সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম
শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬
চট্টগ্রাম: বিক্রেতারা বেশি দামের আশায় ধরে আছেন গরুর রশি। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বড়-ছোট সব বাজারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন আসছে গরু, মহিষ ও ছাগল। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসলেও বেচাকেনা তেমন শুরু হয়নি। গরু বিক্রেতারা ভাল দামের আশায় গরু ধরে বসে আছেন আর অন্যদিকে ক্রেতারা দাম কমার আশায় এখনও গরু কিনছেন না। বাজারে মানুষের উপস্থিতি বাড়লেও বেচাকেনা তেমনটা হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর বিবিরহাট গরু বাজারে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
বিবিরহাট নগরীর স্থায়ী পশুর হাট হওয়ায় এখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। দেশীয় গরুর পাশাপাশি রয়েছে নেপালী ও ভারতীয় গরু।
বিবিরহাটে গরু নিয়ে আসা বিভিন্ন বিক্রেতাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এবার দেশী গরুর প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। বাজারে চাহিদাও বেশি। দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা এসব গরুর জাত ও গঠন ভাল। খামারী ও কৃষকদের কাছ থেকে বেপারিরা বেশি দামে কিনেছেন। তাই কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই। আর এবার ভারত ও নেপাল থেকে অন্যান্য বছরের মত গরু নিয়ে আসার সুযোগ পায়নি ব্যবসায়ীরা। দেশীয় গরুই এবার কোরবানির ভরসা।
তবে বেশি দামে গরু বিক্রির সুফল প্রান্তিক কৃষক পাবে কিনা সে বিষয়ে সন্দিহান বাজার সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ভারত ও নেপাল থেকে গরু না আসার সুযোগ গরু ব্যবসায়ীরা নিতে চাচ্ছেন বলেও মনে করছেন তারা।
কুমিল্লার আমিন বেপারি বিবিরহাটে বিভিন্ন আকারের প্রায় অর্ধশতাধিক গরু নিয়ে এসেছেন। তার দাবি এসব গরু দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা। তিনি বলেন, গরু নিয়ে ক্রেতারা ঠকবেন না। আমরা গরু মোটাতাজাকরণে কোন প্রকার মেডিসিন ব্যবহার করিনি। ভাল ও দেশী গরু নিতে হলে দাম একটু বেশি হবে। গরু ব্যবসায়ী ও কৃষকরা লাভবান হবে।
হাটহাজারীর খামারি নজরুল ইসলাম ৯ টি বড় গরুসহ নিয়ে এসেছেন ২৪টি দেশীয় গরু। তিনি বলেন, গরুর খাবারের দাম খুব বেশি। একটি গরু বাজার উপযোগী করতে সময় লাগে ৩-৪ বছর। এসময়ে গরুর খাদ্য, লোকজনের বেতন ইত্যাদি মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়। তাই বাজার অনুযায়ী দাম না পেলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।
একই কথা উল্লেখ করেন, সাতকানিয়ার ব্যক্তিগত পর্যায়ে গরু পালন করা মোস্তাফিজুর। তিনি বাজারে ২টি গরু নিয়ে এসেছেন। যার প্রতিটির দাম হাঁকছেন ৬-৭ লাখ টাকা। দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা ও গরুর গঠন ভাল হওয়ায় ভাল দাম পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।
তবে ক্রেতাদের দাবি গরুর আকার অনুযায়ী দাম বেশি হাঁকছেন বিক্রেতারা। গত বছর থেকে প্রতি গরুতে ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি দাম দিচ্ছেন তারা। গরুর পর্যাপ্ত যোগান থাকা সত্ত্বেও দাম বেশি হওয়াটা অযৌক্তিক।
চকবাজারের বাসিন্দা ব্যবসায়ী ইয়াকুব বলেন, গরু দেখতে এসেছি। ভাল পেলে নিয়ে নেব। কিন্তু বিক্রেতারা গরুর দাম বেশি বলছেন। এখনো সময় আছে দেখে শুনে নেয়া যাবে।
বাজারে আসা আরেক ক্রেতা শামসু বলেন, বেশি দামের আশায়, ধরে আছে রশি এখনো বাজার জমেনি তাই গরু ব্যবসায়ীরা দাম ধরে বসে আছেন। বাজার জমে উঠলে বোঝা যাবে গরুর দাম কেমন হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর দাম একটু বেশি। দেশীয় গরুর দাম বেশি হলেও বড় আকারের ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রামের গরুর দাম কিছুটা কম।
বিবিরহাটে কুমিল্লার চান্দিনা, ময়নামতি ও লাকসাম থেকে প্রচুর দেশীয় গরু এসেছে। এগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই ছোট ও মাঝারি আকারের। আর বড় আকারের বেশ কিছু গরু এসেছে কুড়িগ্রাম থেকে। বিবির হাটের মূল বাজার গরুতে ভরে গেলেও ছুন্নিয়া মাদ্রাসা মাঠের এক-তৃতীয়াংশ এখনো খালি রয়েছে।
গতকাল বিকালে দেখা যায় ট্রাকে করে নিয়ে আসা গরু নামাচ্ছেন বেপারিরা। আজ শুক্রবার থেকে বাজার জমবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।












