href="https://www.ctgbarta24.com/wp-json/oembed/1.0/embed?url=http%3A%2F%2Fwww.ctgbarta24.com%2Fdsu-%25e0%25a6%25ad%25e0%25a6%25ac%25e0%25a6%25bf%25e0%25a6%25b7%25e0%25a7%258d%25e0%25a6%25af%25e0%25a6%25a4%25e0%25a7%2587%25e0%25a6%25b0-%25e0%25a6%25a7%25e0%25a6%25b0%25e0%25a7%258d%25e0%25a6%25b7%25e0%25a6%2595-%25e0%25a6%25a4%25e0%25a7%2588%25e0%25a6%25b0%25e0%25a6%25bf%25e0%25a6%25b0-%25e0%25a6%2595%25e0%25a6%25be%2F&format=xml" />

DSU: ভবিষ্যতের ধর্ষক তৈরির কারখানা

 

সিটিজিবার্তা ডেস্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬

‘পর্ণাসক্তি’- সমাজের একটি ভয়াবহ ক্যান্সার হিসেবে পরিচিত যা কিনা মানুষের নৈতিক মূল্যবোধকে নিয়ে  যায় একেবারে নিম্নস্তরে। একজন মানুষের চিন্তাভাবনাকে পুরোটাই যৌনতায় ঘিরে ফিলে তাকে করে তোলে নৈতিক মূল্যবোধহীন একটি সৃষ্টিতে! একটা সময় আমাদের দেশে পর্ণাসক্তদের একমাত্র ভরসা ছিল পাড়ার ডিভিডি, সিডি দোকানগুলো- এরপর আসল ইন্টারনেটের জোয়ার, নিষিদ্ধ এই দুনিয়াতে ঢোকা সহজ হয়ে গেলে আরো।

কিন্তু অতি সাম্প্রতিককালে মানুষকে বিকৃত রুচিতে পরিণত করতে জন্ম নিয়েছে একেবারেই নতুন একটি গোষ্ঠী- ফেসবুকের আনসেন্সরড গ্রুপগুলো। এসবে অবাধে চলে যৌনতার বিকৃত বহিঃপ্রকাশ, ব্যক্তিগত আক্রমণ, লাইভ পর্ণসহ আরো ব্যাপার-স্যাপার। বাংলাদেশের অনলাইন কমিউনিটিতে এ মুহুর্তে যে কয়টি ফেসবুকগ্রুপ এ ধরনের যুব-সমাজ ধবংসকারী কার্যকালাপে মদদ দিয়ে যাচ্ছে এর ভেতর উল্লেখযোগ্য হল Desperately Seeking Uncensored (DSU), UncensoredBD, Mairala সহ আর বেশ কিছু গ্রুপ। তবে এদের ভেতরে সবচেয়ে বেপরোয়া কার্যক্রম Desperately Seeking Uncensored  গ্রুপটির।

ডিসু নামে পরিচিত এই গ্রুপটিতে কি হয় না… যেকোন অপরিচিত মানুষের ছবি নিয়ে সেটাতে একেবারেই অগ্রনযোগ্য নোংরামি চলে কমেন্টে, যে কোন কাপলের ব্যক্তিগত ভিডিও ফাস হয়ে গেলে সেটার লিংক শেয়ার করবার প্রতিযোগিতা, সমাজের প্রতিষ্ঠিত নানা ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ আলোচনা থেকে সব কিছুই চলে সেখানে। এখানেই শেষ নয়! তাঁদের রয়েছে নিজস্ব ওয়েবসাইট যেখানে অশ্লীলতা, নোংরামি আর হয়ারানি চলে পূর্ন গতিতে!

মালয়শিয়া প্রবাসী Mohammad Raul Choudhury গত বছর DSU তৈরি করেন। প্রথম দিকে এই গ্রুপটিতে সীমাররেখার ভিতরেই পোস্ট শুরু করে এবং মানুষকে বিনোদিত করতে থাকে। তাই খুব অল্প সময়ের ভিতরেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। পাশাপাশি এই গ্রুপের মাধ্যমে রক্ত কিংবা ঈদ বস্ত্র বিতরনের মত কর্মকান্ড করা হয়েছিলো কিন্তু তার সংখ্যা খুব সামান্যই…

ধীরে ধীরে এই গ্রুপের সদস্যরা এডমিনের ছত্রছায়ায় বেপোরোয়া হয়ে উঠে।

একটা বিশাল গ্রুপে পরিণত হওয়ার পরে DSU এর নোংরামী আরও বেড়ে যায়। টিভি সিনেমার অভিনেতা অভিনেত্রী হতে শুরু করে নিরীহ সাধারণ জনগন (এমনকি যারা ফেসবুক ব্যবহারই করে না) সবাই এই গ্রুপের দ্বারা অনলাইনে লাঞ্ছনার শিকার হয়। এদের ছবি সংগ্রহ করে তা ফটোশপে অশ্লীল করে কিংবা বিভিন্ন গালিগালাজ ক্যাপশন দিয়ে ট্রল পোস্ট করা শুরু করে।

কারো বাড়ির জানালায় পর্দার ফাঁক দিয়ে, কারো বাথরুমে, রাস্তাঘাটে বাসে কোন মেয়ের বক্ষবন্ধনীর ফিতা কিংবা শরীরের অংশ ভুলবশত বেড়িয়ে গেলেও সেই মেয়ের ছবি ক্যামেরায় ধারণ করে তাকে নোংরা ভাষায় গালি দিয়ে পোস্ট করা হয়।  ফেসবুক আইডি বের করে মেয়েটিকে ইনবক্সে গালি-গালাজ করে, মেয়ের আত্মীয় স্বজনদেরকেও গালি গালাজ করে এরা। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে  যাচ্ছেতাইভাবে অপমান করে ব্যান করা হয় গ্রুপ থেকে।

এদের হাত হতে আবালবৃদ্ধবণিতা কেউই রক্ষা পায় না। কেউ এইভাবে ছবি তুলল কেন, কেউ ঐ ভাবে ছবি তুললো কেন, কেউ এই পোশাক পড়লো কেন, কেউ হিজাব এভাবে পড়লো কেন ইত্যাদি অজুহাতে একের পর এক এরা মানুষকে আক্রমন করছে।

আর ঠিক এভাবেই তাঁরা জন্ম দিচ্ছে ভবিষ্যতের ধর্ষকদের!

DSU তে ১৩ বছরের শিশু থেকে শুরু করে পঞ্চাশের বুড়োরাও রয়েছে। ভদ্র ভদ্র পরিবারের ছেলে মেয়েরা এই গ্রুপ থেকে কিভাবে মানুষকে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করা যায়, বিকৃত সেক্সুয়াল কথাবার্তা, নেশাদ্রব্য সেবন, সামাজিক নিয়ম বহির্ভুত সর্বধরনের শিক্ষা পাচ্ছে।

খোলামেলা ভাবে বিভিন্ন পর্ন লাইভ দেখাচ্ছে, পর্ন লিংক শেয়ার করছে। পর্ন আদান প্রদানকে তারা বিনোদনের মাধ্যম এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন হিসেবে মনে করে। মেয়েদেরকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করবার আখড়াতে পরিণত হয়েছে এটা।

সর্বশেষ এই সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেলে পড়ুয়া একটি মেয়ের ব্যক্তিগত ভিডিও ফাস করে দেয় অনলাইনে। মেয়েটির পরিচয় আর ভিডিওর লিংক ১ লাখ ২০ হাজার সদস্য সম্বলিত এই বিশাল গ্রুপ হতে একের পর এক শেয়ার করার পর হতে পুরো ফেসবুক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে পরে। মেয়েটিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়, এমনকি মেয়েটিকে ইনবক্সে, মেয়েটির আত্মীয় স্বজনের আইডিতেও গিয়েও গালিগালাজ করে এই গ্রুপের সদস্যরা। এমতাবস্থায় পরিস্থিতির শিকার মেয়েটি আর কোন উপায় না দেখে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। কিন্তু ভাগ্যগুনে বেঁচে যায়। পরবর্তীতে তাকে আই সিউ তে ভর্তি করা হয়। মেয়েটির বেঁচে যাওয়াটাও সদস্যদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। তারা পারলে মেয়েটিকে মেরেই ফেলে। এইভাবে এ পর্যন্ত বহু মেয়ের ব্যক্তিগত ভিডিও মুহুর্তেই ফেসবুকে সকলের কাছে প্রচার করার মত নোংরা কাজ করা হয়েছে।

এদের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হচ্ছে কেউ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে সাথে সাথে তার ফেসবুক আইডি গ্রুপে শেয়ার করে রিপোর্ট করে বন্ধ করে দেয়া হয় আর তাকে নানা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় ইনবক্সে। সর্বশেষ Womanchapter নামে নারী অধিকারের স্বপক্ষে কাজ করা একটি অনলাইন প্লাটফর্মে তাঁদের বিরুদ্ধে আর্টিকেল প্রকাশিত হলে তাঁরা সবাই আর্টিকেল লেখিকার ফেসবুক আইডি শেয়ার করে দারুণভাবে গালিগালাজ শুরু করে আর এক পর্যায়ে সবাই মিলে তাঁর আইডিতে রিপোর্ট করতে থাকেন। Womanchapter এর কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় যে ডিসু নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁদের ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয়। আর্টিকেল লেখিকা মারজিয়া প্রভাও জানিয়েছেন তাকে কিভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে গ্রুপটির বিরুদ্ধে কথা বলায়।

img_20160924_000848

এই প্রতিবেদন লেখবার সময় তাঁদের গ্রুপে ঢুকে প্রথমেই যেটা চোখে পড়ে তা হল, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে করা অত্যন্ত গর্হিত এবং আপত্তিকর পোস্ট যেখানে একজন সদস্য ফটোশপড করে পোস্ট করেছেন যে “প্রধাণমন্ত্রী” নিজেই পর্নাসক্ত!

একটি অনলাইন কমিউনিটি কিভাবে এরকম ধর্ষণকেন্দ্রিক মনোভাবকে উস্কে দিতে পারে তা বিশ্লেষকদের প্রশ্ন। এই গোষ্ঠীকে থামাতে দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতার কোন বিকল্প নেই, তা না হলে আমরা পাব একটি অথর্ব জেনারেশন।

 

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.