জেনিফার আলম । ২৭ জুলাই ২০১৬
রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে। বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এমন তথ্য ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। কিন্তু ঠিক কোন বাড়িতে ও মেসে ওই জঙ্গিরা অবস্থান করছিল, তার সন্ধান পাচ্ছিলেন না তারা। গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলার তিক্ত অভিজ্ঞতাও ভুলতে পারছিলেন না পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
তাই গত কয়েকদিন কল্যাণপুরসহ আশে-পাশের এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও মেসে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে আসছিলেন গোয়েন্দারা। সেই তল্লাশি অভিযান চালাতে গিয়েই কল্যাণপুরে দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের মুখোমুখি হয়ে পড়ে পুলিশ। আর অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই পুলিশ জঙ্গিবিরোধী এই অভিযান ‘অপারেশন স্টর্ম ২৬’ সফল করে বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন পুলিশ ও গোয়েন্দারা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও মেসে অভিযান চালিয়ে আসছিল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছিলেন না তারা।
স্থানীয়রা জানান, তারাও দিনে-রাতে পুলিশের নিয়মিত অভিযানে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু কোথাও জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাচ্ছিলেন না।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, দেশব্যাপী জঙ্গি-সন্ত্রাসবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই তারা কল্যাণপুরে অভিযান চালান। সৌভাগ্যক্রমে তারা জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে যান। অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই তারা অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেন। ফলে এত ঘনবসতি এলাকায়ও সাধারণ মানুষ ও পুলিশের কোনও ক্ষতি হয়নি।
পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কল্যাণপুর এলাকায় অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর রোডের ৫৩ নম্বর বাড়ির সামনে যাওয়ার পরপরই জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে হ্যান্ড গ্রেনেড ছুড়ে মারে। কিন্তু সেটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় পুলিশ প্রাণে বেঁচে যায়। এরপরই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সেখানে জঙ্গিরা অবস্থান করছে। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযানের পরিকল্পনা করেন।
আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের আরও বলেন, দুর্ধর্ষ জঙ্গিবিরোধী এ অভিযানে আবারও প্রমাণিত হয়েছে পুলিশ জঙ্গি দমনে সক্ষম। এ অভিযানে ডিএমপির বিশেষায়িত টিম সোয়াট-এরও প্রশংসা করেন তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একজন কর্মকর্তা জানান, জঙ্গি আস্তানার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই মিরপুর ক্রাইম ডিভিশন, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, সোয়াট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনার জন্য গঠন করা হয় ‘অপারেশন স্টর্ম ২৬’ নামের একটি দল। তারাই সকাল ৫টা ৫০ মিনিটের সময় অভিযান শুরু করে। শেষ করে ৬টা ৫০ মিনিটে। এক ঘন্টার অপারেশনে নয় জঙ্গি নিহত হয়।
ডিএমপি’র কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ সানি ছানোয়ার হোসেন সিটিজিবার্তা কে জানান, কল্যাণপুরে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে। তারা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু ঠিক কোনস্থানে তাদের আস্তানাটি ছিল সেটি শনাক্ত করতে পারছিলেন না।
সোমবার রাতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই তারা ৫৩ নম্বর বাড়িতে থাকা মেসে তল্লাশি চালাতে। কিন্তু জঙ্গিরা মনে করেছিল তাদেরই ধরতে গেছে পুলিশ। এরপরই তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে মারে। এরপরই তারা নিশ্চিত হন সেখানে জঙ্গি আস্তানা রয়েছে। পরে তারা অভিযান পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে পরিকল্পনা করেন।
একইসঙ্গে ওই বাড়ির চারদিকেই পুলিশ দ্রুত অবস্থান নেয়। যেন জঙ্গিরা পালাতে না পারে। তিনি জানান, ঘনবসতি এলাকায় যেন সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যদের ক্ষতি না হয়, সেই দিকটাকে তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। জঙ্গিদের জীবিত ধরার ব্যাপারেও তাদের জোর প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু জঙ্গিরা বারবারই তাদের আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল।



































