ধর্ষক গুরু রামক রহিমের গোপন ডেরায় গর্ভনিরোধক বড়ির ভাণ্ডার!

বৃহস্পতিবার,৩১ আগস্ট

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

ভারতের ধর্ষক গুরু রামক রহিমের গোপন ডেরায় বিপুল পরিমাণ কন্ডম আর গর্ভনিরোধক বড়ির ভাণ্ডার পাওয়া গেছে। প্রতিদিন রাত ১০টায় অল্পবয়সি শয্যাসঙ্গিনী চেয়ে গোপন ডেরা থেকে ফোন যেত প্রধান সাধ্বীর কাছে। সিবিআইয়ের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি এম নারায়েণন এসব তথ্য জানান।

ডেরা সচ্চা সৌদার প্রধান ধর্ষক গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে চলা দুই ধর্ষণ মামলায় তিনিই ছিলেন প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা৷ আর তাই সামাজিক কার্যকলাপের আড়ালে কীভাবে চলত রাম রহিমের স্বেচ্ছাচার, তার অনেকটারই সন্ধান পেয়েছিলেন নারায়ণন।

সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাত্‍কারে ধর্ষক গুরুর এসব অপকর্মের কিয়দংশ ফাঁস করেন তিনি। আর এই সংবাদমাধ্যমকে তোপ দেগে ডেরা পরিচালিত সংবাদপত্র ‘সচ কহু’ দাবি করেছে, রাম রহিমকে কলুষিত করতেই এ সব চক্রান্ত। তার মতো বিবেকবান মানুষ হয় না।

নারায়ণনের কথায়, ‘রাম রহিমের ঘরে কন্ডম আর গর্ভনিরোধকের বিপুল ভাণ্ডার ছিল। ও মানসিক রোগগ্রস্ত, জন্তু ছাড়া আর কিচ্ছু নয়।’

১৯৯৯ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে দুই শতাধিক মহিলা ভক্ত ডেরা ছেড়ে চলে গেছেন, অধিকাংশই রাম রহিমের যৌন নিগ্রহের কারণে। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১০ জনের সন্ধান পেয়েছেন সিবিআই কর্মকর্তারা। আর মাত্র দু’জনকে রাজি করিয়ে আম্বালার আদালতে চার্জশিট দাখিল করাতে পেরেছেন।

নারায়ণনের মতে, নিজের ‘গুফা’য় (গোপন ডেরা) মধ্যযুগীয় সুলতানদের মতো জীবন কাটাতেন রাম রহিম। সেই ডেরা শুধুই সাধ্বী পরিবৃত। তাতেও মন ভরত না গুরুজির। প্রতিদিন রাত দশটার দিকে ফোন যেত ডেরার প্রধান সাধ্বীর কাছে। অল্পবয়সি মেয়ে পাঠানোর আব্দার জানাতেন ধর্ষক গুরুজি। ধর্ষণ মামলায় গুরমিতের জেল হওয়ার পর তার ডেরা থেকে ১৮ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারাও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কি না, জানতে ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

যেসব সাধ্বীরা জানতেন, বাবাজি কী করতে পারেন, তারা নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করতেন, ‘বাবা কি মাফি’ এবার কার ভাগ্যে? অর্থাত্‍ এই ধর্ষণের কথা বহু লোকই জানতেন, কিন্তু তা নিয়ে মুখ বন্ধ ছিল।

এ সব করেও এত দিন কীভাবে আইনের হাত এড়ালেন গুরমিত?

এর নেপথ্যে রয়েছে বাবাজির অন্য অঙ্ক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। আর তাতেই বাজিমাত। স্বল্পশিক্ষিত, দরিদ্র এই মানুষগুলোর মধ্যে রাম রহিমের বিপুল গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। আর এই মানুষগুলোই রাজনৈতিক দলের ভোটব্যাঙ্ক। ফলে রাজনৈতিক নেতারাও রাম রহিমের যত অনৈতিক কাজ, সব চাপা দিয়ে তার সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।

একমাত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-ই ছিলেন এই তালিকার ব্যতিক্রম৷ তার কথাও উল্লেখ করেছেন নারায়ণন। তার বক্তব্য, ‘বিচারকের সামনে দুই সাধ্বী যা বিবৃতি দিয়েছেন, তা পড়ে সিবিআইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তত্‍কালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। আমাদের বলেছিলেন আইনের পথে চলতে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সংসদ সদস্যদের চাপের মুখেও নতি স্বীকার করেননি মনমোহন।’

ধর্ষণ মামলা ছাড়াও ডেরার সাবেক ম্যানেজার রঞ্জিত সিং এবং সাংবাদিক চান্দের ছত্রপতির খুনের মামলা ঝুলছে গুরমিতের বিরুদ্ধে। রঞ্জিতের বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে ২০০২ সালে যে চিঠি লিখেছিলেন, তা সংবাদপত্রে ছেপে দিয়েছিলেন ছত্রপতি। তার পরই দুই খুন। এই দু’টি খুনের চূড়ান্ত শুনানি আগামী মাসেই। সেদিকেই তাকিয়ে গুরুজির ভক্তরা।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image