‘গণমাধ্যম আইনের সীমা অতিক্রম করতে পারে না’

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

High Court

নিউজ ডেস্ক : দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, দেশের কোনো নাগরিক যদি আইনের সীমা ছাড়াতে না পারে, তবে গণমাধ্যমও আইনের সীমা অতিক্রম করতে পারে না।

বুধবার সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে মোট ১৮২ পৃষ্টার পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশিত হয়।

রায়ে আদালত বলেন, গণমাধ্যম কর্মীদের আইনের মধ্যে থাকতে হবে। সাধারণ নাগরিক থেকে রিপোর্টার, কলামিস্ট, মুদ্রাকর ও প্রকাশক বিশেষ কোনো সুবিধা পেতে পারে না। গণমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হবে আদালত অবমাননা বিষয়ক আইনে আরোপিত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত আরো বলেন, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগ প্রকৃতিগতভাবেই পরস্পরের মিত্র।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত সংবাদ মাধ্যমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ওয়াটারগেট, বোফর্স কেলঙ্কারির মতো দুর্নীতি, গৃহায়ন, পরিবেশ বা অন্যান্য দুর্নীতি, অনিয়ম সংক্রান্ত সরকারের গোপনীয় বিষয় নিয়ে যেভাবেই হোক না কেন গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন করেছে। আর আদালত ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করেছে।

আদালত বলেন, বিচার প্রশাসন, পরিবেশ বিপর্যয় রোধ, দুষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও ফতোবাজির মতো অপরাধ বিষয়ক বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করে গণমাধ্যম যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা অগ্রাহ্য বা অস্বীকারকরা যায় না। আর আদালত গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব সংবাদ আমলে নিয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে। যা থেকে নাগরিকরা উপকৃত হয়েছে।

আদালত রায়ে বলেন, কয়েকটি মামলায় গণমাধ্যমকে সুরক্ষা দিয়েছে আদালত। প্রত্যেকেরই মনে রাখা উচিত গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগ প্রকৃতিগতভাবেই মিত্র।

জণকণ্ঠের প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ লেখককে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে রায়ে বলা হয়েছে, আদালতের যতটুকু ক্ষমতা ছিল তার চেয়ে অনেক কম সাজা দেওয়া হয়েছে। এটাকে যদি কেউ বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা হিসেবে মনে করে তবে সে ভুল করবে।

আদালত রায়ে আরও বলেন, একজন রিপোর্টার বা কলামিস্টকে মনে রাখা উচিত একজন সাধারণ নাগরিক গণমাধ্যম বা সংবাদপত্র বা তার কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে লড়াই করতে পারে। কিন্তু একজন বিচারক তার অবস্থানগত কারণে এ ধরণের বিতর্কে যেতে পারে না। বিচারক কখনো একটি সংবাদের প্রতিবাদ করতে পারেন না।

প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ গত ১৩ আগস্ট জনকণ্ঠ সম্পাদক-প্রকাশক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ এবং কলাম লেখক নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে জারি করা রুলের উপর শুনানি শেষে রায় দেন।

ওই আদালতে অপর পাঁচ বিচারপতি ছিলেন-বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কলাম লেখার কারণে আদালত অবমাননার দায়ে দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সাজার অংশ হিসেবে তাদের ওইদিন (১৩ আগস্ট) আপিল বিভাগের বিচার কার্যক্রম চলার সময় পর্যন্ত (বেলা সোয়া একটা) দণ্ড হিসেবে আদালত কক্ষে অবস্থান করতে হয়। এছাড়া তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.