রোহিঙ্গা গণহত্যা মিশনে অং সান সূচি নিরব কেন?

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৬

img_3146রাশেদুল করিম : বিশ্ব জুড়ে বেশ কিছু দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা ভয়ংকর ভাবে চলছে। ফিলিসতিন, আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিশর এসব দেশের ঘা শুকাতে না শুকাতে নতুন ঘা মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে এখন মায়ানমারে। সোজা কথায় বলতে গেলে এখন সেখানে চলছে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নামক মুসলিম গণহত্যা যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রথম শ্রেণীর খবরের কাগজে প্রকাশ হচ্ছে। যদিও সেখানে কোন বিদেশী গণমাধ্যমের কর্মীকে তারা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না কিংবা দিতে অনিচ্ছুক।

মায়ানমার এখন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বেশ কিছুদিন আগে সেদেশে খুবি আনন্দের জোয়ারে ভেসে জনগণ যাকে তারা গণতন্ত্রের মানসকন্যা হিসেবে ভূষিত করে সেই অং সান সূচির দলকে বিপুল ভোটে জয়ী করে সংসদে যাওয়ার পথ সুগম করে। আর এ গণতন্ত্রের সিমভল হিসেবে অং সান সূচিকে দেখা হয় যার দরুন বিশ্ব নোবেল কমিটি তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করে।

অনেকে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন অং সান সূচির কাছ থেকে নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়া হোক। যে তার নিজের দেশের সংখ্যালঘু রোহিজ্ঞা মুসলিম জনগোষ্টির নিরাপত্তা প্রদান করতে পারে না তার এ পুরস্কার পাবার কোন অধিকার নেই। সূচির দল ক্ষমতা লাভের পরে অনেকের মনে সস্তি এসেছিল এই বলে যে যাক এবার হয়তো রোহিজ্ঞা জনগোষ্টির কোন আশার স্খল হল আর এখন দেখা যাচ্ছে যে লাউ সেই কদু! কি লাভ হল আর কি ক্ষতি হল তা বিশ্ব সচক্ষে দেখতে পাচ্ছে।

এই সেই সূচি যে শুধুমাত্র তার দেশের জনগণের মুক্তির জন্য বছরের পর বছর গৃহবন্ধী হিসেবে ছিল। সামরিক সরকার কখনো চাইনি বা এখনো তারা চাইনা মায়ানমারে গণতন্ত্র ফিরে এসে তাদের ব্যক্তিগত ভাগ বাটোয়ারায় আঘাত করুক। যার দরুন তারা সূচির দল ক্ষমতা লাভ করলেও কিন্তু মূল চাবির রিঙ এখনো সেনাবাহিনীর হাতে। আর এ সেনাবাহিনীর সদস্যরা এতটা গোয়াড় ও এক্সট্রিমিসট মনোভাব যে তারা কখনো তাদের দেশে তাদের মতাদর্শ মানুষ ব্যতিত অন্যদের সহ্য করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

আর এখানে মাস্টার মাইনড হিসেবে দিকনির্দেশনা তাদের ধর্মীয়  গুরু। তারা চাই মায়ানমার একটি বুডডিসট দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে থাকুক। তাদের মতে এখানে অন্য ধর্মের লোকেরা থাকা মানে তাদের জন্য বিষফোড়া। যার দরুন এ কথা শুনতে পাওয়া যায় যে, রোহিজ্ঞারা মায়ানমারের নই তারা বাংলাদেশের নাগরিক। সুতরাং তারা যা করছে সবকিছু পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ঘটাচ্ছে। কারন তারা জানে তাদের ক্ষমতার কাছে সূচির গণতন্ত্রের আদর্শ মূল্যহীন ।

তাই তারা মুসলিম কোন রোহিজ্ঞাকে সরকারী চাকরি প্রদান করে না। তারা কোন মসজিদ সংস্কারে সহায়তা দূরের কথা সেখানে একটি পেরেক পর্যন্ত মারার জন্য গোয়ার বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয় বলে শুনা যায়। তারা চাইনা কোন রোহিজ্ঞা সন্তানেরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হোক,এমনটাই তাদের দাবি। যেমনটি আমরা নিপিড়নের শিকার হয়েছিলাম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে।ঠিক একি রকমের নিপিড়নের শিকার হচ্ছে মায়ানমারের রোহিজ্ঞা জনগোষ্টি। পৃথিবীতে তাঁরাই একমাত্র জাতি যাদের কোন রাষ্ট্রীয় স্মৃকৃতীনেই। পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজার হাজার রোহিজ্ঞারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরাপদ স্থানের আশায় নিজেদের ভিটা মাটি ছেড়ে তারা ছুটে বেড়াচছে দিশেহারা হয়ে দিক হতে দিগন্ত। তাদের একটি মাত্র প্রশ্ন বিশ্ব বিবেকের কাছে কি তাদের অন্যায় আর কেনই বা তারা গণহত্যার শিকার হচ্ছে প্রতি নিয়ত, শুধুমাত্র কি সংখ্যালঘু মুসলিম বলে?

বাংলাদেশ ভৌগোলিক ম্যাপে মায়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি দরুন নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা এখানে ছুটে আসার চেষ্টা করে কিন্তু এ দেশেরও নিজস্ব সমস্যার কারনে মানবিক বোধ থাকলেও সীমান্ত খুলে সবাইকে স্থান দেওয়া সম্ভব নই। ফলে বাংলাদেশের উচিত হবে পাশের ঘরের আগুন নিজের ঘরে লাগার পূর্বে কূটনৈতিক ভাবে বিশ্ব নেতাদের সাথে নিয়ে এ সমস্যা সমাধানের জোর চেস্টা চালান। এই মানবিক বোধকে পুজি করে কোন দুষ্কৃতীকারী যাতে নিজের দেশের সকল ধর্মীয় মানুষের ঐক্যে ফাটল ধরাতে না পারে সে ব্যপারে সচেষ্ট থাকাও খুবি গুরুত্বপূর্ণ ।

পরিশেষে যদি বলি সূচি কেন কুম্ভ ঘুমে আচ্ছন্ন তার উত্তর হয়ত তাকে চাপে রাখা হয়েছে বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে যাতে সে এ ইসু্যতে কোন কথা না বলে। আর এরকম ঘটনা ঘটিয়ে তারা হয়ত দেখাতে চাই যে অং সান সূচির দল একটি ব্যর্থ সরকারী দল যাদের কোন পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজি নেই দেশে শান্তি বিরাজ করানোর। আর এটি করতে পারলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের এ গণহত্যা কে জায়েজ করে নিতে পারে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image