সিটিজি বার্তা২৪ ডটকম
চিত্ত বিশ্বাস, কোলকাতা
সোমবার, ২২ আগস্ট ২০১৬
রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারীতে ততোদিনে সন্ত্রাসী হামলা হয়ে গেছে। দিন চারেকের মাথায় পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান স্টেশনে ধরা পড়লো সন্দেহভাজন ইসলামিক স্টেট বা আইএস জঙ্গি মুসা। পুরো নাম মোহাম্মদ মুসাউদ্দিন। বাড়ি বীরভূম জেলার লাভপুরে।
কে আইএসের হয়ে কাজ করতে তাকে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং কে কলকাতার এক প্রোমোটারকে লাভপুরের বাগানবাড়িতে দেহরক্ষীসহ গলা কেটে খুন ও বাড়ির পরিচারিকাকে ধর্ষণ করে সমস্ত ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখতে তাকে বলেছে, এর উত্তরেই উঠে এলো একটি নাম। আবু সুলেমান।
ভারতীয় গোয়েন্দাদের একাংশের দাবি, এই আবু সুলেমান গুলশানের হামলার চক্রান্তকারীদের একজন এবং শোলাকিয়ার হামলার সময়ে একটি ভিডিও ফুটেজেও তাকে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের তিন সদস্যের একটি দল ১৫ আগস্ট কলকাতায় পৌঁছায়। ১৬ তারিখ বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা ও ১৭ তারিখ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দলের সদস্যেরা ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) হেফাজতে থাকা মুসার সঙ্গে কথা বলেন।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তারা ঢাকার গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত সন্দেহভাজনদের কিছু ছবি এনেছিলেন। তাদের মধ্যে এক জনকে মুসা সেই আবু সুলেমান বলে চিহ্নিত করেছে।
তবে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ওই সন্ত্রাসীর আসল এটা নাম নয়। আবু সুলেমানের আসল নাম কী, তা তদন্ত ও নিরাপত্তার খাতিরে বাংলাদেশ পুলিশ আপাতত গোপন রাখতে চাইছে।
৫ জুলাই গ্রেফতার হওয়ার পর প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ দমন শাখা বা সিআইডি এবং পরে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) জেরায় মুসা জানায়, তাকে পথ দেখিয়েছে এই আবু সুলেমান। যে আদতে বাংলাদেশি নাগরিক। সাইবার জগতে বিচরণের সময়ে ‘ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ’ নামে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সুলেমানের সংস্পর্শে আসে মুসা। সেটা ২০১৪।
আইএসের হয়ে কাজকর্ম চালানোর জন্য মুসাকে এই সুলেমানই উদ্বুদ্ধ করে। এমনকি সুলেমানই মুসাকে জম্মু ও কাশ্মীরে কিছু খুনখারাপি করার কাজ দিয়ে পাঠায়। তবে মুসা সেখানে গিয়ে কিছুই করতে পারেনি।
পরে সুলেমান তাকে লাভপুরে ওই খুন ও ধর্ষণের দায়িত্ব দিয়ে বলে, ওই কাজের মধ্য দিয়ে আইএস জঙ্গি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে মুসার। ওই গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে তা বাংলাদেশের একজনকে পাঠানোর কথা ছিল। পরে পাঠানো হতো সিরিয়ায়, যেখানে আইএসের মূল হোতারা আছে।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, মুসার বক্তব্য অনুযায়ী, বছর তিরিশের আবু সুলেমান জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) একজন প্রভাবশালী সদস্য। তবে ২০১৪ থেকে জেএমবির মধ্যেই নতুন একটি গোষ্ঠীর উদয় হয়, যাদের আখ্যায়িত করা বলা হচ্ছে নিও-জেএমবি বা নব্য জেএমবি। সুলেমান ওই নব্য জেএমবির একজন সদস্য। জেএমবির ওই গোষ্ঠীই হিংসাত্মক কাজকর্ম করে ও নাশকতা ঘটিয়ে আইএসের নামে চালাচ্ছে।
তবে মুসা বলেছে, সুলেমান এবং নব্য জেএমবির সদস্যেরা পুরনো জেএমবির মতো আল-কায়দার পথ ধরে চলতে চায় না। তারা আইএসের মত ও পথেরই পথিক। এমনকি তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ সুলেমান আইএসের অনলাইন ম্যাগাজিন বাংলায় অনুবাদ করে বাংলাদেশ ও ভারতে সমভাবাপন্নদের মধ্যে ছড়াচ্ছে। ভারতে বাংলাভাষীদের মধ্যে সুলেমানই আইএসের ভাবধারা প্রচার ও ওই জঙ্গি সংগঠনের হয়ে সদস্য নিয়োগের দায়িত্বে বলে মুসা জানিয়েছে।
ভারতীয় গোয়েন্দাদের একাংশ দাবি করছে, গুলশানের হামলার চক্রান্তকারীদের একজন হিসেবে এই আবু সুলেমানকে চিহ্নিত করেছে এবং শোলাকিয়ার হামলার সময়ে একটি ভিডিও ফুটেজেও তাকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে। আরও বলছে, সুলেমান দিল্লিসহ উত্তর ভারতেও বাংলা ভাষীদের মধ্যে আইএসের হয়ে প্রচার করেছে।
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এই বছরই মুসার সঙ্গে সুলেমানের দু’বার দেখা হয়। একবার বীরভূমের লাভপুরে মুসার ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত হিসেবে সুলেমান এসেছিল। কিছু দিন পরে মালদহে এসে মুসার সঙ্গে দেখা করে যায় সুলেমান। সেই সময়ে তার সঙ্গে আর একজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিল বলে মুসা জানিয়েছে।





