বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম
ডেস্ক সংবাদ ঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী যে পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি সেখানে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
দশম সংসদের অষ্টম অধিবেশনে বুধবার বিকেলে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ সব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা আমরা যতই নেই না কেন তা বাস্তবায়নে হতে পারে যদি আপনাদের সকলের সর্বাঙ্গীন সহযোগিতা থাকে। বাংলাদেশের মানুষ অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজকে এখানে এসেছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী যে পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি সেখানে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি যারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে ধরিয়ে দেওয়া, আইনের হাতে সোপর্দ করা এবং তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা উচিৎ।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের পরিকল্পনা একটাই- বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্য পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করছি, অন্যান্য আইনশৃংখলা সংস্থাগুলোকে আরও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আইনশৃংখলা উন্নতির জন্য তৃণমূল পর্যন্ত কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় করার চেষ্টা করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা দেশের মানুষকে সচতেন করা। এই সচেতনতা সৃষ্টি হলেই দেশকে আরও শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হব। কারণ মানুষ যত সচেতন থাকবে ততই আমরা সাফল্য অর্জন করব।’
ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য এলজিআইডির আওতায় ১৯১ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ২৩ কিলোমিটার মাটির সড়ক, ৭১১ মিটার ব্রিজ, ১৫ টি মসজিদ, ৮টি কমিউনিটি সেন্টার, ৭টি মন্দির এবং ৮টি ঘাট নির্মাণ, ১২টি হাট-বাজার, ৪টি কবরস্থান এবং ৩টি শ্মশান ঘাট উন্নয়ন, প্রায় ১১ কিলোমিটার খাল খনন ও ২৩০ মিটার স্লোপ প্রোটেকশন অন্তর্ভুক্ত করে ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত একটি প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন আছে। ৩৫টি ছিটমহলে দ্রুত বিদ্যুৎতায়নের জন্য বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাটগ্রাম উপজেলার বাঁশকাটা ছিটমহলের ৬৫ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। বাকি ছিটমহলগুলোতে বিদ্যুৎতায়ন করার জন্য ৯০০টি পোল বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে যা উত্তোলনের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে।
তিনি জানান, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৪৯টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠন করা হয়েছে। এ সকল সমিতির আওতায় ৩ হাজার ১৫০টি পরিবারের ১০ হাজারের অধিক মানুষকে পুঁজিগঠনসহ জীবিকায়নের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সাবেক ১১১টি ছিটমহল এলাকার ৩ হাজার পরিবারকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদাণের লক্ষ্যে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।







