বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম
চট্রগ্রাম ঃ যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদান্ডাদেশের রায় রিভিউতে বহাল থাকার পর যে কোনো ধরণের নাশকতারোধে চট্টগ্রামে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর থেকে আরো সর্তক অবস্থায় রাখা হয়েছে পুলিশকে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্ণেল এ আর এম নাসির উদ্দিন একরাম বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে বুধবার সন্ধ্যার থেকে নগরীতে ৬ প্লাটুন আর জেলার সাতকানিয়া লোহাগাড়া সীতাকুন্ডে আরো চার প্ল্যাটুন বিজিবি টহল দিচ্ছে। এছাড়া আরো বিজিবি মোতায়নের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে আমাদের কথা হচ্ছে। তারা যে পরিমাণ বিজিবি চাইবে আমরা সেভাবে প্রস্তুত রয়েছি।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য জানান , ‘গত একমাস ধরে নগরজুড়ো সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া আছে। এখন যুদ্ধাপরাধীদের রায় পরবর্তী সময়ে যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা প্রত্যেক থানা ও ফাঁড়িকে সর্তক অবস্থায় রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নগরীর প্রতিটি অলিতে-গলিতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
দেবদাস ভট্টাচার্য আরো বলেন, ‘সিএমপির নিয়মিত চেক পোস্টের পাশাপাশি সারপ্রাইজিং চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হচ্ছে। এসব সারাপ্রাইজিং চেক পোস্টে র্যাব-ডিবি-পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরাও অংশ নিচ্ছে। এখন থেকে যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে নগরজুড়ে যে কোনো স্থানে অভিযানও চালাচ্ছে যৌথবাহিনী।’
গত ২৫ অক্টোবর থেকে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় নগরজুড়ে কঠোর নিরাপত্ত বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে চেক পোস্ট ও টহল পুলিশের সংখ্যা। নগরীর সব সরকারি স্থাপনায় সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। বিশেষ করে বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি স্থাপনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পতেঙ্গায় অবস্থিত তেল স্থাপনাসহ কেপিআইগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দিনাজপুরে মিশনারি হাসপতালের ইতালীয় চিকিৎসক দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হওয়ায় বন্দর নগরীর গীর্জাগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। পুরো নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজও শুরু করেছে সিএমপি।
এরমধ্যে নতুন করে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ডগ স্কোয়াড মোতায়ন করেছে বিজিবি। দুটি প্রশিক্ষিত ডগের সমন্বয়ে ১২ জন বিজিবি সদস্যের এ ডগ স্কোয়াড বিমান বন্দর দিয়ে আসা মাদকদ্রব্য ও বিস্ফোরক উদ্ধারে কাজ করছে। তারও আগে থেকে বিমান বন্দরে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি এপিবিএনের প্রায় দুইশ বাড়তি ফোর্স মোতায়ন রয়েছে। যাত্রী প্রবেশ ও বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের সর্বোচ্চ সর্তকতার সাথে তল্লাশি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিমান বন্দর নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার দাবি করছে পুলিশ।
এদিকে সাভারের আশুলিয়ায় চেক পোস্টে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে শিল্প পুলিশের কনেস্টেবল মুকুল মিয়া নিহত হওয়ার পরপর দেশজুড়ে নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করার নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি দেয়া হয় বিশেষ নির্দেশনা। এছাড়া তল্লাশির সময় শিথিলতা পরিহার করে যথাযত সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে। তল্লাশির সময় কমপক্ষে একজন অতিরিক্ত উপ কমিশনারকে (এডিসি) সেটি তদারকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের গুলিভর্তি অস্ত্র, বুলেট প্রুপ জ্যাকেট, হেলমেট ও ল্যাগ গার্ড পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজনে আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোঁড়ার বিষয়টিও নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশ সদস্যদের।




