২০ জুন, সোমবার ২০১৬

রবিবার চট্টগ্রাম কলেজে সংঘর্ষ চলাকালে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী জাফর উল্লাহ্র নেতৃত্বে পিস্তল হাতে সন্ত্রাসীরা গুলি করছে। ইনসেটে পিস্তল হাতে সন্ত্রাসী দেলোয়ার।
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : নগর ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে নেই চট্টগ্রাম কলেজ। বহিরাগত সন্ত্রাসীরাই নিয়ন্ত্রণ করছে নগরের ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ঢেকে নিয়ে দফায় দফায় সংঘাতে জড়াচ্ছে। শনিবার সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতে গতকাল রবিবার ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে চট্টগ্রাম কলেজে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, র্যাবের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা গাজী জাফর উল্লাহ আর সিআরবির জোড়া খুনের মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। রবিবারও দুপক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন আহত হয়। আগের দিন শনিবার আহত হয়েছিল তিনজন।
শনিবার ও রবিবার সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ত্রাসী গাজী জাফরকে প্রধান আসামি করে চকবাজার থানায় দুইটি মামলা দায়ের করেছে চট্টগ্রাম কলেজ শাখার দুই ছাত্রলীগ কর্মী।
রবিবার চট্টগ্রাম কলেজের বাইরে সংঘর্ষ চলাকালে গাজী জাফর উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশ্যে পিস্তল নিয়ে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। তবে সাইফুল ইসলাম লিমন উপস্থিত ছিলেন না।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তিনভাগে বিভক্ত। যার মধ্যে একটি পক্ষ হলো নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী, আরেক পক্ষ হলো সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী এবং তৃতীয় পক্ষ হলো প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বি.এসসি অনুসারী। মন্ত্রী গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন চকবাজার এলাকার স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনু। গত দুদিন সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মেয়র নাছিরের অনুসারীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, র্যাবের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা গাজী জাফর উল্লাহ আর সিআরবির জোড়া খুনের মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমন চট্টগ্রাম কলেজে দীর্ঘদিন ধরে পরোক্ষভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। গাজী জাফর যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে পরিচিত।
অপরদিকে সাইফুল আলম লিমন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
এ দুই নেতার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরপর দুদিন সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে। দুই নেতা বহিরাগত লোকজন নিয়ে গিয়ে সংঘাত বাধিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহম্মেদ জানান, ‘ছাত্রলীগের দু পক্ষ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বহিরাগত লোকজন এনে একে অপরের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে।’ যুবলীগ নেতা গাজী জাফর উল্লাহ প্রায় সময় চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন জানিয়ে ওসি বলেন, ‘আমি শুনেছি, গতকাল সংঘর্ষের সময় সে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।’
এব্যাপারে সাধারণ ছাত্ররা জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রাণনাশের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে গিয়ে এসব সন্ত্রাসীদের দমন করা জরুরী।




