আমার দেখা সবচেয়ে সাহসী মানুষ হলেন শেখ হাসিনা : সাবেক সেনাপ্রধান

Friday,20 Oct 2017

Ctgbarta24.com

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থে বলেছেন, ‘আমার দেখা সবচেয়ে সাহসী মানুষ হলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু তাঁর ভাবনাগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মানুষ খুব কম। বাংলাদেশে নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিবিদ দ্রুত কমে যাচ্ছে। স্বার্থান্বেষী এবং সুবিধাবাদীরাই রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।‘

সম্পাদনার টেবিলে থাকা তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। বইটির সম্পাদনা শেষ পর্যায়ে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে বইটি প্রকাশ করবে পেঙ্গুইন র‌্যানডম।

বইটিতে সাবেক সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে বিচক্ষণতা, নিষ্ঠা, সততা ও একাগ্রতা প্রয়োজন, সেটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে আছে। তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অত্যন্ত সহাসী, তাঁর মতো সাহসী নেতা আমার কর্মজীবনে পাইনি।’ এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের দীর্ঘ বিবরণ দিয়েছেন। শেখ হাসিনার ক্যান্টনমেন্ট দরবারে বক্তৃতার বিবরণও দিয়েছেন।

তবে তারপরই মঈন ইউ আহমেদ লিখেছেন, ‘কিন্তু শেখ হাসিনা যেভাবে ভাবেন, যেভাবে চিন্তা করেন, তাঁর দলের অধিকাংশই সেভাবে এগুতে পারে না বা চায় না। শেখ হাসিনা যেভাবে পরিশ্রম করেন, তাঁর অর্ধেকও যদি তাঁর সহকর্মীরা করতো, তাহলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতো।’ সাবেক সেনাপ্রধান লিখেছেন, ‘ শেখ হাসিনা একাকী যোদ্ধা। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমার মাঝে মাঝে তাঁকে নি:সঙ্গ মনে হয়েছে। এমনকি তাঁকে সৎ ও সুপরামর্শ দেওয়ার লোকেরও বড় অভাব। সবাই (শেখ হাসিনা) খুশি করে কিছু পেতে চায়। সবাই তাঁর সুদৃষ্টি এবং অনুগ্রহ চায়।’

জেনারেল মঈন তাঁর লেখায় স্বীকার করেছেন যে, ’ওয়ান ইলেভেন দুই নেত্রীকে কার্যত আরও ক্ষমতাবান করেছে। দুই দলের একক ক্ষমতা এখন দুই নেত্রীর কাছে। অবশ্য বিএনপিতে বিষয়টি ভিন্ন। বিএনপির সিদ্ধান্ত আসলে বেগম জিয়ার পরিবারের হাতে। বেগম জিয়া ও তাঁর সন্তানই বিএনপিতে সর্বসময় ক্ষমতার অধিকারী।’

তিনি লেখেছেন, ‘শেখ হাসিনা পরামর্শ নিতে চান। যুক্তিসঙ্গত ভিন্নমত গ্রহণ করার ক্ষমতা ও সহনীয়তা তাঁর আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো তাঁকে পরামর্শ দেবে কে? মন্ত্রীরা সবাই (দুএকজন বাদে) চেয়ার বাঁচাতেই ব্যস্ত। আমলারাও নানা সুযোগ সুবিধার জন্য ব্যস্ত থাকেন।’

জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ তাঁর সেনা প্রধানের দায়িত্ব অব্যাহত রাখা প্রসঙ্গে কথা বলেন, ‘নির্বাচনের পর আমি নিশ্চিত ছিলাম, আমি আর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে থাকছি না। হয়তো নতুন কাউকে আমার র‌্যাংক পরিয়ে দিতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই আমি নির্বাচনের পরপরই সুধাসদনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তিনি আমাকে দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে বলেন, সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেন।

সেদিন তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী বিদেশে অনেক সুনাম অর্জন করেছে। রাজনীতির মধ্যে এসে সেনাবাহিনী কেন সেই সুনাম নষ্ট করবে? তিনি আমাকে বলেন, ‘জাতির পিতা আধুনিক পেশাদার একটি সেনাবাহিনী গড়তে চেয়েছিলেন। সেটাই আমি চাই। তিনি পেশাদারিত্বের মান বৃদ্ধির জন্য কি কি প্রয়োজন তাঁর একটি তালিকা চেয়েছিলেন। আমি একটি উপস্থাপনা দেই। এটা খুবই আনন্দের যে সেই উপস্থাপনার আলোকে সেনাবাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে।’

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image