২০ বছরেও অনুমোদন পায়নি ইবি ল্যারেটারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ

শনিবার,০৫ নভেম্বর ২০১৬

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

img_5010ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল্যারেটারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার ২০ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন পায়নি। যার ফলে এখানকার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে একটি মোটা অঙ্কের টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত বাজেটের অর্থ থেকে।
এছাড়াও নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে স্কুলটির শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। ক্লাসরুম সঙ্কটে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। নেই সাইন্সল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব এবং লাইব্রেরী। একমাত্র বিদ্যালয় ভবনটির অবস্থাও জরাজীর্ণ।

শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেই পর্যাপ্ত খেলার মাঠ এবং নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। শিক্ষক সঙ্কট তো রয়েছেই। এসব কারণে প্রায় শিক্ষার্থী শূন্য বিদ্যালয়টি।বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে ১৯৯৬ সালে ল্যাবরেটারি স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

৯৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩১ তম সিন্ডিকেটের ৫নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে থানা গেটের পাশে বর্তমানে থানার জন্য ব্যবহৃত টিনের ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম চললেও ২০০৪ সালে ক্যাম্পাসের উত্তর সীমান্তে নির্জন ও শান্ত পরিবেশে একটি স্কুল ভবন তৈরি করা হয়।

কিন্তু তিনতলা ভবনটি তখন সম্পূর্ণ না হওয়ায় ক্লাসরুম সঙ্কটে পড়ে স্কুলটি।দুর্বল অবকাঠামোয় ভবনটি তৈরি হওয়ায় কয়েক বছরের মধ্যেই ছাঁদ ও দেয়াল চুইয়ে বৃষ্টির পানিতে শ্রেনী কক্ষ ও তার আসবাব গুলো নষ্ট হতে বসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় কতৃপক্ষ।স্কুলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিমালা অনুযায়ী এখানের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয় চাকরীবিধির আওতায় থাকার বিধান থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।

এখানকার শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠার ২০ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত চাকরীর আওতাধীন হতে পারেননি। তাদের জন্য ইউজিসি কর্তৃক বছরে ১৫ লাখ টাকা থোক বরাদ্দের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু স্কুলের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এক মাসের বেতন ৬ লাখ ৪০ হাজার ৩২৩ টাকা। দেখা যাচ্ছে ইউজিসি কর্তৃক বরাদ্দকৃত টাকা আড়াই মাসেরও কম সময়ের বেতন পরিশোধ করতে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

বছরের সাড়ে ৯ মাসে ৬২ লাখ টাকাসহ তিনটি বোনাস বাবদ প্রায় ১২লাখ টাকা মোট ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। এতে প্রত্যেক বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট থেকে একটি বড় অঙ্কের টাকা স্কুলকে ঘাটতি দিতে হয়।

এছাড়াও স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা পেনশন বাবদ অথবা কেউ মারা গেলে তাদের জন্য নেই কোনো তহবিলের ব্যবস্থা। এছাড়াও ভবিষ্য তহবিল, অনর্জিত ইনক্রিমেন্ট, ক্যারিয়ার বেনিফিট, আবাসিক সুবিধা, জীবন বীমা, বেনোভোল্টেন্ট ফান্ড সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। কিন্তু নীতিমালা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মতো তাদেরও এসকল ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার কথা ছিল।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক মোল্লাহ বলেন, শিক্ষার গুনগত মান অন্যান্য স্কুলের তুলনায় এখানে অনেক ভালো। কিন্তু শিক্ষক-কর্মকর্তারা তাদের সন্তানকে এ স্কুলে ভর্তি না করিয়ে ঝিনাইদহের ক্যাডেট কলেজসহ কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের নামি-দামী স্কুলে ভর্তি করাচ্ছে।

সে কারণে স্কুলটি শিক্ষার্থী সঙ্কটে রয়েছে। এখানকার অধিকাংশ ছাত্র লোকাল। সেজন্য রেজাল্ট চাইলেও ভালো করা সম্ভব হচ্ছে ন। এছাড়া এখানকার শিক্ষকদের চাকরি আজও নিয়মিত করা হয়নি। মাসের শেষে বেতনের জন্য ফাইল নিয়ে অফিসে অফিসে ধর্ণা দিতে হয়।

স্কুলটির ত্বত্তাবধায়ক অধ্যাপক ড. মেহের আলী বলেন, বিদ্যালয়টির সমস্যা সমাধানে ও উন্নয়নে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিক ভুমিকা পালন করছে। এখানে আমাদের সন্তানেরা পড়াশুনা করে। স্কুলটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পরিণত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া শিক্ষকদের চাকরির অনিশ্চয়তা দূরীকরণে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা ও ইউজিসির সুদৃষ্ঠি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *