Wednesday,27 Sep 2017
Ctgbarta24.com
কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের প্রায় ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে বঙ্গোপসাগর থেকে আট লাখ পিস ইয়াবাসহ চার জনকে আটক করেছে র্যাব-৭। এসময় একটি ফিশিং ট্রলারও জব্দ করা হয়।
আজ বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর রাত সাড়ে ৪ টার দিকে মেজর মোঃ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে র্যাব- ৭ তাদের আটক করেন।
আটককৃতরা হচ্ছেন, মিয়ানমারের মংডুর হাসসুরাতা এলাকার আবুর বশরের পুত্র হাফিজুল্লাহ (২৪), নারিবিল এলাকার মৃত হোছনের পুত্র বদি আলম (৪৫), বুছিডং থানার কিতার বিল এলাকার মৃত নজু মিয়ার পুত্র মোঃ জমিল (২৪) এবং টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ধুমপ্রাংবিল এলাকার মৃত সোবহান হাওলাদারের পুত্র মোহাম্মদ আলী (৪৫)।
র্যাব-৭ কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোঃ রুহুল আমিন বিকাল সাড়ে ৪ টায় সাংবাদিকদের বলেন ‘মিয়ানমার এবং দেশীয় চোরাচালানীদের বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্র মাছ ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার চালান মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। এমন গোপন সংবাদে র্যাব-৭ এর একটি টহল দল ফিশিং ট্রলার দেখে ধাওয়া করে এক পর্যায়ে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে ফিশিং ট্রলারটি তল্লাশী করে মাছ রাখার প্রকোষ্ঠের ভিতর সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৪০ কোটি টাকা পরিমাণের ৮ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।এসময় মিয়ানমারের ৩ নাগরিকসহ ৪ জনকে আটক করা হয় এবং ফিশিং ট্রলারটি জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ফিশিং ট্রলারটির কোন বৈধ কাগজ পত্র ছিলনা। যা ছিল তাও নষ্ট করে পানিতে ফেলে দিয়েছে। আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব ইয়াবার গডফাদার কারা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও আসামীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হবে। র্যাব-৭ এর একটি দল এনিয়ে কাজ করছে’।
তিনি আরও বলেন ‘র্যাব-৭ জানুয়ারী ২০১৬ থেকে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখ ১২ হাজার ৮৬৫ পিস ইয়াবা, ৪৫ হাজার ৯৪ বোতল ফেন্সিডিল, ৩ হাজার ১৪১ বোতল বিদেশী মদ ও বিয়ার, ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩০২ লিটার দেশী মদ, ৬২২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ১ কেজি ২০০ গ্রাম হেরোইন এবং ২ কেজি ৪০০ গ্রাম আফিম উদ্ধার করেছে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সহিংসতা, দমন, নিপীড়ন স্বত্বেও নাফ নদ দিয়ে ইয়াবা পাচার থেমে নেই। প্রতিদিন আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে লাখ লাখ পিস ইয়াবাসহ আটক হচ্ছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি বড় বড় ইয়াবার চালান আটক করেছে বিজিবি। একদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল, অপরদিকে ওই মিয়ানমার রোহিঙ্গারা নিয়ে আসছে ইয়াবার বড় বড় চালান। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক ও হয়েছে।









