BREAKING NEWS
Search

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা শিবির কার্যালয় থেকে গ্রেফতার

শনিবার,২১ নভেম্বর ২০১৫

simonসিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম : চলতি বছরের ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে কাউন্সিলর ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ নেতা কাউছার নিয়াজ সাইমুন। বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের ছবিও দেখা যায় তার ওয়ালে। সেই ছাত্রলীগ নেতা গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামে শিবির কার্যালয় থেকে গ্রেফতার হলেন। তার বাসা থেকে ‘আলী আহসান মুজাহিদ মুক্তি পরিষদ’-এর নামে ছাপানো বেশকিছু লিফলেট উদ্ধার করে পুলিশ।

মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল লিফলেট উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুধু লিফলেট নয়, অভিযানে বেশকিছু অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। রিভিউ পিটিশনের রায়কে সামনে রেখে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর উদ্দেশ্যে এসব মজুদ করা হয় বলে পুলিশ ধারণা করছে।

সিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে আলী আহসান মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের আদেশের দিন নাশকতা ঠেকাতে মঙ্গলবার রাতে দেওয়ান বাজার এলাকায় জামায়াত ও শিবির অফিসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে জামায়াত ও শিবিরের কাউছার নিয়াজ সাইমুন, চৌধুরী শাহীন, মঈনউদ্দিন, কামালউদ্দিন, গোলাম মাওলা ও আবদুর মতিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সাইমুনের বাসা থেকে রাম দা, চাপাতি, ছুরি, উসকানিমূলক লিফলেট, শিবিরের সাংগঠনিক বই ও ‘আলী আহসান মুজাহিদ মুক্তি পরিষদে’র নামে ছাপানো ছয় হাজার লিফলেট উদ্ধার করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একজন কাউন্সিলর কিভাবে শিবিরের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে তা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলনের সময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি না থাকা সত্ত্বেও ২৫ জন কাউন্সিলরের তালিকা দেয়া হয়েছিল ওই ইউনিট থেকে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আগের কমিটির সহ-সভাপতি বাঁঁশখালী উপজেলার এক ব্যক্তির আশীর্বাদে সে সময় ওই তালিকায় সাইমুনও ছাত্রলীগের কাউন্সিলর হওয়ার সুযোগ পান। সাইমুন বাঁশখালীর কাতরিয়া গ্রামের মো. হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সুজন, বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমরানুল হকসহ স্থানীয় বেশকিছু ছাত্রলীগ নেতার সাথে সুসম্পর্ক রেখে সাইমুন স্থানীয়ভাবে ইয়াবা, চোরাই মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। সাইমুনকে ছাত্রলীগের কোন একটি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন দুই নেতা। তাকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে রাখতেন তারা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সাইমুনের শিবির কানেকশনের কথা স্থানীয় নেতারা জানতেন। এরপরও তারা সাইমুনকে আশীর্বাদ করেছেন। তাদের সাথেও শিবির কানেকশনের অভিযোগ আছে এবং তারাও ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন।

সাইমুনকে ছাড়ানোর তদিবর করতে এক ছাত্রলীগ নেতা গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন বলে ছাত্রলীগের কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। এ ব্যাপারে জানতে গতরাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী সুমন ও বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমরানুল হকের মোবাইলে বৃহস্পতিবার একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কেউই রিসিভ করেননি।

উৎসঃ   মানব জমিন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image