মঙ্গলবার,০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রামে একের পর এক সরকারি ওষুধ বাইরের ফার্মেসিতে চলে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।
গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের পাইকারি ওষুধ বিক্রয়ের সবচেয়ে বড় মার্কেট হাজারি লেনের ওষুধ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর আন্দরকিল্লার সিভিল সার্জন অফিস কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় ঔষধ নেতৃবৃন্দরা বলেন, ফার্মেসিতে অভিযানের চেয়ে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। চিকিৎসকরা যাতে প্রেসক্রিপশনে ফুড সাপ্লিমেন্ট না লিখেন সে দিকে নজর রাখতে হবে। তারা লিখেন বলেই ব্যবসায়ীরা সেসব ওষুধ রাখতে বাধ্য হয়। চিকিৎসকরা সচেতন হলে ওষুধ বিক্রেতারাও সচেতন হবে।
তিনি বলেছেন, সম্মিলিতভাবে সরকারি ওষুধ পাচার বন্ধ করতে হবে। সরকারি বিনামূল্যের ওষুধ এদেশের সম্পদ। কিছু কুচক্রী ব্যক্তির কারণে সরকারি ওষুধ বাইরের ফার্মেসিতে চলে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের সফলতা নষ্ট হচ্ছে, ঠিক তেমনি অপরদিকে বিনামূল্যের ওষুধ প্রাপ্তি থেকেও গরিব-অসহায় রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তাই কুচক্রী মহলকে রুখতে ও সরকারি ওষুধ পাচার বন্ধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে এ সমস্যা রোধ করতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতাল কমিউনিটি ক্লিনিক মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরীর ওষুধ পাড়া খ্যাত হাজারি গলিতে অভিযান চালিয়ে বিদেশি ও সরকারি ওষুধ জব্দ করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসন, ওষুধ প্রশাসন, ডিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি দোকানের তৃতীয় তলার গোডাউনে বড় আকৃতির ৬ বস্তা ও ২০ কার্টুন সরকারি ওষুধ জব্দ করা হয়। এ ওষুধগুলো পরীক্ষা করলে দেখা যায় যে প্রত্যেকটি ওষুধই অনেক দামি। অপরাধের পরিমাণ ও বিচার মোবাইল কোর্টের তপশিলভুক্ত না হওয়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মামলা করার নির্দেশ দেন।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত আরো দুটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ দোকান দুইটিতে দুই কার্টুন করে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত দোকান দুটিকে ২০ (বিশ) হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে। জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি এ আদালত পরিচালনা করেন।
গতকালের সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. অজয় কুমার দে, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোজাম্মেল হোসাইন, মো. রহমত উল্লাহ, হাজারি লেইন ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা লায়ন আশীষ ভট্টাচার্য, সভাপতি মো. শফিউল আজম প্রমুখ।




