মগের মুল্লুকের মুসলমানদের বাঁচান

মঙ্গলবার,২৯ আগস্ট ২০১৭

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

ফরিদ চৌধুরীর সাথে মীরজাফরের দ্বন্দ্ব সেই বহুকাল আগের। সময়ের পরিক্রমায় এ দ্বন্দ্ব প্রখর আকার ধারণ করতে লাগলো। মীরজাফর একক প্রচেষ্টায় ফরিদ চোধুরীকে দমাতে না পেরে সে তার সমমনা কয়েকজনকে সাথে নিয়ে ফন্দি আঁকতে লাগলো কীভাবে ফরিদ চোধুরীকে নিঃশেষ করা যায়। মীরজাফরদের হাজারো চেষ্টা ফরিদ চৌধুরীকে দমাতে তো পারছেই না বরং তাঁর আত্মবিশ্বাস তাঁকে দূর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সম্মুখে। শত-হাজারো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে সামান্যতমও পিছপা হলোনা চৌধুরী সাহেব। তাঁর পথ রুদ্ধ করতে ব্যার্থ হয়ে মীরজাফরের দল ভাবছে কী করা যায়। তাঁকে  এমনিতে ছেড়ে দিলে মীরজাফরদের ধ্বংস নিশ্চিত প্রায় বুঝতে পেরে নতুন ষড়যন্ত্রের জ্বাল বুনতে লাগলো তারা। তারা ফরিদ চৌধুরীর কিছু কাছের মানুষের সাথে সখ্যতা গড়তে শুরু করলো। কয়েকজনকে হাতে নিতে সক্ষম হলো মীরজাফর। বন্ধু তার বন্ধুর দুর্বলস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়াটা স্বাভাবিক। চৌধুরী সাহেবের বন্ধুর কাছ থেকে সব গোপণ তথ্য জেনে নিয়ে সামনে এগুতে লাগলো মীরজাফরেরা। তারা বুঝতে পারলো চৌধুরী সাহেবের আপন মানুষ দিয়েই তাকে নিঃশেষ করা সম্ভব। চৌধুরী সাহেবের অন্তরঙ্গ বন্ধুদের সহযোগিতায় তার ঘরে ডুকিয়ে দিল এক বন্ধু রূপী শয়তানকে। সেই বন্ধু ক্রমশই চৌধুরী সাহেবের লাভের বিপরীতে ক্ষতি সাধনে ব্যস্ত। সমাজের সর্বত্র অশান্তি শুরু করলো বন্ধুটি। চৌধুরী সাহেবকে সর্বক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ করতে লাগলো। একপর্যায়ে সে তার স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে চৌধুরী সাহেবের ওপর ধেয়ে বসলো। মীরজাফরদের ষড়যন্ত্র চৌধুরী সাহেবের সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল। চৌধুরী সাহেবের বুঝতে বাকী রইলোনা যে, সে তাঁর বন্ধু রূপী শত্রু। অন্যের লেলিয়ে দেয়া এজেন্ট।
উপরোক্ত গল্পটা সমাজের বাস্তব চিত্র। সত্যকে দমাতে মিথ্যার ষড়যন্ত্রের একটি উদাহরণ। গল্পের সাথে নিবন্ধে মিল পাবেন শেষপর্যন্ত পড়লেই।

এবার আসা যাক মূল কথায়, আপাতত ধরে নিলাম জঙ্গিরা ইসলাম প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত প্রাণ!  তা যদি সত্যিই হয়? তাহলে মিয়ানমারে চলমান মুসলিম গণহত্যা, নারীর ইজ্জত লুন্ঠন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বসতভিটা থেকে বিতাড়িত করণ, ঘরবাড়ি পোড়ানোসহ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বর্বরতার দৃশ্য দেখে বিশ্ব বিবেক যখন স্তব্ধ! অদৃশ্যের জ্বিন পরীরাও যেখানে বাকরুদ্ধ। রোহিঙ্গাদের গগনস্পর্শী আর্তনাদে যখন আকাশ-বাতাস পর্যন্ত ভারী হয়ে আসছে। গাছপালা তরুলতা পশুপাখিও যে বিভিষিকাময় নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। রাখাইন রাজ্যে জীব-জড়’র ওপর চালানো নির্যাতনের ষ্টিম রোলারে প্রকৃতিও যখন সমব্যথিত সেখানে ইসলামের লেবাসদারী, নামে মুসলিম দরদী বিশ্বের সব চেয়ে শক্তিধর জঙ্গি সংগঠন বোকা হারাম (নাইজেরিয়া), ইসলামিক স্টেট (মধ্যপ্রাচ্য)  তালেবান (আফগানিস্তান), ফুলানি জঙ্গি গোষ্ঠী (নাইজেরিয়া) আল-শাবাব (সোমালিয়া) আল-কায়দা (আফগানিস্তান) ও অন্যসব জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এখনও নীরব কেন? তারা যদি ইসলামের সঠিক দরদী হয়েই থাকত তাদের তো নিরব থাকার কথা নয়। তাদের শ্লোগান খোদার রাজ্যে খোদার আইন প্রতিষ্ঠা করা। তো খোদার  রাজ্যে খোদার সব চেয়ে প্রিয় মানুষগুলোর ওপর  নির্যাতনে তারা নিশ্চুপ কেন?

তারা যদি ইসলামের পক্ষের শক্তিই হয়ে থাকত, তাহলে মায়ানমারে এতোদিন মুসলমানদের উপরে বর্বরতা চলতে পারতো না। নিশ্চয়ই তারা তা প্রতিহত করত। তাদের ভাষ্য মতে, তারা পারেনা এমন কোন কাজ নাকি এই পৃথিবীতে নাই। তাহলে মায়ানমারের নির্যাতিত মানুষগুলোকে অত্যাচারীর হাত থেকে বাঁচানোর এই সামান্য কাজে বাঁধার প্রাচীর কোথায়? মিয়ানমার সরকারের কাছে কেন তারা এখনো হুশিয়ারি বার্তা প্রেরণ করলোনা? মিয়ানমারের মুসলিম গনহত্যার ইস্যুতে তাদের নিরবতা ইসলামের বিপক্ষে তাদের অবস্থানকে আরো পরিস্কার করলো। ইসলাম কী এভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়? যে, মুসলিম সম্প্রদায়ের আত্মার আত্মীয় এবং সকল ধর্মের শ্রদ্ধার পাত্র প্রিয় রাসূল (দ.)-এর পবিত্র রওজা মুবারকে বোমা হামলা চালিয়ে? বাংলাদেশের মত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দেশের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপদ স্থান গুলশানে জঙ্গি হামলা করে?

আল্লাহর ঘর মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা, আওলাদে রাসূলসহ বিশ্বজুড়ে পীর আউলিয়ার পবিত্র মাজার শরীফে বোমা হামলা, বিশ্ববিখ্যাত নাত খাঁ কে দিন দুপুরে গুলি করে হত্যা করে? বিশ্ব বরেণ্য ইসলামিক স্কলার আল্লামা ফারুকীকে নিজ বাসায় গলাকেটে হত্যা করা? সর্বোপরি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুলো ধ্বংসের নাম যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠার নমুনা হয়ে থাকে তাহলে তোমাদের চেয়ে সন্ত্রাসীরা অনেক ভাল (যদি তোমরা মুসলিম দাবিদার হও) সন্ত্রাসীরা নিজ গোত্রের ব্যপারে খুব সচেতন (ব্যক্তিগত মতামত)। হে বিশ্ববাসী, সময় এসেছে জঙ্গিদের মিশন জানার। তারা আসলেই কী চায়? কী তাদের ভিশন? চলুন সেই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা গ্রহন করি। ওপরের গল্পটা আরেকটু চোখ বুলিয়ে আসুন। জঙ্গিরা ইসলাম,  মুসলমান ও মানবতার কোন কল্যাণ তো চায় না, বরং ইসলামকে পৃথিবী থেকে চিরতরে দাফন করে দেয়াটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তারা অসম্প্রদায়িক চাদর পরা ঘোর সাম্প্রদায়িক ইহুদী ও নাসারাদের গৃহপালিত দালাল। নয়তো বা কেন তারা মায়ানমারের মুসলিমদের পাশে আসছে না?

বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত মানবতার পাশে দাঁড়াছেনা? বহুকাল ধরে বর্বরতার শিকার হওয়া ফিলিস্তিনিদেরকে ইসরাঈলীদের হাত থেকে কেন রক্ষা করছেনা? মসজিদুল আকসা অবমুক্ত করণে তাদের ভুমিকা ছিলনা কেন? এরকম হাজারো প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, জঙ্গিরা এগিয়ে আসবেনা কেন? তারা তো মুসলিম ভিন্ন সর্বধর্মীয় ঐক্য পরিষদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী। ঠিক যেমন ফরিদ চৌধুরীকে দমাতে তাঁর ঘরে মীরজাফরের দল একজন বন্ধুরূপী শত্রু ডুকিয়ে দিয়েছিল ঠিক সেভাবে ইসলামের শ্বাশত সত্যের বাণী ও মানবতাকে নিঃশেষ করতে ইসলামের চির শত্রু ইহুদি ও নাসারা সুকৌশলে জঙ্গি নামক বিষফোঁড়া মুসলমানদের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে।

হে লোক দেখানো মানবতাবাদীরা দেখুন, কথায় কথায় জঙ্গিদের দোষ যে মুসলমানদের ঘাড়ে ছাপিয়ে দেন একবারও কি গভীর গবেষণা করেছে? জঙ্গিরা কী মুসলিম না মুসলমানদের চির শত্রু? তারাও আসলে আপনাদের পদাংক অনুসারী। আপনারা যেমন মুখে শান্তির কথা বলে অশান্তি সৃষ্টির কলকাঠি নাড়াচাড়া করেন। তারাও ইসলামকে পুঁজি করে দেশ ও মানবতার চরম ক্ষতি সাধন করে চলছে। চলুন জঙ্গি ও নাস্তিকদের বর্জন করি। আসুন পশুত্ব বিসর্জন দিয়ে মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করি ও বিশ্ব সভ্যতা রক্ষায় এবং মানবাধিকার  প্রতিষ্ঠায় সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক বিশ্ব গড়তে সন্ত্রাসীদের না বলি।

মহাগ্রন্থ আল কুর’আনের ভাষ্য অনুযায়ী “মানুষই সৃষ্টির সেরা জীব” এই আয়াতের উপর ব্রত হয়ে মায়ানমারের নিরীহ মজলুম রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ায়। ওহে মুসলিম বিশ্বনেতারা বিশ্বের দরবারে গণহত্যার প্রতিবাদে আওয়াজ তুলুন। “মানুষ হত্যা বন্ধ কর, করতে হবে”। মগের মুল্লুকের মুসলমানদের বাঁচান। তাঁদের এটাই দোষ তাঁরা মুসলমান এবং তারা বাঙ্গালী। তাই আজ তাঁরা নিজ দেশে পরবাসী। তাঁদের ব্যপারে জাগ্রত হও হে বিশ্ব বিবেক। সোচ্চার হও অত্যাচারীদের ব্যপারে। ধ্বংস হোক অপশক্তি। মুক্তি পাক মানবতা। সর্বশেষ আসুন এই কবিতার লাইনটাই হোক শ্লোগান, “সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই”
.
লেখকঃ সংগঠক ও কবি
শিক্ষার্থী- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
msinejam@gmail.com
01626364062




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image