অনলাইন ডেস্ক । ৪:৫৮, শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬
যুক্তরাস্ট্রের বেশ কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর কারণে গতকাল শুক্রবার দেশটির প্রধান কয়েকটি ওয়েবসাইটে সাময়িকভাবে ঢুকতে পারেননি ব্যবহারকারীরা।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সাইবার হামলার ফলে টুইটার, স্পটিফাই, রেডিট, সাউন্ডক্লাউডের মতো সাইটগুলোতে ঢুকতে সমস্যায় পড়েন ব্যবহারকারীরা। হ্যাকাররা মূলত ডাইন নামের একটি ইন্টারনেট ফোনবুক বা ডিএনএস সেবাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়।
হামলার শিকার প্রতিষ্ঠানগুলো ডাইনের সেবা ব্যবহার করে। ডাইন ব্যবহার করে এই সাইটগুলো অনলাইনে খুঁজে পান গ্রাহকেরা। ডাইনের মতো ডিএনএসগুলো ওয়েবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার সকালে দুবার সাইবার হামলার শিকার হয় ডাইন। পরে শুক্রবার রাতে আবার সাইবার আক্রমণ হয় বলে জানায় ডাইন। ডাইন আক্রমণের সময়ে আমাজনের ওয়েব সেবাগ্রহীতারাও কিছুটা সমস্যায় পড়েন। ১০ লাখেরও বেশি কোম্পানি আমাজনের ওয়েব-সেবা ব্যবহার করে।
এক বিবৃতির মাধ্যমে ডাইন এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, ডিনায়াল-অব-সার্ভিস বা ‘ডিডস’ আক্রমণের শিকার হয়েছে তারা। ডিনায়াল অব সার্ভিস আক্রমণ হচ্ছে কোনো কম্পিউটার সিস্টেমের রিসোর্স বা সেবাগ্রহীতার প্রকৃত ব্যবহারকারীদের বাধা দেওয়ার একটি কৌশল।
এতে কোনো ওয়েবসাইট আক্রান্ত হলে তার গতি ধীর হয়ে যায় বা অনেক ক্ষেত্রে সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বাইরে থেকে কম্পিউটার সিস্টেম বা সাইটের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অসংখ্য বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে এ হামলা চালানো হয়।
একটি বার্তা বিশ্লেষণ করতে করতে আরও কয়েকটি বার্তা যদি এসে পড়ে, তখন ওই সিস্টেমটি আক্রমণকারীর পাঠানো বার্তা বিশ্লেষণেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে; ফলে প্রকৃত ব্যবহারকারীরা ধীরগতির সম্মুখীন হয়।
ডিডস আক্রমণ সম্পর্কে সাইবার নিরাপত্তা উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রধান জেরেমিয়া গ্রসম্যান বলেন, যেকোনো একটি ডিএনএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলা হলে অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ব্যবহারে বাধা দেওয়া যায়। এ বিষয়টিই সাম্প্রতিক এ হামলায় দেখা গেছে।
তবে কে বা কারা এই ইন্টারনেট হামলা চালিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তা জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ব্যাপারে তারা তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে বিশ্লেষকদের বরাতে বিবিসির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ-সুবিধার সিসিটিভি, প্রিন্টারের মতো যন্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে হ্যাকাররা।
ইন্টারনেট নিরাপত্তা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাশপয়েন্ট নিশ্চিত করে বলেছে, ‘মিরাই’ ম্যালওয়্যারযুক্ত বটনেট ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
যেসব ডিভাইস ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে, তা অধিকাংশই চীনের তৈরি। এতে ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড সহজেই অনুমান করা যায়। তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিএনএন।





