রোকেয়া রহমান । ১৪ অক্টোবর ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম : বদরুল আলমের ছবি মুড়িয়ে তৈরি করা হয়েছিল প্রতীকী ডাস্টবিন দুটি। ডাস্টবিন দুটিতে লেখা ছিল ‘আমাকে ব্যবহার করুন’, ‘থুথু ফেলুন’। সেখানে থুতু ফেলে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেছেন পথচারী থেকে শুরু করে সবাই। ১১ অক্টোবর সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালিত হয়।
পাঠক, বদরুল আলমকে নিশ্চয়ই চিনতে পেরেছেন। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগমের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছিলেন এই বদরুল। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা।
এই হামলার ঘটনার পর থেকে বদরুলের শাস্তির দাবিতে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়। এসব কর্মসূচি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। দেশে নেতিবাচক কোনো ঘটনার পর এ ধরনের কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এসব কর্মসুচি কি সত্যিই কোনো কাজে আসে?
খাদিজার খুনি বদরুলকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের কাছে তিনি স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। কিন্তু সত্যিই কি তাঁকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হবে? সন্দেহ থেকেই যায়। কারণ, অতীতে অনেকে খুন করে পার পেয়ে গেছেন। কিছুই হয়নি তাঁদের।
গত মার্চ মাসে নৃশংসভাবে খুন হন কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। হত্যার আগে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের পরও মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচিতে তনুর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। কিন্তু শাস্তি দূরের কথা, আজ পর্যন্ত তনুর হত্যাকারীরা ধরাই পড়েনি।
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আকতার রিসার হত্যাকারী ওবায়দুল অবশ্য ধরা পড়েছেন। তাকে পুলিশ ছয় দিনের রিমান্ডেও নিয়েছে। এরপর আর কিছু জানা যায়নি।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার নবগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী নিতু মণ্ডলের হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে হত্যাকারী মিলন মণ্ডল। এরপর আর কিছু জানি না আমরা। কিন্তু আমরা তো জানতে চাই। আমরা অন্তরের অন্তস্থল থেকে চাই এসব হামলাকারী ও হত্যাকারীদের ফাঁসি হোক। এই দেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হোক। জনগণকে এমন বার্তা দেওয়া হোক, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।
খাদিজার ওপর হামলাকারী বদরুল আলমের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানিয়েছেন রিসার মা তানিয়া হোসেন। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজাকে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি।
সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যদি রিসা হত্যাকারীর বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হতো, তাহলে খাদিজার আজ এই অবস্থা হতো না।’
চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী অনেক হত্যাকাণ্ডে মামলা হলেও তদন্তের দীর্ঘসূত্রতার কারণে পুলিশ অভিযোগপত্রই দিতে পারেনি। বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোনো গতি নেই। এই সুযোগে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। জামিন নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে অনেকে।
আমরা চাই এ পরিস্থিতির অবসান হোক। অপরাধীরা দ্রুত তাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করুক। এমন শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে সত্যিকার অর্থেই দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। আর কেউ যেন সাহস না করে অপরাধ করার।
রোকেয়া রহমান: সাংবাদিক





