তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের শুধু জীবন যাত্রার মানকেই উন্নত করেনি, করেছে নিরপত্তাহীন আর অপরাধীদের জন্য নিয়ে এসেছে অফুরন্ত সুযোগের ডালি। কিন্তু আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান আর দক্ষতার কাছে হার মানছে অপরাধীরা। সাইবার অপরাধের জগতে সবথেকে বেশী যে নামটি শোনা যাচ্ছে, সেটি হলো সাইবার হ্যারাসমেন্ট এবং ব্ল্যাকমেইলিং। আর এর অধিকাংশের শিকার হচ্ছেন নারীরা।
ঘটনার সুত্রপাত ২ মাস আগে , কলেজছাত্রি সীমা(ছদ্মনাম) তার আইপ্যড ও আইফোনে কিছু একাউন্ট খোলার জন্য ডিভাইসগুলো তার বান্ধবির স্বামী নায়েমকে (অপরাধী) । পরে ডিভাইসগুলো ফেরত চাইলে তা ফেরত দ্বিতে টালবাহানা করে কিছুদিন পরে ডিভাইসগুলো ফেরত দেয় নায়েম । কিন্তু এর মাঝে ভিক্টিমের ডিভাইস থেকে তার কিছু ব্যক্তিগত ছবি নিজের কাছে রেখে দেয় সে এবং ভিক্টিমের কাছে টাকা দাবি করে নাহলে ছবিগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। ব্লাকমেইলের শিকার হয়ে ভিক্টিম মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে এমনকি বিষয়টি আত্মহত্যার করার দিকে চলে যায় । পরে কোনো সমাধান না পেয়ে ভিক্টিম বিষয়টি তার ভাইকে জানালে তার ভাই নায়েমের দাবি মোতাবেক প্রথমে ৫০০০ এবং পরে ২০০০ টাকা বিকাশে প্রেরন করেন ।
এতেও সে ক্ষান্ত দেয়নি । কিছুদিন আগে আবারো ১ লাখ টাকা দাবি করে এবং ২৫ জুলাই শেষ সময় বেধে দেয় । এই তারিখের মাঝে টাকা না দিলে ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। ইতোমধ্যে প্রতিনিয়ত ভিক্টিমকে ছবি ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি সহ ফোনে ও ফেসবুকে নানাভাবে হ্যারাসমেন্ট করতে থাকে । সাথে এও হুমকি দেয় যে তাকে কেও খুজে বের করতে পারবে না ।
এরপর ভিক্টিমের পরিবারের পক্ষ থেকে CRIME RESEARCH AND ANALYSIS FOUNDATION (CRAF) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তড়িৎ ভাবে ক্রাফের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অন্যান্য সোর্স থেকে সাসপেক্টের অবস্থান ও তার আবাস্থলের ঠিকানা নিশ্চিত করা হয় । পরবর্তীতে ক্রাফের সহায়তায় গুলশান থানায় ২১ জুলাই আইসিটি এক্ট ৫৭ এবং ৩৮৫-৩৮৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। যেহেতু ২৫ জুলাই শেষ তারিখ ছিলো টাকা পাঠানোর , সকল দিক বিবেচনা করে ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার আগেই গুলশান থানা পুলিশের সহায়তায় ক্রাফের ভিক্টিম সাপোর্ট ডিভিশনের মেম্বার সহ ২৫ তারিখ রাতেই অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকা থেকে তাকে আজকে সকালে গ্রেফতার করে গুলশান থানায় নিয়ে আসা হয়।
অপরাধীদের অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পেলেও আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পিছিয়ে নেই। অপরাধ প্রবনতার হার কমানোর লক্ষে এক যোগে কাজ করছে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। অপরাধহীন এক সুন্দর সমাজ ও দেশের প্রত্যাশায় দেশের জনগনের সহায়তা ভীষন প্রয়োজন।
তথ্যসূত্রঃ ক্রাইম রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশন










