ধন্যবাদ আ.লীগ-বিএনপি, দুঃখিত অস্ট্রেলিয়া

বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৬

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

ধন্যবাদ আ.লীগ-বিএনপি, দুঃখিত অস্ট্রেলিয়া

বামে আ:লীগ ও ডানে বিএনপি সমাবেশে আসা কর্মী সমর্থকেরা

সাইফ বরকতউল্লাহ : মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি। দুপুর ১২টায় এয়ারপোর্টে গিয়ে ডেমু ট্রেনে কমলাপুর হয়ে চলে যাই প্রেসক্লাবে। অফিস সাড়ে তিনটায় হলেও আজ আগে বের হওয়ার একটা উদ্দেশ্য ছিল। আগেরদিন (সোমবার) দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে আব্দুল্লাহপুর থেকে বিআরটিসিতে উঠি দৈনিক বাংলায় অফিসের উদ্দেশ্যে। কিন্তু পথে ঘটে গেল অসহ্য যন্ত্রণার এক বিরক্তিকর ঘটনা। রাস্তায় এতটাই অবর্ণনীয় জ্যাম, অফিসে গিয়ে পৌঁছাই বিকেল ৪টা ৫৭ মিনিটে।

এমনিতেই উৎকণ্ঠায় ছিলাম, মঙ্গলবার দুই বড় দলের সমাবেশ। গত বছরের মতো কি না কী ঘটে। তাই এরকম ঝামেলা থেকে রেহাই এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অফিসে হাজির হতেই এরকম ট্রেন যাত্রা।

অফিসে গিয়ে বার্তাকক্ষে সবশেষ খবর পেলাম বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় যুব বিশ্বকাপ খেলতে আসছে না অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দল। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকায় টুর্নামেন্ট থেকে দল প্রত্যাহার করে নিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এ সিদ্ধান্ত মনটাকে বিষন্ন করলেই দিনশেষে বার্তাকক্ষ থেকে ফুরফুরে মেজাজেই বের হই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিন ৫ জানুয়ারি বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস এবং আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেনি। উভয় দলই নির্ধারিত সময়ে সমাবেশ শুরু করেছে এবং মাগরিব নামাজের আগেই শেষ করেছে। এ ব্যাপারে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়ম মেনে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সবাই যেসব শর্ত মেনে সব কাজ করে তা বলা যায় না। এরপরেও উভয় দলই যে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করেছে, কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি- এটা বড় পাওয়া।

নগরবাসী খুবই আতঙ্কে ছিল ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে। সবকিছু ভালোয় ভালোয় শেষ হওয়ায় সবাই খুশি। দু’একটি শর্ত ভঙ্গ হলেও বলার কিছু নেই তাদের।

সত্যিই এ রকম ঘটনায় শুধু আমি নই, স্বস্তি পেয়েছে নগরবাসী। উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তি পেয়েছে দেশের মানুষ। এইতো এক বছর আগের ঘটনা। এই ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে কী সহিংস ঘটনাই না ঘটেছিল। জ্বালাও, পোড়াও, পেট্রল বোমা মেরে মানুষ হত্যা, কত হিংস্র ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি আমরা। কিন্তু এবার এ অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগ। ধন্যবাদ বিএনপি।

এবার আসি অস্ট্রেলিয়া প্রসঙ্গে। গত বছরের অক্টোবরেই ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় বাংলাদেশ সফরে আসেনি অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র দল। সে সময় তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও সফর স্থগিত করেছিল সিএ। আর যুব বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়া দলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বোর্ডের নিরাপত্তাপ্রধান শন ক্যারল।

পরে দেশে ফিরে বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন শন ক্যারল। মূলত তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নিল সিএ। এক বিবৃতিতে সাদারল্যান্ড বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বলে এসেছি যে, অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জেনেছি বাংলাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলীয়দের নিরাপত্তা যথেষ্ট হুমকির মুখে। শেষ পর্যন্ত সব তথ্য ও পরামর্শ পাওয়ার পর আমরা মনে করি, এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না।’

অথচ এসব ঘটনার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়াই বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে গেছে অস্ট্রেলিয়া ফুটবল দল। কোথাও কোনো অসন্তোষের দাগ লাগেনি। অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যাঞ্জে পোস্তে কোগলু খুবই প্রশংসা করেন বাংলাদেশের। সংবাদ সম্মেলনে এসে তাঁর মনে হলো, এই দেশটি খুব ভালো। এই দেশের মানুষ, সরকার খুব বন্ধুভাবাপন্ন। আবার যদি এ দেশে আসেন, বেশি সময় থাকবেন।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে ঔ ফুটবল ম্যাচ দেখেতে অনেক ফুটবল প্রেমীও এসেছিল বাংলাদেশে। তারা এসে নাচ আর গান করে। তাদের কয়েকজনের অনুভূতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়েছে।

তাহলে কেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বার বার বাংলাদেশের সঙ্গে এরকম আচরণ করছে? এর পেছনে কী কোনো ক্রিকেটীয় রাজনীতির মারপ্যাচ আছে না অন্যকিছু। যদি বাংলাদেশ না হয়ে ভারত কিংবা ইংল্যাণ্ড এর মাঠে না খেলতে যেত অস্ট্রেলিয়া- তখন কী অবস্থা দাঁড়াত তাদের?

বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন পরাশক্তি। এ কথা বিশ্বের বড় বড় লিজেণ্ড ক্রিকেটাররা স্বীকার করেছেন। এগিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট। তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বর্ণালী সময়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষত বিশ্বকাপের মতো টুর্ণামেন্টে। দুঃখিত অস্ট্রেলিয়া। আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image