জাহেদ পারভেজ চৌধুরী: এসপি বাবুল আক্তার স্যার বাংলাদেশ পুলিশের হাতেগোনা যে কয়জন অফিসার “লিভিং লিজেন্ড” হিসেবে গন্য হন তাদের মধ্যে অন্যতম।
তার জনসম্পৃক্ততা যেকোন রাজনীতিবিদকেও হার মানাবে, অপরাধ উদঘাটনে তার কৌশল এবং দুঃসাহসিক ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ সব অপারেশনের গল্প শুনলে মনে হবে দূর্দান্ত এক ক্লাসিক থ্রীলার!!
যার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করলে প্রায় সবারই মনে হবে “ইস যদি পুলিশ হতে পারতাম”!!
বাস্তব জীবনের শার্লক হোমস সাহসী বাবুল আক্তার। যে এলাকাতে কাজ করতেন সেখানে তিনিই ছিলেন সবার আস্থার প্রতীক, এমন এক ব্যক্তি যার উপর নিজের নিরাপত্তার জন্য নির্ভর করা যায়।
অত্যন্ত সদালাপী, সৎ ও সকলের আস্হাভাজন এই স্যারের সহধর্মিণীকে গত ৫ জুন রবিবার সকালে কিছু দুর্বৃত্ত নির্মমভাবে খুন করেছে 🙁 আল্লাহর রহমতে বেচে গেছে বাচ্চা টি।
এই অফিসার তার বাচ্চার স্কুলে লিফট দেওয়ার জন্যও কখনো তার সরকারি গাড়ি দিতেন না, নিয়ম অনুযায়ী বাসায় রানার বরাদ্দ থাকলেও তাদের কখনোই পরিবারের ব্যাক্তিগত কাজে ব্যাবহার করতেন না!!
নিজে চরম ঝুকিপূর্ণ পেশায় থাকার পরেও স্ত্রী-পুত্রকে “অনিয়ম” হবে ভেবে নিজের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সুযোগ সুবিধা ব্যাবহার করতে দিতেন না, তার পেশাদারিত্ব ও মানসিকতা কতটা উচু মাপের এটা হয়তো এ সমাজের বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেই পারবে না।
মন্ত্রণালয়ের যে সকল আমলা পুলিশের ঝুঁকি ভাতার ফাইলে আপত্তি করে বলেন পুলিশের চাকুরীতে ঝুঁকি নেই, তাদেরকে প্রতিক্রিয়া জানতে চাই । যে সকল আমলারা পুলিশের বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের বাজেট বরাদ্দে অসহযোগিতা করে তাদের অনুভূতি কি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। সরকারি বাসা বরাদ্দ না পেয়ে থাকতেন মেহেদীবাগ আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসায়। আর এ সুযোগই নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
আর ঐ সকল কুলাঙ্গারদের জন্য শুধু কিছু সময়ের অপেক্ষা, হোক সে জঙ্গি বা ভাড়াঠে খুনি, পরিবার হারানোর বেদনার চেয়েও বেশকিছু অপেক্ষা করছে তোদের জন্য।
জাহেদ পারভেজ চৌধুরী: সিনিয়র এ এস পি, বাংলাদেশ পুলিশ। অফিশিয়াল ডিউটি আওয়ারের পরেও গঠনমূলক লেখা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জনগনের সেবা করে প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছেন।





