নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
শুক্রবার, ১৭ জুন ২০১৬
চট্টগ্রাম : লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ব্যানকন-৭ (ইউনিফিল) এ যোগদানের উদ্দেশে নৌবাহিনীর ১৩৫ সদস্যের প্রথম গ্রুপ বৃহস্পতিবার রাতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। এই নৌ সদস্যরা লেবাননে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনীর জাহাজ আলী হায়দার ও নির্মূলে যোগদান করবেন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে ইউনাইটেড নেশনের নিজস্ব বিমানে উঠার আগে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের রানওয়েতে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িনো বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর ১৩৫ জন সদস্য।
শাহ আমানত বিমানবন্দর ত্যাগ করার আগে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন এ কে এম এম শেরাফুল্লাহ লেবাননগামী নৌ-সদস্যদের বিদায় জানান। এসময় নৌবাহিনীর অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আগামী ২২ জুন দ্বিতীয় গ্রুপে আরো ১৩৫ নৌ-সদস্য লেবাননের উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার আগে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন এ কে এম এম শেরাফুল্লাহ লেবাননগামী নৌবাহিনীর ১৩৫ সদস্যদের বিদায় জানান। এসময় নৌবাহিনীর অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘আলী হায়দার’ ও ‘নির্মূল’ ভূ-মধ্যসাগরে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে লেবাননে মোতায়েন রয়েছে। জাহাজ দু’টি লেবাননের ভূ-খণ্ডে অবৈধ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে দক্ষতার সাথে কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি লেবানীজ জলসীমায় জাহাজ দুটি মেরিটাইম ইন্টারডিকশন অপারেশন, সন্দেহজনক জাহাজ ও এয়ারক্রাফটের ওপর গোয়েন্দা নজরদারী, দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজে উদ্ধার তৎপরতা এবং লেবানীজ নৌসদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ভূ-মধ্যসাগরে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সের আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দু’টি যুদ্ধজাহাজ ওসমান ও মধুমতি লেবাননে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেয়। চারবছর সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৪ সালে জাহাজ দু’টির প্রতিস্থাপক হিসেবে ‘আলী হায়দার’ ও ‘নির্মূল’ লেবাননে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত হয়।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে লেবাননের উদ্দেশ্য যাত্রা দিতে ইউনাইটেড নেশনের নিজস্ব বিমানে উঠছেন বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর সদস্যরা।
বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অত্যন্ত সফলতার সাথে অংশগ্রহণ ও দায়িত্ব পালন করে আসছে। লেবানন ছাড়াও দক্ষিণ সুদানের নদীপথ, বেসামরিক ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা দেয়াসহ জরুরি পরিস্থিতিতে ডুবুরী সরবরাহের কাজে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট-২ নিয়োজিত রয়েছে।
