‘বিনোদন পার্ক ও খেলার মাঠ’ সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ, ‘অপরাধী-দখলদারদের’ স্বর্গ রাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক , সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৬

'বিনোদন পার্ক ও খেলার মাঠ' সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ, 'অপরাধী-দখলদারদের' স্বর্গ রাজ্য

ক্ষমতাসীনদের তালুবদ্ধ রাজধানীর বেশির ভাগ ‘বিনোদন পার্ক ও খেলার মাঠ’। সাধারণ মানুষের ‘বিনোদন, বেড়ানো বা অবসর কাটানোর জন্য পার্কগুলো করা হলেও এতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার পর্যন্ত নেই’। কোনো পার্কে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। কোনো কোনোটিতে রিকশার গ্যারেজ বা গাড়ির স্ট্যান্ড। আআবার কোন পার্কে চলে প্রেমিক-প্রেমিকাদের যৌন লীলাখেলা

সাধারণ মানুষের প্রবেশ ঠেকাতে মূল গেটে তালা থাকলেও ভেতরে মাদকসেবী আর ভবঘুরেদের ভিড় ঠিকই থাকে।

পার্কে উন্নয়নের নামে করে চলেছে বাণিজ্য আর বেড়ে যাচ্ছে অপরাধ। এতে অনেকটাই উদাসীন দেশের কর্তাব্যক্তিরা। তাঁদের আধিপত্য এতটাই বিস্তৃত, যেন তাঁরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

sex-in-park

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট) ও হেলথব্রিজের উদ্যোগে ‘ঢাকার পার্ক ও খেলার মাঠ’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্য এবং আলোচকদের বক্তব্যে ঢাকার অধিকাংশ মাঠের এমন চিত্রের কথাই উঠে আসে।

লিখিত প্রবন্ধে বলা হয়, রাজধানীর খেলার মাঠ ও পার্কগুলোতে বিনোদন, অবসর-ভ্রমণ, প্রাতরাশের পরিবর্তের সেখানে চলে বাণিজ্যিক কাজকর্ম ও অপরাধ। জনসাধারণের যাওয়ার ব্যবস্থা আছে এমন ১২টি পার্ক ও খেলার মাঠের ওপর চার ধরনের জরিপ করা হয়েছে বলে প্রবন্ধে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মাঠগুলোতে কোনো পরিচর্যা নেই, নেই সুষ্ঠু তদারকিও।

অপরিষ্কার ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে মাঠের ব্যবহারের কারণে অনেকেই যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। মাঠে ঢোকার গেট ও রাস্তা নেই, স্বাস্থ্যকর টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা নেই, প্রতিদ্বন্দ্বী ও শারীরিক অক্ষমদের জন্য সুব্যবস্থার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো বালাই নেই।

'বিনোদন পার্ক ও খেলার মাঠ' সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ, 'অপরাধী-দখলদারদের' স্বর্গ রাজ্য

বিভিন্ন মাঠের ভেতর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রাখা আছে, কিছু মাঠকে ব্যবহার করা হচ্ছে রিকশা, গাড়ির গ্যারেজ কিংবা ডাস্টবিন হিসেবে। দখলদার আর অপরাধীদের কাছে পার্ক ও খেলার মাঠগুলো হয়ে উঠেছে স্বর্গরাজ্য।

আলোচনা সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারেক বিন ইউসুফ বলেন, তাঁরা ঢাকা উত্তরে বর্তমানে ২৮টি খেলার মাঠ নিয়ে কাজ করছেন। এসব পার্ক জনসাধারণের বিনোদনের জন্য কীভাবে আরও ভালোভাবে তৈরি করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি সালমা আউয়াল শাফি বলেন, যেখানে মানুষ একটু আরাম করে ঘুরবে, খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করবে, সেখানে বিভিন্ন ব্যবসা, অপরাধ কর্মকাণ্ড, মাদকসেবন ও অশালীন কাজকর্ম হচ্ছে।

সভায় হেলথব্রিজের আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পেয়ারী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.