মাহাবুবুল করিম
সিটিজিবার্তা, নিউজ ডেস্ক ঃ আজ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার। এই বছরের শেষ দিন। আজকের দিনটি পার হলেই হারিয়ে যাবে দেয়ালে গত এক বছর ধরে টানানো ক্যালেন্ডারটির গুরুত্ব। সেখানে ঝুলবে আরেকটি নতুন ক্যালেন্ডার। দিনটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে আরেকটি বছর। স্মৃতির খেরোখাতা থেকে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মুছে শুরু হবে নতুন বছর। অনেক ঘটন-অঘটন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, চড়াই-উৎরাই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আনন্দ-বেদনার সাক্ষী এই বিদায়ী বছর। নানা ঘটনা প্রবাহে আলোচিত ইংরেজি ২০১৬ সাল। সেইন্ট গ্রেগরি প্রবর্তিত ক্যালেন্ডারের হিসাবে এখন সামনে সমাগত ২০১৭।
সময় এক প্রবহমান মহাসমুদ্র। কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়া, পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। তাই তো জীবন এত গতিময়। যে প্রত্যাশার বিশালতা নিয়ে ২০১৬-এর প্রথম দিনটিকে বরণ করা হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার সব কি পূরণ হয়েছে? এ হিসাব না হয় নাইবা করলাম।
বিদায়ী বছর প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির দোলাচলে নিয়েছে অনেক কিছু। তারপরও নতুন বছরের নতুন সূর্যালোকিত দিনের প্রতি অসীম প্রতীক্ষা ও প্রত্যাশা মানুষের মনে। নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন। চোখের সামনে এসে দাঁড়ায় ধূসর হয়ে আসা গল্পগাঁথার সারি সারি চিত্রপট। কখনো বুকের ভেতর উঁকি দেয় একান্তই দুঃখ-যাতনা। কখনো পাওয়ার আনন্দে নেচে উঠে হৃদয়। এ বছরটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে আমাদের জীবনে, এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের।
‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এ কথার মতই দুঃখ, কষ্ট সব কিছু কাটিয়ে নতুন জীবনের দিকে যাত্রার প্রেরণা পেতে চাই। নতুন বছরটি যেন সমাজ জীবন থেকে, প্রতিটি মানুষের মন থেকে সকল গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি থেমে গিয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ যেন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
বছরের এক-একটি দিন কালের ঘূর্ণাবর্তে সামনে আসে নতুন নতুন ঘটনা নিয়ে। এসব ঘটনার কোনোটি ছিল ইতিবাচক। আবার কোনোটি ছিল রোমহর্ষক ও আতংকের। বিদায়ী বছরে জাতীয় জীবনে আসা এমন ক কয়েকটি ঘটনা চিহ্নিত করা যায়, যা দেশবাসী মনে রাখবে অনেকদিন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি :
গত ৫ ফেব্রুয়ারি (৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। বাকি ২ কোটি যায় শ্রীলংকায়। শ্রীলংকা থেকে দুই কোটি ডলার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ফিরে এসেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আর ফিলিপাইন থেকে দেড় কোটি ডলার পাওয়া গেছে। বাকি অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া এখনও চলছে। চলতি বছর জাতীয় জীবনে আলোচিত বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে এটা অন্যতম। দেশের ভেতরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ চুরি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনা দেশ-বিদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে সরকার ঘটনা তদন্ত করিয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও এ ঘটনা তদন্ত করছে। বিভিন্ন তদন্তে এ ঘটনায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কিছু ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১০০ জনেরও বেশি কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বেশ কয়েকজন কর্মীর বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ঘটনাকালে দায়িত্ব পালনকারী গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে বলা হচ্ছে, সাইবার হামলা ঠেকানোর মতো ফায়ারওয়াল না থাকায় এবং সুইফটের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক সুইচের দুর্বলতার কারণে এ অর্থ চুরি হয়েছে।
আরও অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মী জেনেশুনেই ব্যাংকের সুইফট নেটওয়ার্ক অনিরাপদ করে রেখেছিলেন। কয়েকজন বিদেশীর সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এমনটা করা হয়। আর এভাবে ওই কর্মীরাই রিজার্ভের অর্থ চুরিতে সহায়তা করেছেন।
এ ঘটনায় অবশ্য জড়িত হিসেবে কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর কোনো একটা নির্দেশনা আসতে পারে।
বছরজুড়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড:
বছরের শুরুতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় তনু হত্যাকাণ্ড। ২০ মার্চ সেনানিবাস এলাকায় নিজ বাড়ির কয়েকশ গজ দূরেই খুন হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু। সেনানিবাস সংলগ্ন সংরক্ষিত এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। তবে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আজও হয়নি। গত ৬ এপ্রিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র নাজিমউদ্দিন সামাদকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের মতে, নাজিম ধর্মবিরোধী বা ব্লগার ছিলেন না। তবে বিভিন্ন সময়ে মতামত তুলে ধরে ফেসবুকে সত্রিুয় থাকতেন। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীও ছিলেন সামাদ।
গত ২২ এপ্রিল প্রকাশ্য দিবালোকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সাধু পরমানন্দ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য বা কারও সঙ্গে বিরোধ ছিল না বলে দাবি পরিবারের। তবে বাসুরিয়া রসরাজ ঠাকুরের অনুসারী ছিলেন তিনি। সেখানে সনাতন ধর্মের তপস্যা করতেন। গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকায় বাড়ির কাছেই নির্মমভাবে কুপিয়ে তাকে খুন করা হয়।
গত ২৫ এপ্রিল গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের কয়েকশ গজ দূরে প্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলীকে। রুস্তম আলী ‘সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর’ পদে ছিলেন। গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে কলাবাগানের লেক সার্কাস এলাকায় ৫/৭ যুবক জুলহাস মান্নানের বাসায় ঢুকে তাকে এবং তার বন্ধু তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে। সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সাময়িকী ‘রূপবান’ সম্পাদক জুলহাস আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনির খালাতো ভাই।
বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যাকণ্ড। গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি এলাকায় সন্তানকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় নিজ বাসার ১০০ গজ দূরে ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত হন মাহমুদা আক্তার মিতু। গত ২৪ আগস্ট দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে স্কুলের সামনে ফুটওভার ব্রিজের উপরে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির সুরাইয়া আক্তার রিশার পেট ও হাতে ছুরি মেরে পালিয়ে যায় টেইলার্স কর্মচারী ‘বখাটে’ ওবায়দুর রহমান। পরে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যায় রিশা।
জঙ্গিবাদের ভয়ংকর উত্থান ও দুটি হামলা :
১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ২ পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেশী-বিদেশী ২২ নাগরিক খুন হন। ওই হত্যাযজ্ঞ স্তম্ভিত করেছিল দেশবাসীসহ গোটা বিশ্বকে। এ ঘটনার ছয় দিনের মাথায় আরেকটি ভয়ংকর হামলা হয় কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়ায়, দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের কাছে। যেখানে প্রতিবছর ঈদের নামাজ পড়তে জড়ো হন লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
এই দুটি ঘটনা ছিল দেশবাসীর কল্পনার বাইরে। এরপর নড়েচড়ে বসে গোটা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামে। ব্যাপক অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিগত তদন্তে এসব হামলার নেপথ্যে নিউ জেএমবির নাম উঠে আসে।
এরপর অন্তত ৯টি অভিযানে নিউ জেএমবির সমন্বয়ক তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ ২৯ জঙ্গি নিহত হয়। আর গুলশানে ঘটনাস্থলে পাঁচ জঙ্গি ও শোলাকিয়ার ঘটনায় ২ জঙ্গি নিহত হয়েছিল। অব্যাহত অভিযানের মুখে অনেক জঙ্গি ভারতে পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে কেউ কেউ সেখানে ধরাও পড়ে।
আইনশৃংখলা বাহিনীর দাবি, নিউ জেএমবি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে তাদের নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তৃতীয় সারির নেতারা জঙ্গি সংগঠনটির হাল ধরেছে। তাদের খুঁজছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গত দু’বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের মিশন বাস্তবায়ন করছিল সংগঠনটি। ও
ইসব হামলা শেষে গুলশান হামলা চালায় তারা। আর শোলাকিয়া ছিল তাদের শেষ বড় হামলা। এরপর আইনশৃংখলা বাহিনী জঙ্গিদের পাকড়াও করে ও মূল পরিকল্পনাকারীসহ অনেকে নিহত হয়। যে কারণে টার্গেট কিলিং ও বড় জঙ্গি হামলা বন্ধ হয়েছে।
এদিকে গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেয়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। ধারাবাহিক কর্মসূচির ফলে জনগণের মধ্যে সচেতনতা আসে।
উল্লিখিত দুই ঘটনার পর সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় দিক হচ্ছে, দেশব্যাপী মা-বাবাসহ অভিভাবকরা সচেতন হয়েছেন। বছর শেষে পুলিশের জঙ্গি দমন বিভাগ বলছে, এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণকে আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ত্রুটি :
বিদায়ী বছরের শেষদিকে এসে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে ত্রুটির ঘটনা। গত ২৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশ বিমানের ভিভিআইপি একটি ফ্লাইটে হাঙ্গেরি যাওয়ার সময় বিমানে বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়ে। জরুরি অবতরণ করানো হয় বিমানটিকে। এ বিষয়টি মানবসৃষ্ট নাশকতা বলে আশংকা করা হয়। ঘটনাটি পরিণত হয় ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’-তে। সবার মুখে একই আলোচনা- বিমানটি বিধ্বস্ত হলে কী হতো! আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানে ত্রুটির বিষয়টি বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) তদন্ত করে। এসব তদন্ত প্রতিবেদন ও এ সংক্রান্ত বিমানবন্দর থানায় করা মামলার এজাহারেও বিষয়টি মানবসৃষ্ট নাশকতা বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়।
মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে (সিটি)। মামলার তদন্তে তারা প্রথম দিনেই সাত আসামিকে গ্রেফতার করে। অপর দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে।
পরে ওই সাত আসামিকে প্রথম দফায় সাত দিনের ও দ্বিতীয় দফায় আট দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। আর আদালতে আত্মসর্পণ করা দুই আসামিকে নেয়া হয় সাত দিনের রিমান্ডে। ৯ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিটি।
এসব আসামিসহ আরও কয়েকজন এই নাশকতায় জড়িত থাকার পক্ষে কিছু ডিজিটাল প্রমাণও পেয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা।
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন :
স্থানীয় সরকারভুক্ত তৃণমূলের প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ভোট হয় এ বছর। এ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি, লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি ও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত অন্যান্য দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলটি নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে পারেনি। তবে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী দলীয় প্রতীক ছাড়াই নির্র্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
গত মার্চ থেকে ৭টি ধাপে দেশের ৪ হাজারের বেশি ইউপিতে ভোট গ্রহণ হয়। নির্বাচনে জয়লাভ করতে শাসক দল ছিল মরিয়া। তাই এ নির্বাচনে ধাপে ধাপে সহিংসতা বাড়তে থাকে। এতে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন কয়েক হাজার। স্মরণকালে এটি ছিল বেশি প্রাণহানির নির্বাচন।
বছরের শেষদিকে আলোচনায় ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। এবারই প্রথম দেশে জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা জামায়াতের কেউ অংশ নেয়নি। তারপরও এ নির্বাচনে সহিংসতা হয়েছে। হয়েছে টাকার খেলা।
বড় দুই দলের কাউন্সিল :
এ বছর দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশবাসীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অক্টোবরের ২২ ও ২৩ তারিখে আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাঁকজমকভাবে আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সবাইকে চমকে দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই বহাল থাকছেন, বছরজুড়ে এমন আলোচনা ছিল। কিন্তু সম্মেলনের আগের দিন থেকেই বাতাসে চাউর হয় এবার এ পদে আসছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের। ২৪ অক্টোবর সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সৈয়দ আশরাফ নিজেই সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম ঘোষণা করেন।
অবশ্য এর আগে দুই দফা (প্রথমে ২৮ মার্চ ও পরে ১০ জুলাই) সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও পরে তা পেছানো হয়। ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর দলটির ১৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের বিগত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ ২ দফা বাড়ানো হয়।
তবে, এবার সম্মেলনের আলোচনার আরও একটি দিক ছিল সাজসজ্জা ও বর্ণিল আলোকচ্ছটা। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা শহরের উল্লেখযোগ্য সড়কগুলোতে রঙিন আলোকসজ্জা করা হয়। গণভবন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সাজে বর্ণিল সাজে। সম্মেলনের ২ দিন ঢাকা হয়ে ওঠে উৎসবের নগরী। যদিও যানজটের কবলে পড়ে নাকাল হন নগরবাসী।
অপরদিকে নানা প্রতিকূল পরিবেশ ও শংকার মধ্যেও ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সফলভাবে বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে এ কাউন্সিলেই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ খসড়া ঘোষণা করেন। এতে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ অবস্থার অবসানে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনার কথাও বলেন বিএনপির চেয়ারপারসন। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের কথাও সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী তার পরিকল্পনায় উল্লেখ করেন। সম্মেলনে খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে নতুন ধারার রাজনীতি করার অঙ্গীকার করেন।
খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০-কে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এবারের সম্মেলনেই বিএনপি তার গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এক নেতার এক পদ কার্যকর করে। যা দলের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। সফল এ কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে মামলা-হামলায় জর্জরিত বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেন।
রাষ্ট্রপ্রধানসহ ভিভিআইপি সফর :
২০১৬ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন অনেক বিদেশী অতিথি। যার মধ্যে আলোচিত ছিল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের সফর দুটি। গত ১৪-১৫ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা সফর করেন। তার এ সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বের বন্ধন আরও অটুট হয়। সেইসঙ্গে কর্ণফুলী টানেলসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক সহায়তা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয় তার এ সফরে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন- চীনের প্রেসিডেন্টের এ সফর অর্থনৈতিক সহযোগিতার দ্বার খুলে দিয়েছে।
অন্যদিকে গত ১৬ অক্টোবর ঢাকায় আসেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। তিনি ১৮ অক্টোবর ঢাকা ত্যাগ করেন। ১৭ অক্টোবর জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব দারিদ্র্য নিরসন দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তার এ ঢাকা সফর। এর মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য জয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে ব্র্যান্ডিং লাভ করে। জিম ইয়ং কিম ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম বাংলাদেশ সফর।
সূত্র জানায়, ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতিবছর জাতিসংঘ দারিদ্র্য বিমোচন দিবস পালন করে আসছে। এ ক্ষেত্রে যেসব দেশ দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে সক্ষম হয় সেসব দেশে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা পালন করে সংস্থাটি। বর্তমানে দারিদ্র্য নিরসনে সাফল্য লাভ করায় বাংলাদেশে এ দিবস পালন করা হয়।
ইসি গঠনে সংলাপ :
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি মাঠের প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন গত ১৮ ডিসেম্বর। প্রথম দিনই রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানান।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি টিম আলোচনায় অংশ নেয়। আলোচনা শেষে বিএনপি সন্তোষ প্রকাশ করে। এরপর ২০ ডিসেম্বর আলোচনা হয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে একটি টিম রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়।
পরবর্তী সময়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগসহ সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), ইসলামী ঐক্য জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ইতিবাচক আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে।
এসব দলের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা শেষ হয়েছে। আগামী ২ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় জাতীয় পার্টি (জেপি), ৩ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ও বিকাল সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে সংলাপের দিনক্ষণ নির্ধারিত আছে।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষে আগামী ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেবে নতুন ইসি। ওই কমিশনের অধীনেই ২০১৯ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। এ কারণে এ সংলাপ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ :
৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য মারা যান। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন চালায়। এতে প্রাণহানি, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এই সহিংসতার ঘটনার পর সরকারি বাহিনীর অবস্থানের বিষয়ে দেশটির নেত্রী অং সান সুচি স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোকে বলেছিলেন, সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এরপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী।
রোহিঙ্গাদের হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য ইউটিউব ও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। নির্যাতিত রোহিঙ্গারা প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করেন।
অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম’র তথ্যমতে, মিয়ানমার থেকে প্রায় ২১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন, যাদের বড় অংশই হচ্ছে নারী ও শিশু। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি পাহারা বাড়িয়ে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশকে আহ্বান জানায়।
২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। এ ইস্যুটি বছরের শেষদিকে আলেম সমাজে আলোচনার জন্ম দেয়। ১ ডিসেম্বর হেফাজতে ইসলাম স্মারকলিপি দেয়ার উদ্দেশ্যে মিয়ানমার দূতাবাস অভিমুখে রওনা দিলেও বায়তুল মোকাররম মসজিদের একশ’ গজের মধ্যেই তাদের আটকে দেয় পুলিশ।
পরে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল গণহত্যা বন্ধসহ ৫ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করে। ইস্যুটি বাংলাদেশের না হলেও এটি এ দেশের ওপর চেপে বসে। এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে এসেছে।
সাঁওতাল পল্লীতে হামলা :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জে রংপুর সুগার মিলের অধিগ্রহণ করা জমিতে বসতি গড়ে তোলা সাঁওতাল পল্লীতে ৬ নভেম্বর হামলা, ভাংচুর, আগুনের ঘটনায় তিন সাঁওতাল নিহত হন। এ ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এ ঘটনার নিন্দা জানায়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির এ ঘটনার পেছনে ইন্ধন ছিল বলে শুরুতেই অভিযোগ ওঠে। এমনকি এসব জনপ্রতিনিধির নির্দেশনায় সেখানে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল বলে সাঁওতালরা অভিযোগ করেন। আখ মাড়াইয়ের নাম করে সেদিন সাঁওতালদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হয়।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পুলিশ সদস্যসহ তিনজন সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দিচ্ছে। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, ১৯৬২ সালে তৎকালীন সরকার সাঁওতাল ও স্থানীয় বাঙালিদের এক হাজার ৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি রংপুর সুগার মিলের জন্য অধিগ্রহণ করে। এ সময় অনেক সাঁওতাল ও বাঙালি ভূমিহীন হয়ে পড়েন। অধিগ্রহণের চুক্তিতে বলা হয়েছিল, এই জমি আখ চাষের জন্য নেয়া হয়েছে। যদি আখের পরিবর্তে অন্য ফসল উৎপাদিত হয় তবে ওই জমি সরকারের কাছে ফেরত যাবে। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ওই জমি লিজ দেয়া হয়েছে বলে সাঁওতালদের অভিযোগ। এ কারণে তারা তাদের পূর্বপুরুষের ভূমি উদ্ধারে আন্দোলন শুরু করেন। কয়েক মাস আগে তারা রংপুর সুগার মিলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের জমি দখল করে বসতি স্থাপন করেন। সেখানে আখ মাড়াইয়ের নাম করে সাঁওতালদের ওপর হামলা চালানো হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হামলা :
চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শতাধিক হিন্দু বসতবাড়ি ও মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এরপর আরও তিন দফায় হিন্দুদের পরিত্যক্ত রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে আগুন দেয়া হয়। ২৯ অক্টোবর ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফ নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র করে পোস্ট দেয়ার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ এ পোস্ট দেয়। এর প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবর মাইকিং করে সমাবেশ ডাকে দুটি ইসলামী সংগঠন। সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই দুর্বৃত্তরা নাসিরনগর উপজেলা সদরে তাণ্ডব চালায়।
এ সময় দুষ্কৃতকারীরা উপজেলার অন্তত ১০টি মন্দির ও শতাধিক ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। ৪ ও ১৩ নভেম্বর ভোরে দুর্বৃত্তরা আবারও উপজেলা সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ৬টি ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় সম্প্রতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল আহাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পেছনে তার ইন্ধন ছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। হামলার ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় এখন পর্যন্ত ১০৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিরুল চকদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।















