Saturday, 09 Sep 2017
Ctgbarta24.com
রাজশাহী র্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প সদস্যদের বিরুদ্ধে মোজাহারুল ইসলাম জিএস (৩২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। জিএসকে শুক্রবার সন্ধ্যায় আটকের পর প্রকাশ্যে দফায় দফায় পেটানো হয়েছে বলে পরিবারসহ স্থানীয়দের অভিযোগ। নিহত জিএস নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের কৈবর্ত্যপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমান মন্ডলের ছেলে।
কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াদ আলী মন্ডল, নিহতের বড়ভাই আজাহারুল ইসলাম জিএম, ভাবি নাহিদা আক্তার, প্রতিবেশি মারুফ আহমেদ, আমিনুল ইসলামসহ আরো অনেকে জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিংগীবাজারের অদুরে পচার মোড় থেকে মোজাহারুল ইসলাম জিএসকে আটক করে র্যাব সদস্যরা। সেখানে তাকে বেদম মারপিট করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে র্যাব সদস্যরা তাকে বাসায় নিয়ে আসেন। র্যাব সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশের সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের একটি কক্ষে আটকিয়ে রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীসহ স্বজনদের দাবি, মেজর মুরাদ পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তিসহ ৮-১০ জন সদস্যসহ জিএসকে দোতলায় তার কক্ষে নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী বেদম মারপিট করে। এ সময় জিএসের চিৎকারে আশপাশের শতাধিক লোক সেখানে জড়ো হন। পরে অস্ত্র উদ্ধারের নামে রাত ৯টার দিকে তাকে নিয়ে গ্রামের কবরস্থান, আমবাগান, কলাবাগানসহ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায় র্যাব। এসময় দফায় দফায় মারপিটে জিএস কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাকে সুস্থ করে আবারো পেটানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, অস্ত্র উদ্ধারের নামে জিএসকে পিটিয়ে হত্যা করেছে র্যাব।
তারা বলছেন- রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাকে পেটানো হয়। অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে র্যাব সদস্যরা তাকে আবারো বাসায় ফিরিয়ে আনে। এসময় প্রতিবেশী আমিনুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান নামে দু’ব্যক্তিকে জিএসের দোতালার ঘরে নিয়ে ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার দাবি করে ছবি উঠিয়ে নেয় র্যাব। তবে গুলিগুলো কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তা অবহিত করা হয়নি বলে তাদের দাবি। পরে রাত ২টার দিকে জিএসকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান জানান, জিএসকে মৃত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুর কারণ সর্ম্পকে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
র্যাব জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর সৈয়দ মুরাদুল ইসলাম জানান, নিহত জিএস একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী। অস্ত্র উদ্ধারের জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়েছিল। গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তার নিকট থেকে ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। জিএসকে হেফাজতে নিয়ে যাবার পথে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।









