সিটিজিবার্তা২৪ডটকম : আমি বিন্দু পরিমাণ রাগে ক্ষোভে বলছি না। পরিসংখ্যান ও তীরে এসে তরী ডুবে যাওয়া ম্যাচগুলার পরিস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে। ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে ২ রানে হারা কিংবা ২০১৪ সালের হতাশার বছরে একাধিক ক্লোজ ম্যাচ হারার আলোচনা নাই বা করলাম। যদিও পরিসংখ্যানের কথা আসলে সেই ম্যাচগুলাও আসবে। কিন্তু আমি মাত্র ২ টা ম্যাচেই সীমাবদ্ধ থাকব ২০১৬ সালের।
টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতের সাথে ১ রানের হারকে শুধুমাত্র ট্র্যাজিডি বলা ভুল। যে বোকামি ফিনিশিং এ এসে ব্যাটসম্যানরা করেছিল তার কারণেই আমরা হেরেছিলাম। আর আজকের পরাজয়টা তো রীতিমত কাটগড়ায় দাঁড় করানোর মত অবস্থা তৈরি করে দিয়েছে!!
ক্রিকেটাররাই আমাদের আনন্দ দেয়। তাদের জন্য হাঁসি তাদের জন্য কাঁদি তাদের জন্য অভিমান করি। কিন্তু তা যখন তার ও তার পরিবারের মানুষদের গালাগালি থেকে শুরু করে নিকৃষ্ট পর্যায়ে চলে যায় তা কখনোই সভ্যতার ভিতর পড়ে না। তবে এটাও ঠিক মেনে না নেবার মত কাজ করলে প্রকৃতভাবে কঠোর সমালোচনা করার অধিকার সমর্থকদের আছে। আর সেজন্যই আমার এই পোস্ট।
৫২ বলে ৩৯ রান দরকার হাতে ৬ উইকেট এখান থেকে ১৭ রানের ভিতর শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ২১ রানে হারার কোন কারণ আসলেই যুক্তিসঙ্গত নয়। ক্রিকেট যতই অনিশ্চয়তার খেলা হোক আজ হারার জন্য এই কথা প্রযোজ্য নয়।
৪ টি ক্যাচ ফেলে না দিলে ইংল্যান্ড ২৫০ ও করতো না এটা বুঝার জন্য পণ্ডিত হওয়া লাগে না। তারপরেও এই ম্যাচ ইমরুল আর সাকিব যে ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল তাতে ৪ ক্যাচ মিসের কথাকে অগ্রাধিকার না দাওয়াই ভালো।
অবশ্যই এটা হারার কারণের বাহিরে নয় তবে লাস্টে ব্যাটিং যা হল তারপরে এই কারণ দাঁড় করানো নিতান্তই অজুহাত। সাকিব ঠাণ্ডা মাথায় খেলতে থাকার পরে রিস্কি শট কেন খেলল বুঝলাম না। কি অসাধারণ একটা ইনিংস ছিল যার পরিণতি সফল হল না। ইমরুল কায়েস পায়ে টান লাগার পরেও হাল ধরে ছিল অনেকক্ষণ। ১০৮ রানের এই ইনিংসের মর্যাদা বাকি ব্যাটসম্যানরা দিতেই পারলো না। আফগানদের সাথে ৩৭ রান করেও ০ রানে সৌম্যর কাছে জায়গা হারানোর একটা জবাব তার ব্যাট দিয়ে ইমরুল ধারালো তলোয়ারের মতই দিল সে। আফসোস আজ ম্যাচের নায়ক হতে পারলো না!!
সৈকত ভালো একটা বলে আউট হলেও ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক কেন আদিল রশিদের এত বাহিরের বল খোঁচা মেরে দলকে খাঁদে নিয়ে গেল কিছুতেই বুঝতে পারছি না। তখনো আমরা একটু নার্ভ ধরে রাখলে জিততে পারতাম। শফিউলের রান আউট মেনে নেওয়া যায় না। তাসকিন আর মোশাররফের কাছে লাস্ট জুটিতে কি বা আশা করা যায়!!
তারপরেও করেছে অনেকেই কিন্তু কাজ হয়নি। একটি বিষয় পানির মত পরিষ্কার বাংলাদেশের টেলএল্ডাররা অন্যান্য টেস্ট দল তো বটেই আফগানিস্তান আয়ারল্যান্ড স্কটল্যান্ড এর থেকেও বাজে। বাকি দলগুলা বোলারদের নিয়েও নেটে বাড়তি মনোযোগ দেয় ব্যাট করানোর জন্য যাতে বিপদে দলের কাজে লাগে। আমাদের টেল এল্ডাররা নেটে কতটা সময় দেয় তা তাদের ব্যাট ধরা দেখলেই বুঝা যায়!!!
অপ্রিয় সত্য আজ ভালো লাগবে না জানি। আজ দ্যা ফিনিশার নাসিরের অভাব প্রকটভাবে টের পাওয়া গেল। ম্যানেজমেন্ট কোন কোন প্লেয়ারের থাকা না থাকা নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা করছে এটা অস্বীকার বা অবিশ্বাস করা আর জেগে ঘুমানোর ভান করা একই কথা। হাতুরাসিংহে দারুণ একটা কোচ কিন্তু অনেক ক্ষমতা পাওয়ায় স্বেচ্ছাচারী হয়ে গেছে বলাই যায়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ম্যাশের মনের মত দল নিয়ে আমরা মাঠে নামছি না। টি ২০ বিশ্বকাপে এই মতবিরোধ হয়েছিল তা পরে জানা গিয়েছে।
এবার একটু ফিল্ডিং নিয়ে বলি। আফগানদের সাথে ৩ ম্যাচে ৫ ক্যাচ মিস আর আজকে ১ ম্যাচেই ৪ ক্যাচ মিস। ফিল্ডিং কোচের কোন সমস্যা নাকি খেলোয়াড়রা স্কিল প্রয়োগ করতে না পারার সমস্যা এটা দ্রুত বের করা দরকার। আর আল্লাহ্র দোহাই লাগে স্লগ ওভারে ভালো করতে না পারা আর টেল এল্ডারদের ব্যাটিং নিয়ে বোর্ড যেন বাড়তি নজর দেয়। তা না হলে আমরা বারবার ক্লোজ ম্যাচ হারতেই থাকব আর ২০১৫ সালের অর্জন করা আত্মবিশ্বাস হারাতে থাকব। পরের ম্যাচে মোশাররফ রুবেলকে বাদ দিয়ে নাসিরকে নামানো সময়ের দাবী। ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ২ টা ক্যাচ মিস করেছে যা অসাধ্য ছিল না।
তবে দিন শেষে আবারো বলব হারের বৃত্ত থেকে বের হব এই বিশ্বাস রাখতেই হবে। সামনের ম্যাচেই টাইগাররা ঘুরে দাঁড়াবে। জয় হবেই। বাঘের গর্জনে আবারো মেতে উঠবে ১৬ কোটি প্রাণ !!!
লেখক: রেজাউল ইসলাম শুভ







