সোমবার, ১৪ মার্চ ২০১৬
চট্টগ্রাম ডেস্ক ||
নগরীর কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা বান্ডেল রোডে অবস্থিত ‘সেবক কলোনি’। এ কলোনিতে যারা বসবাস করেন, তারা বন্দর নগরীর জনসাধারণের জীবনযাত্রা সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে নিজেদের হাত দিয়ে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। সেবকদের হাতের মাধ্যমে নগরজুড়ে জমেথাকা নোংরা ময়লা বজ্য স্থানকে বসবাসযোগ্য কিংবা স্বাস্থ্যকরে পরিণত করে তুলে প্রতিদিন।
এরা হচ্ছেন হরিজন সমপ্রদায়ের মানুষ। সমাজে অস্পৃশ্য! যাদের ‘মেথর’ বলা হয়। সমাজে তাদের পরিচয় নেই। অবহেলিত, বঞ্চিত। অনেকে জানে না, সমাজের বংশপরম্পরায় এ দুঃখী মানুষগুলোকে সবসময় পরম মমতায় বুকে আগলে রাখেন এ সাবেক নগর পিতা ‘জনদরদী আপোষহীন নেতা’ সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তাদের বিপদ-আপদে, সুখে-দুঃখে পাশে গিয়ে দাঁড়ান সবসময় মহিউদ্দিন চৌধুরী।
আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের নিজ বাড়িতে গতোকাল রোববার দুপুরে গিয়ে দেখা গেল, এ সেবকদের জন্য তিনি কি-না করেন!
পাথরঘাটার বান্ডেল রোডের সেবক কলোনির ১০ নবদম্পতিকে যুগলবন্দী করে দিয়ে তাদের জন্য আয়োজন করলেন বৌভাত। এরআগে গত ৬ মার্চ মহিউদ্দিন চৌধুরীর উদ্যোগে সেবক কলোনিতে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়।
গতোকাল বৌভাত অনুষ্ঠানে আসতে ১০ নববধুর জন্য ১০টি শাড়ি উপহার পাঠিয়ে দেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। এ অনুষ্ঠানে নবদম্পতিদের আত্মীয়-স্বজনদেরও আমন্ত্রণ করা হয়। আন্দরকিল্লার ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী দোতলা বাসে করে সেবক কলোনি থেকে আড়াইশ লোককে বৌভাত অনুষ্ঠানে নিয়ে আসেন।
বাড়ির তিন তলায় নব দম্পতিদের জন্য মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। নব দম্পতিদের সাথে মঞ্চে উঠেন মহিউদ্দিন চৌধুরীও। একে একে দম্পতিদের পরম মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ করেন তিনি। এসময় দম্পতিরাও মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পা ছুঁয়ে সালাম করে তার আশীর্বাদ নেন।
পরে মহিউদ্দিন চৌধুরী বৌভাত অনুষ্ঠানে এসে আনন্দ-উল্লাসে মত্ত সেবকদের শিশু সন্তানদের মঞ্চে তুলে নেন। এসময় তিনি পরম মমতায় তাদের আদর-সোহাগ করে গান করেন। কয়েকজন শিশুকে কোলেও তুলে নেন তিনি।
পরে তিনি মঞ্চ থেকে নব দম্পতিদের নিয়ে যান খাওয়ার টেবিলে। এসময় সেখানে ছুটে আসেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন। তিনিও দম্পতিদের সাথে খাওয়ার টেবিলে বসে পড়েন। দম্পতিদের মাঝে নিজ হাতে খাসি, মুরগীসহ নানা পদের খাবার পরিবেশন করেন তিনি।
জানতে চাইলে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে তাদের ঘটা করে বিয়ে দিয়েছি।আজকে বৌভাত খাওয়ালাম।’
‘আমি মেয়র থাকাকালীন সময়ে সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত এ সম্প্রদায়কে মর্যাদা দিয়ে সেবক নাম দিয়েছি। আমি তাদের আপন করে নিয়েছি। এসব সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি সমাজে তাদের প্রতিষ্ঠা করতে চাই,’ তার ইচ্ছার কথা ব্যক্তকরেন এ সাবেক মেয়র।
বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ২৪ বছরের যুবক সুমিত দাশের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কী যে আনন্দ লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। মহিউদ্দিন ভাইয়ের এ ঋণ আমরা শোধ করতে পারবো না।’
পাশে দাঁড়ানো তার নববধূ সঞ্জনা রানী দাশ বলেন, ‘সেজেগুঁজে অনেক খুশি লাগছে। আজকে নিজেকে সমাজের অন্য সবার মতো মনে হয় যা এতোদিন ভাবতাম না।’
একই পরিবারের একসাথে যুগলবন্দী হয়েছেন দুই ভাই-অকেশ দাশ ও অর্পণ দাশ। ছোট ভাই অকেশ দাশ বলেন, ‘ঘটা করে বিয়ে করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর কারণে আমরা তা করতে পেরেছি। তিনি মেয়র থাকাকালীন সময়েও আমাদের পাশে ছিলেন, এখনও আছেন।’

