জমে উঠতে শুরু করেছে সাগরিকা গরু বাজার

মঙ্গলবার,০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

imageমাহমুদুল হাসান রাকিব,চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানাস্থ ঢাকা-চট্টগ্রাম বাইপাস রোড় সংলগ্ন অবস্থিত চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় হাট সাগরিকা গরু বাজার।সামনে কোরবানির ঈদ আর মাত্র বাকি আট দিন।এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে সাগরিকা গরু বাজার সহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন পশুর হাটগুলো।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সাগরিকা গরুর সহ চট্টগ্রামের কোরবানি পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। সাগরিকা বাজার সহ বিভিন্ন হাটগুলোতে প্রচুর দেশি গরু এসেছে। অন্য বছরের তুলনায় চোরাইপথে ভারতীয় গরুর আসছে কম। ফলে দেশীয় খামারিরা এবার লাভের আশা করছেন। এরই মধ্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকাররা হাটগুলোতে ভিড় করছেন। যদিও এখন পর্যন্ত স্থানীয়দের মধ্যে গরু কেনাবেচায় আগ্রহ দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম বেশি বলে মনে করছেন ক্রেতারা। তবে বিক্রেতাদের মধ্যে দাম নিয়ে হতাশার কথা শোনা গেছে।

সাগরিকা গরু বাজারের ইজারাদার আকবর মামার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ঈদের সময় চোরাইপথে ব্যাপকসংখ্যায় ভারতীয় গরু এসেছিল। কিন্তু এ বছর সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার হয়ে আসছে কম।

গরু বেপারি রফিকুল ইসলাম বলেন গরু পাচার বন্ধ হলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন। এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় ভারতীয় বড় আকারের গরু নাই বললেই চলে। কোথাও কোথাও ছোট আকারের ভারতীয় গরু দেখা গেছে। মূলত ছোট গরু ৩০-৪০ হাজার টাকা এবং বড় গরু ৭০-৮৫ হাজার টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

সাগরিকা হাটে আসা কুষ্টিয়ার গরু ব্যবসায়ী রফিক বলেন, ‘পাঁচ-ছয় দিন অপেক্ষা করেও চাহিদা অনুযায়ী গরু পাচ্ছি না। তার ওপর দামও চড়া।’

ফরিদপুরের মোখলেস মামা বলেন, ‘কোরবানির উপযোগী গরু ভারত থেকে আসছে না। ছোট ছোট বাছুর গরু পাওয়া গেলেও তা কিনতে পারছি না।

তবে সীমান্তবর্তী হাটসহ জেলার পশুর হাটগুলোতে এরই মধ্যে উঠতে শুরু করেছে বিপুলসংখ্যক দেশি গরু। তবে সে তুলনায় ক্রেতা নেই। বন্যায় পশুখাদ্য নষ্ট হওয়ায় পশু পালনের ব্যয় গেছে বেড়ে। অনেকেই বিক্রির জন্য গরু আনছে হাটে। তবে ক্রেতাদের করা দরে তাদের পোষাচ্ছে না বলে জানায় তারা।সিরাজগঞ্জ থেকে আসা গরু বিক্রেতা ফারুক জানান, বন্যার সময় গরু নিয়ে অনেক বিপদে পড়েছিলেন। অনৈক কষ্টে সময়টা পার করেছেন। ভেবেছেন ঈদের সময় ভালো দাম মিলবে। কিন্তু হাটে ক্রেতা নেই।

সাগরিকা হাটের ইজারাদার আকবর মামা জানিয়েছেন, ভারতীয় গরুর আমদানি কম হওয়ায় হাটে পাইকারদের আনাগোনা কম। আর এতেই কমে গেছে বেচাকেনা।‘হাটে দেশি গরু অনেক উঠলেও ক্রেতার অভাবে বেচাকেনা অনেক কম। হাট ইজারার টাকা উঠবে কি না তা নিয়ে চিন্তিত আছি। আকবর মামাকে প্রশাসন কিভাবে সাহায্য করছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন,”পাহাড়তলী থানার পুলিশ ভাইরা আমাকে অনেক সাহায্য করতেছে।আমি সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে প্রশাসনকে জানাতে চাই বিশেষ করে রাতে যাতে কোন পুলিশ উপস্থিতি বাড়ান হয়। আমি জনগন যাতে সুন্দর ভাবে পশু ক্রয় করতে পারে সেই ব্যবস্থা আমি করেছি,সাথে বৈরি আবাহাওয়ার জন্য সমস্ত গরু বাজারে তেরপালের ব্যবস্থা করেছি। এমনকি জাল নোট সনাক্ত করার জন্য বসানো হয়ছে স্পেশাল সার্ভিস সেন্টার। আমি আশা করি আগামীকাল থেকে গরু বেচা-কেনার মাধ্যমে সাগরিকা বাজার জমে উঠবে”।

আপনার মতামত দিন....

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.