জেনিফার আলম : আমার ভীষণ লজ্জা করছে এটা বলতে যে আক্ষরিক অর্থেই আমি তনু হত্যার বিচার চাই না।বিচার চাই না কারন বিচার কেন চাইতে হবে এটাই এখন মনে প্রথম প্রশ্ন। তনু হত্যার বিচার চেয়ে ফেইসবুক এবং তনুর সহপাঠীরা যখন ব্যাস্ত তখন ঠিক একই ভাবে দেশের সবচেয়ে প্রথিতযশা মিডিয়া এবং চ্যানেলগুলো নিরব।এই নীরবতা কিন্তু অন্য রকম ইঙ্গিত দেয়। আর আমরা একটি দেশের নাগরিক এবং সেই দেশের সবচাইতে সিকিউরড এরিয়া তে ১৯ বছরের একজন মেয়ে ধর্ষন এবং হত্যার শিকার হলো এবং সাধারন জনগন কে তার জন্য বিচার চেয়ে স্ট্যাটাস, ইভেন্ট এবং রাস্তায় নামার মত পরিস্থিতি দিয়ে যখন যেতে হচ্ছে, সেখানে একজন সাধারন মানুষ হিসাবে আমার অনুভূতি হলো, আদৌ বিচার পাবোতো?
আর এই অনুভূতি থেকেই যেই ক্ষোভ মনে জন্ম নিচ্ছে সেটি বলছে আসুন আমরা চুপ করে থাকি যতক্ষন পর্যন্ত না আমরা এমন সমাজ বা আইন প্রনয়ন করতে পারবো যে, একটা মেয়ে ইভ টিজিং বা ধর্ষন বা যে কোন হয়রানীর শিকার হলে এই নিশ্চয়তা পাবে যে এই অপরাধের বিচার হবে। পাঠক মাত্রই এখন এই লেখার দিকে ভ্রুকুটি করে তাকাবেন যে গত ২দিন ফেইসবুক জুড়ে এবং বিভিন্ন সংগঠন তনুর বিচার দাবি করে রাস্তায় নেমে এসেছেন কারন এখন পর্যন্ত অপারাধীই সনাক্ত হয় নাই আর এর মধ্যে আমি দিবাসপ্ন দেখছি কিনা!
আজ প্রায় ৪০হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছেন, বিচার দাবি করছেন কিন্তু এই হত্যাকান্ডের কিন্তু খুনীরা এখন পর্যন্ত ধরা ছোয়ার বাহিরে আদৌ ধরা পরে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে কিনা সেটাই চিন্তার বিষয়.কিছু প্রশ্ন যা এসেছে সেগুলো হচ্ছে ক্যান্টনমেন্ট একটি সিকিউরড এরিয়া এবং যে জায়গাটি ঘটনা হলো সেখানে সি সি টিভি ক্যামেরা এবং টহল ব্যাবস্থা থাকার পরেও এখন পর্যন্ত একজন কেও সনাক্ত করা যায় নি ব্যাপারটা যথেষ্ট রহস্যজনক। এবং এই নিয়েও আমাদের মিডিয়া প্রায় নিরব।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্যন্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু পুলিশ এবং সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হয় নাই।
এই পরিস্থিতিতে তাই আমার আসলে ফেইসবুক থেকে হ্যাসট্যাগ দিয়ে বা রাজপথে গলা ফাটিয়ে সত্যিকার অর্থেই বিচার বের করে আনতে পারবো কিনা সেটাই দেখার বিষয়। কিন্তু এবারও যদি অপরাধী ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে যায়, তবে সেটি যে আরও কত গুলো ধর্ষন এবং হত্যা কে প্ররোচিত করবে সেটাই দেখার বিষয়। এবং সেই অপরাধের শিকার হয়তো হবো আমি বা আপনারী পরিবারের কেউ। তাই সিদ্ধান্ত আপনার চুপ করে থাকবেন নাকি বিচারের জন্য আওয়াজ তুলবেন?!







