নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
বুধবার, ২ নভেম্বর ২০১৬
কক্সবাজার-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হওয়ার পরও কারাগারে ডিভিশনের কোনও সুবিধা নিতে পারবেন না আব্দুর রহমান বদি। তাকে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গেই থাকতে হবে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বদি কারাগারে পৌঁছেন। তবে তিনি এমপি হলেও ডিভিশন পাবেন না।’
কারণ, তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। সাজা পাওয়ার আগে পর্যন্ত আসামিকে কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে ডিভিশন দেওয়া হয়। যেখানে তিনি বাড়তি কিছু সুবিধা উপভোগ করতে পারেন এবং সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে থাকতে হয় না।
এর আগে বেলা ১১ টার কিছু পরে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও দশ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার সময় এমপি বদি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আজ বুধবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার পর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের আদালত এমপি বদির বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার রায়ে এ সাজা দেন।
পরবর্তীতে আপিলের মাধ্যমে জামিন আবেদন করা যাবে উল্লেখ করে তার আইনজীবীরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পেলে দ্রুতই আপিল করবেন তারা।
রায় ঘোষণার সময় এমপি বদি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বদির পক্ষের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান লিখন রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ন্যয় বিচার পাইনি। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে আপিল করব।’
এর আগে বেলা ১০টার কিছু পরে এমপি বদি আদালতে প্রাঙ্গনে উপস্থিত হন। এসময় তাকে বিচলিত মনে হয়নি। তিনি এর আগে সাংবাদিকদের সামনে একাধিকবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, ‘তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের যে অভিযোগ, তা সত্য নয়।’
২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর বদিকে কিছুদিন কারাগারে কাটাতে হয়েছিল। তখন তিনি নিয়মানুয়ায়ী ডিভিশন পেয়েছিলেন। পরে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ছাড়া পান।
গত বছরের ৭ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মঞ্জিল মোর্শেদ ঢাকার সিএমএম আদালতে আওয়ামী লীগ এমপি বদির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বদির ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯৪২ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়।
রায় ঘোষণার আগে চার্জশিটের ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।
২০১৪ সালের ২১ আগস্ট এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক আবদুস সোবহান।
২০০৮ ও ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে সম্পদের তথ্য গোপনপূর্বক মিথ্যা তথ্য প্রদান ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আব্দুর রহমান বদি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যমানের সম্পদ গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।
এছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখানোর জন্য কম মূল্যের সম্পদ ক্রয় দেখিয়ে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি দেখানোর অভিযোগে এ মামলা হয়।
অভিযুক্তের সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, এনবিআর, বিআরটিএ, রাজউক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, রিহ্যাব, ব্যাংক-বিমাসহ অন্যান্য অফিসে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে সম্পদের হিসাব বের করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের নিজ নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।





