এই মাত্র:

কেমন বন্ধু নির্বাচন করবেন?

সাঈদ চৌধুরী, সিটিজিবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আপডেট : ২০১৬-০৩-৩১

কেমন বন্ধু নির্বাচন করবেন?

বন্ধু

কিছু কিছু সম্পর্ক রয়েছে যা প্রাকৃতিক। যা এমনিতেই হয়। কখনও কখনও এই সম্পর্কগুলো কান্না ঝরায়, কখনও কখনও হাসি আবার কখনও কখনও জীবনকে সুন্দর করতে শেখায়। আর এই সব সম্পর্কগুলোই বন্ধু শব্দটির মধ্যে আবর্তিত।

বন্ধু এমন একটি সম্পর্ক যা নির্বাচন করে হয় না। যাকে মন থেকে পছন্দ হয় তারাই হয় এক জন আরেকজনের পরম বন্ধু। আর শিশু বয়সের বন্ধুত্বের আবেগ, অনুভুতি এবং এর প্রগারতা অনেক বেশী। এই বয়সে বন্ধু ছাড়াও চলা বড়ই দায়। কিন্তু যদিও বন্ধু নির্বাচন করে হয় না তারপরও এর প্রভাব কিন্তু নির্বাচিত। একজন বন্ধুর প্রভাবে একজন মানুষ নিজেকে তার প্রতিচ্ছবি হিসাবেও দেখতে পছন্দ করে। হাজারো উদাহরন রয়েছে এমন যে বন্ধুর জন্য নিজের জীবনকেও বাজি রাখতে দ্বিধা করেনা মানুষ। নিজের প্রেম, ভালোবাসা বন্ধুকে উৎসর্গ করে দেয় নির্দিধায়।

কিন্তু এত সব হয় যদি সে বন্ধুর মত বন্ধু হয়। প্রাচীন কাল বা কিছুদিন আগ পর্যন্তও বন্ধুত্ব হত দেখা, একই স্কুলে পড়া বা একই পাড়ায় বসবাস সূত্রে। যতই দিন যাচ্ছে বন্ধুত্বের সঙ্গা যেমন পাল্টে যাচ্ছে পাল্টে যাচ্ছে ধরনও। এখন বন্ধুত্ব হয়ে যায় একবার চোখের দিকে তাকালেই বা মোবাইলে একবার কথাতেই। এমন ভাবেও বন্ধুত্ব হয় যা আমরা ভাবতেও পারতাম না। যেমন আপনি কোন বন্ধুর সাথে ঘুরছেন। হঠাৎ আপনার বন্ধুর কয়েকজন বন্ধু বা মেয়ে বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেল দেখবেন ঐ মেয়ে বন্ধুগুলোর সাথে জমে গেছে বন্ধুত্ব। এভাবে তা আবার কয়েকদিনের ভালোবাসার সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়। তারপর নতুন একটি শব্দ খুব চালু হয়েছে, আর তা হলো Break up.। অবাক হওয়ার মত বিষয় হলেও খুব কম বয়সী ছেলেমেয়েরাও আজকাল উচ্চারন করে ঐ সম্পর্কটি ব্রেকআপ করে ফেলেছি।

বন্ধুত্ব, আবার তা ছেড়ে দেওয়ার নাম ব্রেক আপ এর মাঝে নিজের অনেক কিছুই হারানো। আমাদের এই ভাবনা গুলো এখন থেকেই ভাবতে হবে। যারা তাদের ছেলেমেয়েদের এই ব্যপারটির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না তারা না বুঝেই ছেলেমেয়েদের একটা বিপদের আবর্তে ফেলে দিচ্ছেন। যখন কোন ছেলেমেয়ে টিনেজার হয় তখন বাবা মার চেয়েও বন্ধুদর প্রতি দৃষ্টিপাতিত থাকে। এজন্য বন্ধুদের পোশাক, আচরন, চলাফেরা সব কিছুই খুব মিলিয়ে চলার চেষ্টা করে। এমন কি বন্ধুর পছন্দের অপরাধগুলোকেও সে পাপ মনে করে না। এমনিভাবে একদিন শুরু হয় ধুমপান, তারপর নেশা, ইভটিজিং, সাইবার ক্রাইম এবং টাকা জোগারের জন্য ছিনতাই পর্যন্ত।

ভাবতে অবাক লাগে ছেলে মেয়েদের মধ্যে বন্ধু নাম দিয়ে যে সম্পর্ক আমাদের ছেলে মেয়েরা তৈরী করছে যার ফলাফল স্বরুপ পরে এদের বেশীরভাগেরই সংসার দোটানায় পড়ে যাচ্ছে। ব্লাকমেইলতো আছেই এর সাথে স্বামী বা স্ত্রীর সাথে ভুল বোঝাবুঝিও কম যায় না। স্কুলের বাচ্চারা অনেক সময়ই ক্লাস ফাকি দিয়ে বিভিন্ন পার্কে, হোটেলে এবং কখনও কখনও সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে পর্ন ছবি পর্যন্ত দেখছে। দেখলে মনে হয় এদের বাবা মা এদের কোন খোঁজই রাখছেনা।

কিন্তু আসলেই কি তাই ! হয়ত এদের মানুষ করার জন্যই বাবা মা দুজনেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে টাকা উপার্জনের চেষ্টায় রয়েছে। আর ভাবছে আমার ছেলে মেয়েতো ঠিক পথেই হাটছে ।কিন্তু এ চিন্তাটা করার আগে চিন্তা করা উচিৎ আমার ছেলে মেয়ে কার সাথে মিশছে। সে কি আদৌ পারিবারিক মনা, ভদ্র, নেশা বর্জিত, এবং ব্যক্তিত্য মনা কিনা।

আমার ছেলে মেয়ে টাকা চাইলো দিয়ে বললাম যা বন্ধুদের নিয়ে আনন্দ কর। কিন্তু ভেবেছি কি এই আনন্দ্ ইভটিজিং, সাইবার ক্রাইম, নারী নির্যাতন বা বড় কোন অপরাধে ব্যবহৃত করছে কিনা।

আমি বলতে চাচ্ছি সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় সে কি ধরনের মানুষের সাথে সারাদিন চলাফেরা করছে। তার বন্ধুটি কি তার জন্য উপযুক্ত কিনা । অবশ্যই এমন বন্ধু নির্বাচন করা উচিৎ যে কিনা আমাকে কিছু দিতে পারবে। না কোন জিনিস নয়, পরম বন্ধুত্ব। যে বন্ধুত মানুষকে উপকার করতে শেখায়, যে বন্ধুত্ব একজনের প্রতি অন্যজনকে শ্রদ্ধা করতে শেখায়।

আমি আমার লেখায় বলেছি ছেলে মেয়ের বন্ধুত্ব থেকে এরা বিভিন্ন ধরনের সম্পর্কে জরিয়ে জীবনকে বিশিয়ে তোলে। এর অর্থ এই নয় যে বন্ধুত্ব করা যাবেনা। বন্ধুত্ব থাকবে, সেটা হবে নির্মল বন্ধুত্ব। ঠেলাঠেলি, গায়ে হাতাহাতি, যৌনতার বঃহিপ্রকাশ কখনই ছেলেমেয়ের বন্ধুত্ব প্রকাশের ভাষা হতে পারে না।

যেহেতু অনেক প্রভাবিত এই সম্পর্কটি তাই আমি বলবো এটা নিয়ে সন্তানের যেমন ভাবতে হবে তেমনি ভাবতে হবে বাবা মায়েরও। সবচেয়ে বড় কথা খোঁজ খবর রাখতে হবে সবসময়। একটি সুন্দর বন্ধুত্ব এনে দিতে পারে সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ। খেয়াল রাখার দায়িত্ব আমাদের সবারই ।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image