রাশেদুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০১৬
চট্টগ্রাম : ‘মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক “নুরুল আজিম রনি” কে যুক্তিযুক্তভাবে কারাগার থেকে মুক্ত করতে আমিও মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে মাঠে থাকবো বলে ১৪ দলের আয়োজিত জনসভায় বলেছেন, জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি।’
তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট রনি কে ১৫মিনিট সময়ও না দিয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অথচ এতো চক্রান্তের পরেও খালেদা জিয়ার জেল হয় না।’
মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর লালদিঘী ময়দানে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে, জঙ্গিবাদ নির্মূল, ইয়াবা ব্যবসা ও গুপ্তহত্যা বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর ১৪ দল আয়েজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
উক্ত সভায় প্রায় সব বক্তার বক্তব্যেই উঠে আসে কারাবন্দি নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনির মুক্তির বিষয়। জনসভায় ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা রনির মুক্তি দাবি সম্বলিত বিভিন্ন ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে উপস্থিত হন। তারা রনির মুক্তির বিষয়ে ১৪ দলের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে একের পর এক স্লোগান দিতে থাকেন। রনির মুক্তির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের বেশ কয়েকবার থামান মোহাম্মদ নাসিম ও মঈনুদ্দিন খান বাদল।

চট্টগ্রাম লালদিঘিরর ময়দানে ১৪ দল আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
উক্ত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১৪ দলের সমন্বয়ক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করতে বিদেশীদের সরণাপন্ন হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তারা ইসরাইলের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে হাত মিলিয়েছে। সেই সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করা বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা হয়ে আসলাম চৌধুরী এই চট্টগ্রামের মানুষ। দেশী-বিদেশী কোনো ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে উৎখাত করতে পারবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন অবশ্যই হবে। তবে ২০১৯ সালের একদিন আগেও নির্বাচন হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীকে দেওয়া ওয়াদা রক্ষা করে চলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই হবে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।’
কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা রনির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রনির ব্যাপারটি আমি অবশ্যই দেখবো।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট রনির ক্ষেত্রে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে ১৫মিনিট সময়ও দেওয়া হয়নি। অথচ এত চক্রান্তের পরেও খালেদা জিয়ার জেল হয় না। তিনি বারবার সময় নেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রনি একজন ভালো সংগঠক হিসেবে সব মহলে পরিচিত। তাকে যুক্তিযুক্তভাবে কারাগার থেকে মুক্ত করতে আমিও মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে একসঙ্গে মাঠে থাকবো।’
দিলিপ বড়ুয়া বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত চক্র দেশের মানুষ থেকে পৃথক হযে এখন গুপ্তহত্যার পথ বেঁচে নিয়েছে। তারা মার্কিন সাম্র্যাজ্যবাদ ও স্বার্থবাদী মহলকে দেখাতে চাচ্ছে বাংলাদেশ ভালো নেই, এখানে নির্বাচন দিতে হবে, না হলে এরকম হত্যা চলতে থাকবে। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হবে না। আমরা ১৪ দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের মানুষকে নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে মোকাবেলা করবো।’
জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, ইদানিং তার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। শেখ হাসিনাকে হত্যার কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘রনির বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হয়ে থাকলে তা নস্যাৎ করা হবে। এজন্য ১৪ দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একই ছাতার তলে থাকতে হবে।’
উক্ত জনসভায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। তবে মহিউদ্দিন চৌধুরী কাতারে থাকায় জনসভায় যোগ দিতে পারেন নি।
নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, তরিকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব এমএ আউয়াল, ন্যাপ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এনামুল হক, জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, গণআজাদী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস কে সিকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাদাত হোসেন, বাংলাদেশ ওয়াকার্স পাটির কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরোর সদস্য কামরুল আহসান, বাসদ পলিটব্যুরোর সদস্য আবদুস সামাদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া প্রমুখ।
