এক সপ্তাহে মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি

বৃহস্পতিবার,১১ আগস্ট ২০১৬

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

সাইফুদ্দিন ছোটন,ভোলা প্রতিনিধি : ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ফেরীঘাট পয়েন্ট দিয়ে ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে । গত এক সপ্তাহে মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ।

বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়ে রাস্তাঘাট ও বিস্তীর্ন ফসলের ক্ষেত ধ্বসে যাচ্ছে মেঘনা গর্ভে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এবছর ভাঙন প্রতিরোধে এ পর্যন্ত পৌনে ৩ লাখ জিও ব্যাগ ভর্তি বালির বোস্তা দিয়ে ডাম্পিং কাজের বরাদ্ধ হয়। কিন্তু উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির তোরে এখন মেঘনার ভাঙ্গন হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় বরাদ্ধকৃত জিও ব্যাগের পরিমান প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আরো ২ লাখ জিও ব্যাগ বরাদ্ধ না করলে ইলিশা জংশনের কয়েক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, পুলিশ তদন্তকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি আগামী এক মাসের মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। দ্রæত ভোলার হার্ডপয়েন্ট রক্ষায় জিও ব্যাগ বরাদ্ধের জোর দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন ভোলা সদর উত্তরের জনগন।এরই মধ্যে ভোলার চারটি ইউনিয়নের সিংহভাগ, ২টি গুচ্ছ গ্রাম, একটি ইসলামী ফাউন্ডেশন হাসপাতালসহ রাজাপুর ইউনিয়নের অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অসংখ্য মাছের ঘের ও স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ৩টি বাজার, একটি পুলিশ ফাড়ি, ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২টি কউিনিটি ক্লিনিক, ২টি মৎস্য আড়ৎ ও দুটি লঞ্চঘাট।ভাঙ্গন রোধে পাউবো জিও ব্যাগ ডাম্পিং-এ ভাঙন কিছুটা বন্ধ হলেও জিও ব্যাগের অভাবে যে কোন মুহুর্তে মহা বিপর্যয়ের মধ্যে পরতে পারে ভোলা, এমনটিই মনে করছেন ভোলাবাসী।সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ইলিশা ইউনিয়নের পন্ডিতের হাট এলাকা থেকে মুরাদ শফিউল্ল্যা পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নূতন করে তীব্র ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৪৮ ঘন্টায় ৪’শ মিটার এলাকা বিলীয় হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষায় দোকানপাট ও বসত ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন মানুষজন। তবে এরা কোথায় আশ্রয় নিবেন সে চিন্তায় দিশেহারা।স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন মেম্বার বলেন, গ্যাস সমৃদ্ধ ভোলাকে রক্ষা করতে হলে ভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু পাউবো যে হারে কাজ করছে তাতে ভাঙ্গন রোধ সম্ভব নয়, বেশী বেশী জিও ব্যাগ ফেলে দ্রæত আপদ কালীন ভাঙ্গন রোধে কাজ করা প্রয়োজন।তিনি বলেন, গত ১৫ দিনের তীব্র ভাঙ্গনে ৫শতাধিক ঘরবাড়িসহ অন্তত ৬০ একর জমি মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। সহায় সম্বল হারিয়ে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, মেঘনা এখন ইলিশা জংশন বাজার ভাঙা শুরু হরেছে। ভাঙ্গন রোধ করা না হলে বাজারের ২ হাজার ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। বিলীন হয়ে যাবে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও ক্লিনিকসহ বিভিন্ন স্থাপনা।মৌলভীরহাট হোসাইনিয়া ডিগ্রি মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর সারে সাত কোটি টাকা ব্যায়ে পায়েল খায়ের প্রজেক্ট মাদ্রসার একটি ভবন সির্মান করেছে, দ্রæত জিও ব্যাগের বরাদ্ধ না বাড়ালে আগামী ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সব লন্ড-ভন্ড হয়ে যাবে। ভোলা বাচাতে ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়ার দাবীও জানান তিনি।এদিকে, মেঘনায় ভাঙ্গনের ফলে দীর্ঘদিন যাবৎ ইলিশা ঘাট থেকে ভোলা-লক্ষীপুর রুটের ফেরী সার্ভিস বন্ধ রয়েচে।

ভাঙ্গন কবলিত হাসান কেরানী বলেন, সহায় সম্বল বলতে একটি মাত্র ঘর ছিলো, কিন্তু মেঘনায় বসত ঘরটা ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে, এখন কোথায় আশ্রয় নিবে কিছুই বুঝতে পারছিনা।ভাঙ্গন কবলিত ইব্রাহীম, তছির বেপারী, রেবু ও হানিফ খলিফা জানায়, মেঘনায় এ পর্যন্ত তিনবার ভেঙেছে তাদের বাড়িঘর। আশ্রয় নিয়েছেন জংশন বাজারের সাথে, কিন্তু তা ও ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। তাই কোথায় গিয়ে নতুন ঠিকানা তৈরী করবেন সে চিন্তায় দিশেহারা।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আকতার জানান, মেঘনার ভাঙন থেকে ভোলার হার্ডপয়েন্ট রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া পৌনে তিন লাখ জিও টেক্সটাইল ব্যাগের বরাদ্ধ প্রায় শেষ। আগামী দুই মাসের উজান থেকে নেমে আসা ঢল থেকে ভোলাকে রক্ষা করতে হলে দ্রæতসময়ের মধ্যে আরও এক লক্ষ জিও ব্যাগের বরাদ্ধ প্রয়োজন। নচেত তিন মাস ধরে ভাঙ্গনরোধে কাজ করা সকল বরাদ্ধ ভেস্তে যেতে পারে।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.