শনিবার,১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
আল আমিন মন্ডল(বগুড়া)থেকেঃ আসন্ন আগামী মঙ্গলবার পবিত্র ঈদ উল আযহা। আর মাত্র ২দিন বাঁকী। মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে প্রিয় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র কোরবানী’র ঈদকে সামনে রেখে বগুড়া জেলা’সহ গাবতলীতে শেষ মুহুতে জমে উঠেছে পশু’র হাট। গতবছরের তুলনায় এবছরে বিদেশী গরু-ছাগল আমদানী হলেও দেশী গরু-ছাগলের চাহিদা সবচেয়ে বেশী ছিল। বেশীর ভাগ ক্রেতা কিনছেন দেশী গরু-মহিষ ও ভেড়া-ছাগল। ফলে আশানুরুপ মূল্যে থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গরু ব্যবসায়ী ও খামাররা। দুর-দরন্ত থেকে অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা’র সমাগমে জমে উঠছে পশুর হাটগুলো।
গতকাল শুক্রবার কাগইল করুণা কান্ত উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পশুর হাটে ব্যাপক বেচা কেনা হয়েছে। পছন্দ মতে ক্রয়-বিক্রয় করেছে সবাই। গরু’র দামটা একটু বেশী হলেও ছাগলের দাম ছিল তুলনামূলক ভাবে কম। ফলে দাম কম হলেও ব্যবসায়ী’সহ খামারীরা বিক্রি করেছে পশুদের। এতে করে কিছুটা হলেও ব্যবসায়ীদের লাভ কম হচ্ছে কবলে জানিয়েছেন গরু ব্যবসায়ী আইনুল হক। উপজেলার কাগইল, পীরগাছা, ডাকুমারা, সুখানপুকুর, কদমতলী, নাড়–য়ামালা, মহিষাবান, পেরীহাট, দূর্গাহাটা, তরুনীহাট ও বাগবাড়ী পশুর হাট জমে উঠেছে। এছাড়াও ইউনিয়ন ভিত্তিক পশুর হাট বসেছে।
কাগইল হাট ইজারাদার মোঃ দুলাল আকন্দ ও হাটের পরিচালক কাগইল ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ মিকরাইল ইসলাম জানান, এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নিভরশীল। ফলে তারা স্থানীয় কাগইল হাট থেকে কোরবানীর জন্য পশু কিনেছেন। বেচা কেনাও ভাল হয়েছে। ক্রেতা মেহেদী হাসান নয়ন জানান, ১৬হাজার টাকায় একটি ছাগল কিনেছি। কমটা কম ছিল। কাগইল পশুর হাট নিয়মিত হলে হাট আরো জমে যাবে। খামারী রবিউল ইসলাম ও রাকিব হাসান জানান, পশু লালন পালন করতে যে টাকা খরচ হয়েছে। এখন সে টাকাও উঠছে না।
খামারী পল্লী ডাক্তার অমৃত জানান, হাটে ১টি গরু’র দাম ২লাখ টাকা চাইলেও দাম বলেছে দেড় লক্ষ টাকা ফলে দাম কম হওয়ায় বিক্রি না করে বাড়ীতে নিয়ে যাচ্ছি। এদিকে গরু ব্যবসায়ীরা জানান ভিন্ন কথা তারা বলেন, গতবোরো মৌসুমে কৃষকরা ধানের ন্যার্যমূল্যে না পাওয়া সেই প্রভাব পড়েছে পশুর হাটে। এদিকে পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কেউ জেন প্রতারনা করতে না পারে সে জন্য জাল টাকার সনাক্তকরণে স্থানীয় ব্যাংক গুলো সনাক্তকরণ মিশিন বসানো হয়েছে।
পশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গাবতলী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আনিছুর রহমান ও ভেটানারি সার্জন ডাঃ মোঃ একরামুল হক মন্ডলের নের্তৃত্বে কোরবানী পশুর হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরিক্ষা ও তদারকি করা হচ্ছে। একাজে সহযোগিতা করছেন ভিএফএ ও স্বেচ্ছাসেবকগণ। কাগইল ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃত্রিম প্রজনন সহকারী মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, কাগইল পশুর হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরিক্ষা ও তদারকি করার জন্য সকাল থেকে রাঁত পয়র্ন্ত ছিলাম। ক্রেতাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এবিষয়ে গাবতলী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আনিছুর রহমান জানান, গাবতলীতে ভেটেরিনারি ২টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
মেডিক্যাল টিম বিভিন্ন পশুর হাটে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কোরবানীর জন্য সকল পশু সুস্থ সবল ও রোগমুক্ত রয়েছে কি না সে জন্য পরিক্ষা ও তদারকি করা হচ্ছে। এদিকে হাটগুলোর নিরাপত্তা দেওয়া জন্য মোতায়ন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য।
হাটে গরু চোর ও নকল (জাল) টাকা সনাক্তকরণে (প্রতিরোধে) গাবতলী মডেল থানা ওসি মোঃ শাহীদ মাহমুদ খান গাবতলীর বিভিন্ন পশুর হাট-বাজারে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবিষয়ে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাঃ আহসান হাবিব জানান, সু-শৃংঙ্খল ভাবে হাটে কোরবানী’র পশু বেচা কেনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আশাকরছি সবাই সুন্দর ভাবে পবিত্র ঈদ উল আযহা উদযাপন করতে পারবেন। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন




