ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে
১৯ জুন, রবিবার, ২০১৬
সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষে জড়িয়েছে নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতা সাবেক মেয়র ও আ.লীগ সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বর্তমান মেয়র নগর আ.লীগের সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগের দু’গ্রুপ।
এ সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত দুজনের গায়ে ছররা গুলি লেগেছে বলে জানিয়েছে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক জাহাঙ্গীর। সংঘর্ষ চলাকালে তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়।
রবিবার (১৯ জুন) দুপুর ১টার দিকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। থেমে থেমে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে দুপুর ২ টা পর্যন্ত।
‘এর আগে গতকাল শনিবারও ক্যাম্পাসে শোডাউন দিতে গিয়ে ছাগলীগের দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছিলেন।’
সংঘর্ষে আহতরা হলেন, কাদেমুল ইসলাম দুর্জয়, কণিক বড়ুয়া, জামাল উদ্দিন ও খন্দকার নাইমুল আজম। এদের মধ্যে প্রথম চারজন নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী এবং শেষেরজন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত গ্রুপের নেতাকর্মীরা দুপুরে মেয়রের নামে স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এসময় কলেজ ফটকে অবস্থান করা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী গ্রপ তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে হাতাহাতির একপর্যায়ে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। উভয়পক্ষই লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। এ সময় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালায়।
তারা আরও জানায়, এরপর নাছির অনুসারী নেতাকর্মীরা কলেজের অদূরে গণি বেকারি মোড়ে ও মহিউদ্দিন অনুসারী নেতাকর্মীরা কলেজ ফটকে অবস্থান নেয়। মাঝে মাঝে দু’পক্ষে চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। এতে উভয়পক্ষে কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে ও আহত একজনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো. জাহাঙ্গীর সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম কে বলেন, ‘চট্টগ্রাম কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় মনির (২২) ও হুমায়ুন (২২) নামে দু্ই জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এবং নিঝুম পারিয়াল নামে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের হাসপাতালের ক্যাজুয়েলিটি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজ আহমেদ সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম কে বলেন, ‘আগের দিনের ঘটনার জের ধরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছে। পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’
গুলাগুলির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। তবে কারা করেছে জানি না।’
“এদিকে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকেরা দুই ক্যাম্পাসে আটকা পড়েন। কেউ কেউ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে এদিক ওদিক ছোটাছোটি করতে থাকে। কলেজ রোড ও আশপাশের এলাকার সড়কগুলোও যানবাহন শূন্য হয়ে পড়ে।”
দুপুর ২টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পুলিশ দুই কলেজে আটকা পড়া ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বের করে আনেন।
এসময় বেশ কয়েকজন ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকেদর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে তারা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েন। ভয়ে তারা কলেজের ক্লাসরুমে অবস্থান নেন। ভর্তি হতে এসেই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে এমনটা চিন্তাও করেননি বলে জানান তারা। এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে চট্টগ্রাম কলেজের মূল ফটকের দুটি কাচ ভাঙচুর করা হয়।’
“এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে।”
মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলাম। বিনা উসকানিতে তারা এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের চার কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে।’
অন্যদিকে আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল শনিবারও আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে তারা। আমাদের তিন নেতা-কর্মীকে আহত করেছিল। আজ রবিবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালো তারা। আমরা এর বিচার চাই।’
“এদিকে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকেরা আটকা পড়লেও ভর্তিতে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম কলেজ কর্তৃপক্ষ।”
চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তার সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম কে বলেন, ‘রবিবার সুষ্ঠুভাবে এইচএসসি একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ছাত্রদের দুই পক্ষের ঝামেলার কারণে ভর্তিতে কোনো সমস্যা হয়নি।’
তিনি আরো জানান, ‘কিছু বহিরাগত কলেজের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কলেজের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’



You must log in to post a comment.