাংলায় কথা বলতে শোনা যায়। সাইট ইন্টেলিজেন্সের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বলা হচ্ছে, ওই ভিডিওবার্তা সিরিয়ার আইএস কথিত রাজধানী আর রাকা থেকে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১ জুলাই) রাতে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে ২ পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশি নাগরিক ও ৩ বাংলাদেশি নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে ৬ জঙ্গি নিহত হয় বলে শনিবার সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় ৩ বিদেশিসহ ১৩ জিম্মিকে। এছাড়া ১ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।






