সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম
শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬
জেনিফার আলমঃ ঘুষ খাওয়া পুলিশের কথা তো অনেক শুনেছি, মৃত্যুর মুখে নিজেকে সঁপে দেয়া বীরদের কথা শুনেছি? আসুন তবে আজকে সেই বঙ্গসন্তানদের কথা শুনি। যারা আমাদের নাগরিক সুবিধা দেয়ার জন্য মেয়ের জন্মদিনে থাকতে পারেন না, ডিউটির জন্য মায়ের অসুখে পাশে থাকতে পারেন না। জনগনের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য অনাগত সন্তানকে একবার দেখতে পাবার চাইতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা ধর্ম বলে মনে করেন। সংবাদের পেছনে থাকা এই মানুষগুলো সম্পর্কে আমরা কজন জানি? আসুন, জেনে নেই এমনই এক সাহসী, জনবন্ধুর কথা।
তিনি সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার, মো: নাজমুল ইসলাম।
জনগনের কতটা কাছে গিয়ে জনগনের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা যায়, তা তাকে যারা কাছে থেকে না জানেন, ধারনা করতে পারবেন না। নিজেকে আত্মমগ্ন করে রেখেছেন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে সাইবার সিকিউরিটি আর ক্রাইম নিয়ে সচেতন করার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। অমানুষিক পরিশ্রম করে যাচ্ছেন “কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম” বাংলাদেশ মেট্রোপলিটন পুলিশ এর হয়ে। যাদের লক্ষ্য খুব উন্নতমানের যন্ত্রাংশ সম্বলিত সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা।
মনিরুল ইসলাম স্যারের প্রচন্ড পরিশ্রম এবং উদ্যোগের ফলে গড়ে উঠা এই সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম ব্রাঞ্চের সকল সাফল্যর জন্য মনিরুল ইসলাম কেই সর্ব অবস্থায় সকল ধন্যবাদের সুযোগ্য মনে করেন নাজমুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘স্যার আছে বলেই আমরা আজ এভাবে কাজ করতে এবং অনলাইন সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় দ্রুত আনতে পারছি।’
সাইবার হ্যারাজমেন্ট, থ্রেট, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, ডিজিটাল পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি নিয়ে এরা কাজ করে যাচ্ছেন মানুষের সেবায় আর সুস্থ সামাজিক জীবন নিশ্চিত করতে।
আমাদের দেশে সাইবার ক্রাইম এখন যেমন নতুন নতুন রুপে হচ্ছে , সেই অপরাধ গুলো দমনে এই অফিসার এবং তার টিম নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশে উন্নত ট্রেনিং এবং সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে তিনি এবং তার টিম মোকাবেলা করছেনি সাইবার ক্রাইম করা মানুষগুলোকে আইনের আওতায় আনতে।
এগুলো ছিল সরকারী অফিসার হিসেবে অফিসিয়াল ডিউটির কথা। শুধু অফিস আওয়ার শেষ হলেই যে কাজ শেষ করছেন এই মানুষটি তা কিন্তু নয়।
অফিসের পর ফেইসবুক এর বিভিন্ন গ্রুপ এবং সাধারন জনগনকে সাই ম্বার ক্রাইম সম্পর্কে সচেতন হতে লেখা লিখির পাশাপশি, ভিক্টিমদেরকে কিভাবে সুবিচার পেতে হবে সেই সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সুপরামর্শ দান করেন।
আমাদের অনেকের মনেই পুলিশ নিয়ে নানা ভয় এবং খারাপ ধারনা প্রচলিত আছে, এবং সেই ধারনা ভেংগে নতুন করে বিশ্বাস স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া এই মানুষটিকে আমাদের টিমের পক্ষ থেকে শুভকামনা। যেন আইনের হাত গলে আর একটি সাইবার ক্রাইমের অপরাধে অভিযুক্ত অপরাধীও বেরিয়ে যেতে না পারেন।





