শনিবার,১৫ জুলাই ২০১৭
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
জেনিফার আলম : ইফতেখাইরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ কমিশনার, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা জোন যিনি তার পরিচিতদের মাঝে প্রিয়মুখ ইফতি ভাই বলে পরিচিত। কত মানুষের মুখে তিনি হাসি ফুটিয়েছেন। হারানো শিশুকে খুঁজে ফিরিয়ে দিয়েছে তার বাবা- মায়ের বুকে। পথ শিশুদেরদের নিজের বেতনের টাকা দিয়ে কিনে দিয়েছেন ঈদের খুশি। অন্যায়ের প্রতিরোধ ও প্রতিকারে যিনি নিজের পরিবারকেও সময় দিতে পারেন না। যার নিবিড় ও সজাগ সাহচর্যে এলাকবাসী শান্তির নিঃশ্বাস ফেলছে, যে কোন প্রয়োজনে যে কোন সময় যে কারো জন্য যার দরজা সবসময় খোলা, আজকে তার বিরুদ্ধে-মাদক ব্যবসায়ীদের মিথ্যা মামলা দেখতে হয়। হায় সেলুকাস!
বিশ্বস্ত সুত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা যায় বুধবার ঢাকা মহানগর আদালতে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা জোনে দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতেখাইরুল ইসলাম সহ, যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক শহীদুর রহমান , তদন্ত পরিদর্শক তোফায়েল সহ ডেমরা জোনের ১৪ জন পুলিশের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ হাকীম খুরশীদ আলমের আদালতে বুধবার ১২ই জুলাই ২০১৭ তারিখে মামলার আবেদন করেন নাজমা নামে এক নারী। তিনি কোন এক অনলাইন পত্রিকার কথিত সাংবাদিক ফরমান উল্লাহ খান ওরফে নিবিড় ওরফে নীরবের স্ত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। বিজ্ঞ বিচারক বাদীর জবানবন্দী গ্রহন করে পরবর্তী আদেশ দিবেন বলে জানান।
উল্লেক্ষ্য এই ফরমান উল্লাহ খান সেই সাংবাদিক যিনি সাংবাদিকতার পরিচয়ে নানা অনৈতিক কাজ করে বেড়াতো। তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আঁতাত ও তাদের নিকট থেকে অর্থ আদায়, যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন পুলিশ অফিসারকে নিয়ে মিথ্যা নিউজ করার হুমকি সহ মাদক দ্রব্য গ্রহন ও চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই ফরমান উল্লাহ খান মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে চক্রান্ত করে অপরাধীদের স্ত্রী দের নিরীহ ভিক্টিম সাজিয়ে দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে নানা হয়রানী ও অপপ্রচার মূলক প্রতিবেদন লিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এ পাঠাতো।
মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা সৎ অফিসাররাই এতে সামাজিকভাবে হেয় হতেন। হেনস্থার হাত থেকেই বাঁচতে অনেক অফিসার তাই এই ফ্ররমান উল্লাহ খান এর অরাজকতার বিরুদ্ধে নীরব অবস্থান নিতে বাধ্য হন। সেই একই অসৎ কৌশল ব্যবহার করে এবার ফরমান উল্লাহ খান ও তার স্ত্রী নাজমা এবার সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতেখাইরুল ইসলাম ( যাত্রাবাড়ী-ডেমরা জোন ) ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করতে সচেষ্ট হয়েছে ।
অনুসন্ধান করে এই কথিত ফরমান উল্লাহ খান এর বিরুদ্ধে আরও নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় ডেমরা ভাঙ্গাপ্রেস ছাগলের আড়তের সামনে থেকে ৬৫ পিস ইয়াবাসহ ফরমান উল্লাহ খান ওরফে নিরব এবং তার সহযোগী আলী আরমানকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই শহীদ উল্লাহ। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়। মামলা নম্বর-২৩-৭/৮/২০১৭। এরপর গত ১৫ জুন পুনম সিনেমা হলের সামনে থঅরফেফরমানুল্লাহ, নাসির ও বোচার মনির হেরোইন বিক্রি করছে এমন খবর পেয়ে এএসআই লক্ষীকান্ত রায় ফোর্স নিয়ে সেখানে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ফরমানউল্লাহ ও বোচা মনির পালিয়ে গেলেও নাসিরকে ১০৫ পুরিয়া হেরোইনসহ আটক করে পুলিশ। এ ঘটনাতেও একটি মামলা হয়। মামলা নম্বর-৫১-১৫/৬/২০১৭।
এছাড়াও গত ২১ জুন সায়েদাবাদ রেললাইনের পূর্বপাশে আবাসিক হোটেল সানমুনের সামনে ফুটপাতের ওপর ৫০ বোতল ফেনসিডিল, ১০০ পিস নেশা জাতীয় ইনজেকশন এবং ৫০০ পুরিয়া হেরোইনসহ ফ্রমান উল্লাহ খান কে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই কবির হোসেন। এ ঘটনায়ও একটি মামলা হয়। মামলা নম্বর-৭৩-২১/৬/২০১৭।
এই সাংবাদিকের পরিচয়ধারী সন্ত্রাসী ফরমান উল্লাহ খানের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় যদি ইফতেখাইরুল ইসলাম ও তার টিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহন করা হয় তবে সত্যি সমাজ ও তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকীর সম্মুখীন। সততার পুরস্কার যদি সৎ পুলিশ অফিসারদের হয়রানী হয় তবে জাতি আজ সত্যি নিরাপদ নয়।সরকার যেমন জঙ্গি বাদের ব্যপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করেছে তেমনি এইসব মাদক ব্যসায়ীদের বিরুদ্ধেও একই নীতি গ্রহন করবে ইহাই সকলের প্রত্যাশা।




