‘প্রকৃত বন্ধু’ কে চেনার সাত উপায়

সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম

মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬

friends

আমাদের জীবনে এমন কিছু সম্পর্ক রয়েছে যা প্রাকৃতিক। যা এমনিতেই হয়। কখনও কখনও এই সম্পর্কগুলো কান্না ঝরায়, কখনও কখনও হাসি আবার কখনও কখনও জীবনকে সুন্দর করতে শেখায়। আর এই সব সম্পর্কগুলোই “বন্ধু” শব্দটির মধ্যে আবর্তিত।

‘বন্ধু’ এমন একটি সম্পর্ক যা নির্বাচন করে হয় না। যাকে মন থেকে পছন্দ হয় সেই হয় এক জন আরেকজনের পরম বন্ধু। আর শিশু বয়সে বন্ধুত্বের আবেগ, অনুভুতি এবং এর প্রগারতা অনেক বেশী। এই বয়সে বন্ধু ছাড়াও চলা বড়ই দায়। কিন্তু যদিও বন্ধু নির্বাচন করে হয় না তারপরও এর প্রভাব কিন্তু নির্বাচিত।

‘একজন বন্ধুর প্রভাবে একজন মানুষ নিজেকে তার প্রতিচ্ছবি হিসাবেও দেখতে পছন্দ করে। হাজারো উদাহরন রয়েছে এমন যে বন্ধুর জন্য নিজের জীবনকেও বাজি রাখতে দ্বিধা করেনা মানুষ। নিজের প্রেম, ভালোবাসা বন্ধুকে উৎসর্গ করে দেয় নির্দিধায়।’

তবে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একজন আরেকজনকে চেনা। আসলে সে প্রকৃত বন্ধু কিনা এটা যাচাই করা সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু সমস্যাটা হয় এখানেই। আসল বন্ধু কে এটা নির্ণয় করতে বেশ ঝামেলায়ই পড়তে হয়।

তাই আপনার ‘প্রকৃত বন্ধুকে’ জানতে সাত উপায় নিয়ে থাকছে আজকের সিটিজিবার্তা২৪ডটকম- এর লাইফস্টাইলের আয়োজনে।

বিশ্বাস: সবশেষে বিশ্বাস অতি জরুরি। বলা হয়ে থাকে যেকোনো ভালো সম্পর্ক গড়ে বিশ্বাসে মুড়িয়ে। বিশ্বাস হলো বন্ধুত্বের প্রথম শর্ত। তাই সব মিলিয়ে বিশ্বাস না থাকলে অন্য সব শর্ত, সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়ে। বন্ধু নির্বাচন করতে গেলে এটি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

আশ্বস্ত: কখনো কোনো ব্যাপারে আপনি যদি দ্বিধায় পড়েন তাহলে আপনি সেটা আপনার বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করার পর আশ্বস্ত হচ্ছেন কিনা। যদি মনের ভেতর থেকেই আশ্বস্ত হন তাহলে বুঝবেন স্বাভাবিকভাবেই আপনি তার ওপর দুর্বল এবং এই দুর্বলতা এমনিতেই তৈরি হয়নি, সে অবশ্যই আপনার প্রকৃত বন্ধু। কারণ প্রকৃত বন্ধুর কাছেই নিজের সমস্যার কথা বলে আশ্বস্ত হওয়া যায়।

মানসিকতা: বন্ধুত্ব মূলত মানসিকতার মিলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। দুজনের মানসিকতার মিল না থাকলে সে প্রকৃত বন্ধু হবার ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। তবে বন্ধুত্ব করার আগে তার মানসিকতা কোন পর্যায়ের সেটা যাচেই করে নেয়া উচিত।

প্রয়োজনীয়তা: সব কিছুতেই আপনার বন্ধুটি আপনাকে প্রয়োজন মনে করছে কিনা। কিংবা কোথাও আপনার প্রয়োজন না থাকলেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছে কিনা। প্রকৃত বন্ধুই আপনাকে আপন মনে অবলীলায় সব কিছু বলবেই। তাই এটা প্রকৃত বন্ধু চেনার অন্যতম উপায়।

মতামত: কোনো কিছুতেই দুজনার মতামত কেমন। সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে কিনা এটা দেখা আবশ্যিক। যদি দুজনার মতামত একই হয় তাহলে সেটি ভালো লক্ষণ। কারণ প্রকৃত বন্ধুর সঙ্গে মতের মিল হয়। তাই বন্ধুত্ব তৈরি করার প্রথমদিকেও এই বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

উদারতা: আপনার বন্ধুটি অন্য সবার কাছে যেমনই হোক না কেন সে আপনার জন্য উদার কিনা সেটা লক্ষণীয়। ভালো বন্ধু হতে গেলে কখনো কোনো বিষয়ে কৃপণ হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। বন্ধুর প্রতি উদার না হলে তাকে প্রকৃত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা কষ্টকর। কারণ এতে বন্ধুত্বের ভেতর খাদের সৃষ্টি হয়।

ক্রটি: প্রত্যেক মানুষের কিছু না কিছু ক্রটি থাকেই। কেউই ভুলের উর্ধ্বে নয়। তবে প্রকৃত বন্ধু হতে গেলে অপরজনের ক্রটি মেনে নিতে হবে। তবে সবথেকে ভালো হয় আপনার বন্ধুটি আপনাকে যদি আপনার ক্রটির বিষয়ে সচেতন যদি করিয়ে দেয় কিনা। প্রকৃত ভালো মানুষ আরেকজনের ভালো চায়।

আপনার মতামত দিন....

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.