সিটিজিবার্তা২৪ডটকম, মিরপুর থেকে : সাকিব আল হাসান আজ মিরপুরে ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলেছিলেন। এবার আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলছেন তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ইংলিশ পেসারদের ওপর ঝড় তুলে ৫৫ বলে করেছেন ৭৯ রান। জেক বলের শিকার পরিণত হওয়ার পর হঠাৎই ছন্দপতন হয়েছে বাংলাদেশের। তার আউটের পর পরই যে ফিরে গেছেন মোসাদ্দেক হোসেন ও অধিনায়ক মাশরাফি!
বাংলাদেশের স্কোর ৪৩ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭৪ রান।
দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিলেন ইমরুল কায়েস। সে সাথে ঝড়ো ব্যাটিং তান্ডবে অর্ধ শতক পূর্ণ করেন সাকিব আল হাসান। ইমরুল আর সাকিবের অসাধারণ ব্যাটিং পার্টনারশিপের উপর ভর করে জয়ের আনন্দে ভাসতে থাকা বাংলাদেশ দলকে পর পর দুই বলে সাকিব ও মোসাদ্দেক কে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন ইংলিশ পেসার জেক বল। ৪০ রানের খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন ডানহাতি এ ইংলিশ বোলার।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪৩ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান করেছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য টাইগারদের প্রয়োজন ৪২ বলে ৩৬ রান।
২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১০১ রানের ইনিংস। এর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়েই আবার তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের দেখা পেলেন ইমরুল কায়েস। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ‘প্রিয়’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পূরণ করলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তবে পেশীতে টান পড়ায় ইনজুরি নিয়েই ব্যাটিং করছেন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন সাকিব আল হাসান, এই অলরাউন্ডারও আবার পেয়েছেন হাফসেঞ্চুরির দেখা।
মুশফিকুর রহমানের বিদায়ের সঙ্গে দলীয় চতুর্থ উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ১২ বলে এক চারে সমান ১২ রান করে আদিল রশিদের দ্বিতীয় শিকার হন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান।
ওয়ানডেতে তার নামের পাশে একটি মাত্র সেঞ্চুরি ছিল এতদিন। সেই ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১০১ রানের ইনিংস। এর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়েই আবার তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের দেখা পেলেন ইমরুল কায়েস। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ‘প্রিয়’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পূরণ করলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তার চমৎকার ব্যাটিংয়ে সঠিক পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন সাকিব আল হাসান, এই অলরাউন্ডার আবার পেয়েছেন হাফসেঞ্চুরির দেখা। তাদের জুটির ওপর ভর দিয়ে বাংলাদেশের স্কোর ৩৯ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৩ রান।
ভালোই খেলছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়ে এগিয়ে নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের স্কোর। ক্রিজে সেট হয়ে গিয়ে যখন বড় ইনিংস খেলার আভাস দিচ্ছিলেন তিনি, তখনই করলেন ভুল। আদিল রশিদের ঝুলিয়ে দেওয়া বল উড়িয়ে মেরেছিলেন ডিপ মিডউইকেটে, সেখানেই ধরা পড়েন অতিরিক্ত খেলোয়াড় বিলিংসের হাতে। আউট হওয়ার আগে ২৬ বলে করেন ২৫ রান। তার আউটের পর ফিরে গেছেন মুশফিকুর রহিমও। রানখরায় ভোগা টেস্ট অধিনায়ক এবার আউট হয়েছেন ১২ রান করে।
এর আগে ডেভিড উইলির দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হয়ে গেছেন সাব্বির রহমান। ১১ বলে তিনি করেছেন ১৮ রান। জেক বলের আগের বলেই মেরেছিলেন চার। আত্মবিশ্বাসী সাব্বির রহমান পরের বলটা উড়িয়ে মারলেন ডিপ মিডউইকেটে, বল ভাসাতে ভাসতে যাচ্ছিল সীমানার ওপারে। লাফ দিলেন উইলি, বল ধরলেন কিন্তু নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারলেন না ইংলিশ পেসার। যদিও নিজে সীমানা পেরিয়ে গেলেও তালুবন্দি করা বলটা শূন্যে ভাসিয়ে এপারে এসে আবার মুঠোবন্দি করলেন বল। তাতে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা সাব্বিরকে।
ইংল্যান্ড ইমরুল কায়েসের ‘প্রিয়’ প্রতিপক্ষ। প্রস্তুতি ম্যাচে সফরকারীদের বিপক্ষে সেঞ্চুরিও করেছেন এই ওপেনার। তাতে প্রথম ওয়ানডের একাদশে সুযোগ পাওয়ার জবাবটা ভালোই দিচ্ছেন তিনি। আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল অবশ্য টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। আউট হয়ে গেছেন এই ওপেনার। অভিষিক্ত জেক বলের শিকার হওয়ার আগে নামের পাশে যোগ করেন ১৭ রান।
বেন স্টোকসের সেঞ্চুরি ও জস বাটলারের ঝড়ো অর্ধশতকে আট উইকেট হারিয়ে ৩০৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করিয়েছে ইংল্যান্ড। এ ম্যাচটি জিতলেই ইংলিশদের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ ওয়ানডে জয়ের কীর্তি গড়বে টাইগাররা।
শুক্রবার (৭ অক্টোবর) মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওডিআইতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে সফরকারীরা। আন্তর্জাতিক অভিষেকেই ব্যাট হাতে আলো ছড়ান তরুণ ব্যাটসম্যান বেন ডাকেট (৬০)। আউট হওয়ার আগে চতুর্থ উইকেটে স্টোকসের সঙ্গে ১৫৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন ২১ বছর বয়সী এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
শেষদিকে তিন চার ও চার ছক্কায় ৬৩ রানের (৩৮ বল) বিধ্বংসী ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন বাটলার। ৫০তম ওভারের চতুর্থ বলে তিনি সাকিব আল হাসানের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। ইনিংসের শেষ বলটিতে ক্রিস উকসের (১৬) রান আউটে অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে।
দুই ক্যাচ মিসের সুবাদে ক্যারিয়ারের প্রথম ওডিআই সেঞ্চুরি উদযাপন করেন স্টোকস। ১০১ রান করে থামেন ২৫ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার। ৪২তম ওভারে মাশরাফি বিন মর্তুজার বলে সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
মাহমুদউল্লাহ-মোশাররফের ক্যাচ মিসে ব্যক্তিগত ৬৯ ও ৭১ রানে দু’বার জীবন পান স্টোকস। ৩১তম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে মিডঅনে সহজ ক্যাচটি ফেলে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পরের ওভারেই মাশরাফির স্লোয়ারে ডিপ কাভারে হাওয়ায় ভাসানো ক্যাচটি হাতছাড়া করেন মোশাররফ হোসেন।
এর আগে অষ্টম ওভারে ইংল্যান্ডের দলীয় ৪১ রানের মাথায় বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন শফিউল ইসলাম। ১৬ রান করে মাশরাফি বিন মর্তুজার তালুবন্দি হন ওপেনার জেমস ভিঞ্চি। ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে জেসন রয়কে (৪১) সাব্বিরের ক্যাচে পরিণত করেন সাকিব আল হাসান। পরের ওভারেই রান আউটের ফাঁদে পড়েন জনি বেয়ারস্টো (০)।
দু’টি করে উইকেট নেন মাশরাফি, সাকিব ও শফিউল।
এ ম্যাচটি জিতলেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ ওয়ানডে জয়ের উল্লাসে মাতবে বাংলাদেশ। সবশেষ চারবারের দেখায় তিন ম্যাচেই শেষ হাসি হাসে টিম বাংলাদেশ। ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে যায় ইংলিশরা। একদিনের ক্রিকেটে তাদের বিপক্ষে আগের তিনটি জয় আসে ব্রিস্টল, চট্টগ্রাম ও অ্যাডিলেডে। এবার মিরপুরে প্রথমবারের মতো ইংলিশ-বধের অপেক্ষায় স্বাগতিক ক্রিকেটপ্রেমীরা।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে (২-১) ইংল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি সেরে নেয় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে ছন্দে না থাকলেও তৃতীয় ম্যাচেই ১৪১ রানের দাপুটে জয় তুলে নেয় মাশরাফিবাহিনী। যা নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে ১০০তম ওয়ানডে জয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের মাটিতে টানা ষষ্ঠ ওডিআই সিরিজ জেতার গৌরব অর্জন করে টিম বাংলাদেশ।
ফতুল্লায় অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরির (১২১) সুবাদে তামিম ইকবালের ওপেনিং সঙ্গী ইমরুল কায়েস। বাদ পড়েছেন ফর্মহীনতায় ভোগা সৌম্য সরকার। পেসার আল অামিন হোসেন ও নাসির হোসেনের একাদশে জায়গা হয়নি। এছাড়া, আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের একাদশটি অপরিবর্তিত।
নিজেদের শেষ ওয়ানডে থেকে ছয়টি পরিবর্তন আনে ইংলিশরা। অ্যালেক্স হেলস ও ইয়ন মরগান বাংলাদেশ সফরে আসেননি। ওডিআই সিরিজে বিশ্রামে জো রুট। ইনজুরিতে মার্ক উড ও বাদ পড়েছেন ক্রিস জর্ডান। হেলসের জায়গায় ওপেনিংয়ে জেমস ভিঞ্চি। এদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হয়েছেন ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেন ডাকেট। আর একটি টেস্ট খেলা পেসার জেক বল এবার ওয়ানডেতেও পা রাখলেন।





