মাদক রোধে গণমাধ্যমকে ভূমিকা পালন করতে হবে

মাদকবিরোধী সেরা প্রতিবেদনের পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:৪৪

প্রধান তথ্য কমিশনার গোলাম রহমান বলেছেন, মাদকের বিস্তার রোধে গণমাধ্যমকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশে আরও সতর্ক হতে হবে, যাতে প্রচারের মাধ্যমে মানুষ মাদক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হয়।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সেরা প্রতিবেদন পুরস্কার অনুষ্ঠান ও পরামর্শ সহায়তার ৭৫তম আসরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান তথ্য কমিশনার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পত্রিকা ও টেলিভিশন থেকে তিনজন করে ছয়জনকে সেরা প্রতিবেদনের পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রথম আলো ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও এনভয় গ্রুপের প্রধান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, যে পরিবারে মাদকের থাবা পড়েছে, সে পরিবার জানে এর ভয়াবহতা কেমন। যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, প্রথম আলো মাদক ও অ্যাসিড–সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শুরু থেকে সোচ্চার থেকেছে। যা পরে সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। তিনি আরও বলেন, মাদক কেবল যে মাদক নিচ্ছে তাকেই ধ্বংস করে না, আশপাশের মানুষকেও তছনছ করে দেয়।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, সংবাদপত্র যদি চায় তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। তিনি মাদক নিয়ে আরও গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির প্রতি জোর দেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি মাদক নিয়ে আরও ভালো প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পুরস্কার পাওয়ার জন্য সংবাদপত্র থেকে ৩১টি প্রতিবেদন ও টেলিভিশন থেকে ২৭টি প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে বাছাই করে সংবাদপত্রে তিনজন ও টেলিভিশনে তিনজনকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

সংবাদপত্র শাখায় প্রথম খুলনার দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জয়নাল ফরাজী, দ্বিতীয় দৈনিক আমাদের সময়–এর স্টাফ রিপোর্টার হাসান জাভেদ, তৃতীয় দৈনিক নয়াদিগন্ত–এর স্টাফ রিপোর্টার (চট্টগ্রাম) এস এম ওমর ফারুক।

টেলিভিশন শাখায় প্রথম ইনডিপেনডেন্ট টিভির বিশেষ প্রতিনিধি মাহবুব আলম লাবলু, দ্বিতীয় বাংলাভিশন–এর স্টাফ রিপোর্টার দিপন দেওয়ান। তৃতীয় চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোস্তফা কামাল মল্লিক।

প্রথম স্থান অধিকারীদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের ২৫ হাজার ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রত্যেককে একটি সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে প্রচারিত প্রকাশিত প্রতিবেদনের জন্য ছয়জন সাংবাদিককে ‘মাদকবিরোধী সেরা প্রতিবেদন পুরস্কার ২০১৬’ দেওয়া হয়। ২০১০ সাল থেকে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মাদকবিরোধী সেরা প্রতিবেদনের জন্য ছয়জনকে পুরস্কৃত করেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলন।

অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমীন, আইনজীবী তানজিব উল আলম, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহিত কামাল, প্রথম আলো মাদকবিরোধী আন্দোলনের উপদেষ্টা মনোরোগ চিকিৎসক আহমেদ হেলাল, মেখলা সরকার, সুলতানা আলগিন, জিল্লুর রহমান খান, অভ্রদাশ ভৌমিক ও ফারজানা রহমান; বন্ধুসভার জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী সভাপতি সাইদুজ্জামান রওশন, প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কারী ফেরদৌস ফয়সাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আজিজা আহমেদ।

এ পর্যন্ত ৭৪টি মাদক পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ পরিবার অংশগ্রহণ করে। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে (৯১২১২২৩) ফোন-ইনে প্রায় গড়ে ৩০টি ফোন আসে। মনোরোগ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা মাদকাসক্তি নিরাময়ের জন্য তাঁদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন। প্রতিবছরের ২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সারা দেশে চলে ব্যাপক আয়োজন।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রথম আলো মাদকবিরোধী কনসার্ট, মাদকবিরোধী স্টিকার প্রতিযোগিতা, মাদকবিরোধী সেরা প্রতিবেদন পুরস্কার, গোলটেবিল বৈঠক, শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাদকবিরোধী বন্ধু মেলাসহ বিভিন্ন আয়োজন। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি, বিজ্ঞাপন, সম্পাদকীয় ও চিঠিপত্র প্রকাশ করা হয়, যা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে। সারা দেশে বিলি করা হয় স্টিকার, পোস্টার, লিফলেট।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.