মাহাবুবুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর কমান্ডারদের যখন বাংলাদেশের মাটিতে ফাঁসি কার্যকরের সময় হুট করে কিছু মানবতাবাদীর আমদানী হলো। তেমনি আজও দেখলাম এর খানিকটা ব্যাতিক্রম। আমদানি হলো কিছু গরুবাদীর।
ঝুম বৃষ্টির সাথে ঢাকার রাজপথে রক্তের প্রবাহ বইছে, ‘সেই ছবি তারা প্রবল আগ্রহের সাথে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার দিতে দিতেই নানা বিপ্লবী ক্যাপশন ছুঁড়েছেন।’
রক্তধারা মানবিক দিক বিবেচনায় আমাদের আহত করতেই পারে, ‘প্রতিটা প্রাণের জন্য প্রাণ কাঁদাটাও দোষনীয় নয়।’
ধর্মীয় দিক বাদ দিলেও, ‘আমাদের সে সকল গরুবাদীরা যারা কোরবানির কঠিন এবং রসিক সমালোচনা কিংবা বিরোধীতা করছেন।’
আমার জানার প্রবল ইচ্ছা তাদের ক’জন ভেজিটেরিয়ান???
আমরা কোন না কোন ভাবে প্রতিদিনই প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে প্রাণী হত্যা করেই চলেছি। এটার একটা চেইন ও আছে, না হয় অনাহারে অনেক প্রাণের বিনাশ হয়ে যেতো অনেক আগেই। আপনাকে আমাকে বেঁচে থাকার জন্য মাছ মাংস খেতেই হবে, ধর্ম তো একটা উপলক্ষ মাত্র।
‘আজ ঈদের দিন। ঈদ মানেই খুশী। কোরবানি ঈদের খুশীটা অন্যরকম। শুরুর ঘটনা সবারই জানা।’
পবিত্র আল কোরআনে এসেছে সে ঘটনা- “ইন্নি আরা ফিল মানামি আন্নি আযবাহুকা, ফানজুর মা তা রা? ক-লা ইয়া আবাতিফাল মা তু’মারুনা সাতা খিজুনী ইনশা আল্লাহু মিনাস সাবিরীন।”
“আমি পড়ি আর মুগ্ধ হই। পিতা-পুত্রের কী নজিরবিহীন সুন্দর সম্পর্ক!”
“হযরত ইব্রাহীম (আ:) স্বপ্নে দেখলেন তিনি পুত্রকে জবাই করছেন, পুত্র ও বাবার দেখা সে স্বপ্ন পুরণে হাসি মুখে নেমে এলো তরবারির নিচে। সর্বশেষ একটা প্রাণীর জীবনের বিনিময়ে রক্ষা পেলো হযরত ইসমাঈল (আ:)”।
‘সেই থেকেই ত্যাগের মহিমা নিয়ে শুরু হলো পশু কোরবানির প্রচলন। পুত্রের জীবন রক্ষার যে আনন্দ নবী হযরত ইব্রাহীম (আ:) সেদিন পেয়েছিলেন। সে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে। সেখানে বিষাদের গল্প ও আছে।’
‘আজ এই আনন্দঘন দিনে বিষাদের গল্প শুনতে ইচ্ছা না করলেও আমাদের কঠিন বাস্তবতা সে গল্প দেখায়, শুনায়।’
গরীব বাবার ছোট্ট ছেলেটা তার বাবাকে বলে রেখেছিলো, বাবা আমাদের কোরবানি ঈদে একটা লাল গরু এনো। সবার গরু কেনা হয়ে গেছে।
আজ “ঈদ” তাদের সে লাল গরু তখনো কেন হয় নি। নামাজ শেষে ঈদগাঁহ থেকে পরাজিত সৈনিকের মত মাথা নিচু করে বাড়ি ফেরা সে বাবার ফরিয়াদ সাত আসমান ভেদ করে মহাকাশ ছুঁয়ে যায় কী না কিংবা করুণাময় শুনতে পান কী না আমার জানা নেই।
‘আমরা মানুষ, আমরা প্রতিবেশী, আমরা তো দেখতে পাই, শুনতে পাই- তারপর ও যদি সেই লাল গরুর প্রতিক্ষায় থাকার শিশুর হাতে, পাতে এক টুকরো মাংস তুলে দিতে না পারি তবে আমাদের এ আনন্দ মিছে। আনন্দ আর জ্ঞান একই জিনিস, যতই ভাগাভাগি করবেন, ততই বড়বে।
সবাইকে ঈদ-উল-আযহা এর শুভেচ্ছা এবং ঈদ মোবারক জানিয়ে শেষ করছি।
লেখক: মোহাম্মদ মাহাবুবুল করিম
ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিক, ব্লগার ও মানবাধিকার কর্মী।




























