সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম ঃ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে সারা জীবন দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণ করলেও শেষ সময়ে এসে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে ব্যর্থ হয়ে ফাঁসির দড়িতে ঝুলা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের দাবি তিনি ‘প্রাণ ভিক্ষা’ চাননি। তবে মিস ট্রাইয়ালের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে একটি আবেদন করেছিলেন। আর সরকার সেটিকে প্রাণভিক্ষা বলে প্রচারণা করছে। আর যদি সেটি হয়েও থাকে তাহলে সেটি যেন তা প্রকাশ করে সেই দাবিও রেখেছেন এ যুদ্ধাপরাধীর পরিবারের সদস্যরা।
রোববার সকালে রাউজানের গ্রামের বাড়িতে সাকার দাফন সম্পন্ন করে বিকেলে প্যারেড ময়দানে আরেক যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদের জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে নগরীর গুডসহিলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন সাকা পরিবারের সদস্যরা। যেই গুডসহিলকে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধকালীন টর্চার সেল হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে সেই গুডসহিলের সংবাদ সম্মেলনে পাশে ছিলেন সাকার ভাই ও বিএনপি নেতা গিয়াস কাদের চৌধুরীও।
যদিও রোববার আইনমন্ত্রী অ্যডাভোকেট আনিসুল হক বলে দিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়া প্রাণভিক্ষার আবেদনটি প্রকাশ করা যাবে না। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দাবি প্রথম মুজাহিদ পরে সাকা চৌধুরী প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। এটি নিয়ে তাদের দল ও পরিবার জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
সাকা পুত্র হুমাম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল শনিবার ১১টায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আমরা একটা আবেদন করেছিলাম, সেটা আমরা গণমাধ্যমকে দিয়েছি, সেখানে কোথাও ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগের কথা উল্রেখ নেই, এটা মার্সি পিটিশন হলো কিভাবে?
তিনি আরো বলেন, ‘এই রকম যদি সত্যিই কিছু থাকলে দেখানো হোক, যার কথা বলছেন তিনি (সাকা) আমাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তিনি কোন আবেদন করেননি। রাষ্ট্রপতির কাছে আমরা এটাকে মিস ট্রায়াল ঘোষণা করে রিট্রায়ালের আবেদন করেছিলাম কিন্তু সেটা তো গ্রহণ করা হয়নি, এতটুকুই, এটাতো ৪৯ ধারার বিষয় না, অন্য কিছু নয়, তিনিও মার্সি পিটিশনের কোন কাগজ দেননি বলেই আমাদেরকে জানিয়েছেন, তাকে আপনারা সবাই চেনেন তিনি কেমন লোক।’
এসময় পাশে বসা সাকাপত্মী ফরহাত কাদের চৌধুরিী কারাগারে স্বামীর শেষ সাক্ষাতে বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘তিনি খুবই স্বাভাবিক ছিলেন, হাসতে হাসতে আমাদের সামনে জেলারকে জিজ্ঞাস করছিলেন কি ব্যাপার নেছার, আমাকে আজই মেরে ফেলবা নাকি ? সময় তো দিবা, আমি গোসল করব, মেডিকেল গ্রাউন্ডেতে তো আমার প্রস্তুতি দরকার।’
তিনি বলেন, ‘আমরা গল্প করে সময় কাটিয়েছি, তিনি হাসি খুশি ছিলেন, আমরাও স্বাভাবিক ছিলাম, আমার জানা নেই আর কেউ এভাবে পরিবারকে কিংবা সন্তানরা তাদের বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে পেরেছিলো কি না?’
এসময় পরিবারের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য চট্টগ্রামবাসীকে ধন্যবাদ জানানো হয় সাকা পরিবারের পক্ষ থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস কাদের চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে শহীদ বলব না মরহুম সম্বোধন করবো আমি জানি না। তিনি ঢাকার জেলার ও পরিবারের সদস্যদের বলেছিলেন তার মরদেহ যেন রাঙ্গুনিয়ার কাদের নগরে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তার সেই ইচ্ছে পূরণ করা হয়নি।’ একই অভিযোগ করেন ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীও।
তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায় ও তা কার্যকর নিয়ে মানুষের মনে এখন অনেক কৌতূহল, অনেক জিজ্ঞাসা এবং অনেক বিতর্ক ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন-কেন বর্তমান সরকার এত তৎপর?
সংবাদ সম্মেলনে সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী, ছেলে ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মেয়ে ফারজিন কাদের চৌধুরী, পুত্রবধূ দীনিয়া খন্দকার, ছোট ভাই জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




