‘ইতিহাসে ও ঐতিহ্যের সাক্ষী- আনোয়ারা উপজেলার ঐতিহাসিক ছুরুত বিবির মসজিদ’
আনোয়ারা প্রতিনিধি । ৩ আগস্ট ২০১৬
রেজাউল করিম সাজ্জাদ: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স পেরিয়ে সামান্য দক্ষিণে গেলেই আমীর মোহাম্মদ চৌধুরীর বিশাল দীঘি, যার স্থানীয় নাম আমীর খাঁ দীঘি। এই দীঘির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ঐতিহাসিক ছুরুত বিবি মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন ছুরুত বিবির দীঘি। ছুরুত বিবি দীঘির পশ্চিমে, আমীর খাঁ দীঘির দক্ষিণে শেখ রাজার ভিটে নামে এক বসত ভিটের পরিচয় পাওয়া যায়।
এই শেখ রাজা সম্পর্কে আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ সংগৃহীত জনশ্রুতিতে জানা যায়, ১৫৭৫ সালে দূর্ভিক্ষ ও মহামারিতে গৌড় রাজ্য ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলে গৌড় রাজ্যের সেনাপতি শেখ মোহাম্মদ আদম গৌড়ী গৌড়রাজ্য ত্যাগ করে দেয়াঙ রাজ্যের অন্তর্গত শোলকাটা গ্রামে সপরিবারে বসতি স্হাপন করেন।
তাঁর বংশ লতিফা নিন্মরুপ :
শেখ আদম গৌড়ী —- শেখ মুহাম্মদ ইব্রাহীম—– মাগন মুন্দার ——– শেখ আমির মুহাম্মদ চৌধুরী —— শেখ বালা গাজী চৌধুরী ——শেখ দৌলত গাজী চৌধুরী।
রাখাইন মগ রাজত্বের সময় মাগন মুন্দার একজন বড় জমিদার ছিলেন। ১০৫১ মঘী সনের এক “একরারনামা ” মূলে জানা যায় আমীর মুহাম্মদ চৌধুরীর উপর জমিদারির ভার ছিল। এই আমীর মুহাম্মদ চৌধুরী ই আরাকান রাজসভার কবি আলাওল এর কন্যা ছুরুতবিবি বা শুক্কুর বিবিকে বিয়ে করেন। তাঁর নামেই এ ছুরুত বিবি মসজিদ নির্মাণ করেন। সঠিক দিন সাল জানা না গেলে ও মোগল আমলে চট্টগ্রামের নবাব অলিবেগ খাঁ ‘র শাসনামলে (১৭১৩-১৭১৮) এ মসজিদ নির্মিত হয়েছিল বলে অনুমান করা যায়। (চলবে)
তথ্যসূত্র:
#১. চট্টগ্রামের ইতিহাস: ওহীদুল আলম।
#২.চট্টগ্রামের ইতিহাস প্রসঙ্গ : আবদুল হক চৌধুরী।
#৩.চট্টগ্রামের নবাবী আমল : মাহাবুব-উল – আলম
#৪.পদ্মাবতী : সম্পাদনায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।
#৫. আহাদিসুল খাওয়ানিন : হামিদুল্লাহ খানঁ।
#৬.আরাকান রাজসভায় বাংলাসাহিত্য : ড.এনামুল হক ও সাহিত্যবিশারদ।
#৭.দেয়াঙ পরগণার ইতিহাস : আদিকাল, জামাল উদ্দীন।










