যেভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন তাঁরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০১৭

যেভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন তাঁরা

পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দুটি চক্রের নয়জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এই নয় ব্যক্তির মধ্যে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় ডিবি।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মোঃ মোজাফফর হোসেন (প্রিন্সিপাল, গাজীরচট এএম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, আশুলিয়া, ঢাকা),  মোঃ হামিদুর রহমান তুহিন  (শিক্ষক, কোনিয়া কোচিং সেন্টার, টঙ্গী), মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (গনিত শিক্ষক, সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজ), মোঃ আতিকুল ইসলাম (শিক্ষক, এএম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ), মোঃ আব্দুল মজিদ (অফিস সহকারী, এএম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ), মোঃ আরিফ হোসেন আকাশ উরফ আদু ভাই (ছাত্র), মোঃ সাইদুর রহমান (ছাত্র) , মোঃ রাকিব হোসেন (ছাত্র)  ও  তানভীর হোসেন (ছাত্র)।

গ্রেফতারকৃতদের ব্যবহৃত ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন সাইটের একাউন্ট হতে জেএসসি/২০১৬ (বাংলা ২য় পত্র গনিত ইংরেজী কৃষি শিক্ষা,চারু ও কারু কলা), এইচএসসি/২০১৬ (উচ্চতর গণিত ১ম পত্র, রসায়ন, জীব বিজ্ঞান) এসএসসি/২০১৭ (বাংলা ২য় পত্র ইংরেজী ১ম পত্র, ইংরেজী ২য় পত্র গণিত, পদার্থ) সালের পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয়ের ভূয়া প্রশ্নপত্র, পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব সম্বলিত স্ক্রীনশট এবং ০৯ টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে।

যেভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন তাঁরা

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, সাধারণত তিনটি পর্যায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। প্রথম পর্যায়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটিতে যাঁরা থাকেন, তাঁদের কারও মাধ্যমে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মুদ্রণস্থান (বিজি প্রেস) থেকে। তৃতীয় পর্যায়ে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পরীক্ষার কেন্দ্র-উপকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র সরবরাহের সময়। গ্রেপ্তার হওয়া নয় ব্যক্তি প্রশ্নপত্র ফাঁসের তৃতীয় পর্যায়ের সঙ্গে জড়িত।

আবদুল বাতেন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন অধ্যক্ষ মোজাফফর। তিনি পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র আনার সময় ছবি তুলতেন। এই ছবি শিক্ষক আতিকুলের কাছে পাঠাতেন তিনি। প্রশ্নের সমাধান করে তা একটি বিশেষ ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিনের কাছ পাঠাতেন আতিকুল। প্রায় দুই হাজার সদস্যের ওই বিশেষ ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিনের নাম জি এম সাগর। তিনি প্রশ্ন ও উত্তর ফেসবুক গ্রুপে দিয়ে দিতেন। বিনিময়ে ফেসবুক গ্রুপের সদস্যদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা করে আদায় করতেন। এই টাকা পুরো চক্রের মধ্যে বণ্টন হতো।

ডিবির এই যুগ্ম কমিশনার বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দ্বিতীয় চক্রের নেতা শিক্ষক জাহাঙ্গীর। তিনিও একই কায়দায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image