একজন অনন্য অসাধারন মানুষের গল্প

 

জেনিফার আলম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০১৬

cb24_20160422_150652

নিজস্ব প্রতিবেদক : একটি ছোট্ট ঘটনা দিয়ে শুরু করছি। একজন তরুন এর ব্যাংক একাউন্টে তার বেতন জমা হয়েছে। অফিসের কাজ শেষে করতে করতে সন্ধ্যার পর রাস্তায় নেমে সে দেখলো দুটি ছিন্নমূল শিশু ভাত খাবার জন্য টাকা চেয়ে চেয়ে ভিক্ষা করছে। তরুন সেই বাচ্চা দুটিকে ভালো কিছু খাওয়ালেন এবং পড়ার জন্য জামা জুতা কিনে দিলেন। বাচ্চাদের হাসিমুখ দেখে নিজের বাসার রাস্তা ধরলেন। ব্যাপারটা একদিনের তা নয় ,আমাদের এই তরুনের নেশাই এটা।

প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে পাশ করে ভালো বেতনের চাকরি করা কর্পোরেট তরুনরা হয়তো মাসের বেতনটা হাতে পেয়ে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে কোথাও ভালো কিছু খেতে বা মাসের প্রথমে সেলিব্রেট করতে যায় তখন আমাদের এই মনের দিক থেকে আলোকিত তরুনটি মাসের বেতন পাবার সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় তার এই পথ শিশুদের মাঝে হাসি ফুটানো অভিযান।

এই তরুন মানুষটির নাম আতিক বিন রহিম। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশান করা এই তরুন কাজ করছেন সুপার স্টার গ্রুপে। ভার্সিটিতে প্রচন্ড জনপ্রিয় ছিলেন তার বিজনেস ক্লাব কেন্দ্রিক কাজের জন্য। কিন্তু আমাদের আজকের বিষয় এই তরুনের ক্যারিয়ার বা সাংগঠনিক দক্ষতা নয় , তার ভীতরে লুকিয়ে থাকা একজন আলোকিত অনন্য অসাধারন মানুষের.

আমরা এই তরুনের দেখা পাই যখন পুরো শহর বাংলা নতুন বছরের জন্য প্রস্তুতি নিতে ব্যাস্ত, কোন পাঞ্জাবি কোন জুতা বা পরিবারের জন্য শপিং করতে ব্যাস্ত, আতিক তখন রাস্তার ছিন্নমূল শিশু এবং শারিরীক প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য পোশাক, খাবার এবং প্রয়োজনীয় বই খাতা কিনতে ব্যাস্ত।

প্রচন্ড কাজের চাপে এই বছরও নিজের জন্য কিছু কেনা হয়নি, কিন্তু ভুল হয়নি এই সকল সুবিধাবঞ্ছিত মানুষদের মুখে হাসি ফুটাতে।আর আমরা তাকে খুজে পেয়েছি যখন তিনি এগুলো সবাইকে বিলিয়ে দিচ্ছিলেন। কথা বলতে চাইলে বলেন, আমার ভালো লাগে এই হাসিমুখ দেখতে। এরা তো আমার সমাজের অংশ, আমরা সবাই যদি এভাবে হাত গুটিয়ে না রেখে একটু একটু সাহায্য করি তাহলে এই মানুষগুলো কিছুটা হলেও ভালো থাকবে।

আতিক আশা করেন এই সমাজের আমরা যারা মোটামুটি ভালো আছি তারা অন্তত মাসে একজন হলেও যেন এই সব পথশিশু আর অসহায় মানুষগুলোকে ভালো রাখতে চেষ্টা করি। অল্প একটু খাবার, একটা পোশাক বা প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে সবাই যদি প্রত্যেকে একজন মানুষকেও সাহায্য করেন তবে এরা ভালো থাকবে।

IMG_20160422_150600

এই সপ্নবাজ তরুন অন্য কারও আশায় বসে না থেকে নিজেই নেমে পরেছেন। আর চেষ্টা করছেন সাধ্যমত হাসিমুখের সংখ্যা বাড়াতে। প্রত্যেকটা মানুষ আলোকিত হোক আতিকের মত আলোয়। আমাদের টিমের পক্ষ থেকে আতিকের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।

আপনার মতামত দিন....

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.