সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
আরিফ আহম্মেদ
“আমরা যেভাবে খেলছি সেটাই উপভোগ করি। যতটা ভালো প্রস্তুতি নেয়া যায়, নিই। অবশ্যই মাঠে সর্বোচ্চটা দিবো এবং তারপর দেখা যাক কি হয়।” – মাশরাফি-দর্শনেই ফাইনাল খেলুক দল। শেষের দুই টি-টোয়েন্টি জয় মাশরাফি বাহিনীকে এই ফরম্যাটের উভয় পিঠ সম্বন্ধে ভালোই আঁচ দিয়েছে।
শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৪৭ রান পুঁজি করে যেমন জিততে হয়েছে বিপরীতে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় এসেছে ১২৯ রান চেজ করে। এইসব ম্যাচের কঠিন মুহূর্তগুলোকে নিজেদের করতে গিয়ে প্রাপ্ত আত্মবিশ্বাসকে প্রয়োগ করতে হবে ফাইনালে। ফাইনাল বড় মঞ্চ, আর এই বড় মঞ্চে জেতা বাংলাদেশ দলের জন্যে হতে পারে ‘বড় দল’ হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ! কারণ এটা এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াই।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ যখন ভারত তাই ব্যাটিংয়ে ১৫০-১৬০ রান চেজ করেও জেতার মানসিকতা রাখতে হবে। সাব্বিরের দারুণ ফর্ম যতটা স্বস্তি দিচ্ছে তততাই দুশ্চিন্তার কারণ মুশফিকের অফ ফর্ম। গত চার ইনিংসে ১৬*, ৪, ৪, ১২ রান করা মুশফিকের ভারতের বিপক্ষে রেকর্ড অবশ্য ভিন্ন কথা বলে। বড় রান চেজ করে জিততে হলে ওপেনিংয়ে ভালো শুরু চাই এবং এই কাজটি করতে হবে তামিম ও সৌমকেই। সে জন্য দল খুব করে চাইবে তামিম তার পিসিএল-ফর্মটাকে যেন ফাইনালেও টেনে আনেন।
গত ম্যাচে সৌমের ৪৮ রানের ইনিংসে শর্ট লেংথের বলে পুল শটগুলো তার ফর্মে ফেরার তীব্র ইঙ্গিত দিচ্ছিল। নেহরা ও বুমরাহকে প্রথম চার ওভারে উইকেট না দিলে উভয় ব্যাটসম্যানেরই যথেষ্ট হিটিং এবিলিটি আছে রানকে এগিয়ে দেবার। পরিস্থিতি বিবেচনা করে খেলতে হবে শুরুর ৬ ওভার, এটা ম্যাচের গতিপথ ঠিক করে দেবে।
‘পরিস্থিতি বিবেচনা’ প্রসঙ্গ যখন আসলো, সাব্বিরের কাছেই এটার প্রয়োগ বেশি চাইবে দল। ফর্মের তুঙ্গে থেকে গত ম্যাচে অমন অযথা উইকেট বিলিয়ে দেবার পর তো সেটি আরও। সাকিবের ব্যাটিং ফর্ম অফ-অনে সুইচ হলেও এমন ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাটা তারই বেশি। মাহমুদুল্লাহর কাছেই হয়তো দল আলাদা করে কিছু চাইবে না, তিনি কেবল তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেই যথেষ্ট। শেষ ম্যাচে ইরফানের শর্ট অফ লেংথের বলে ব্যাকফুটে যেয়ে তার মারা ছক্কাটিই ছিল জয়-নির্দেশক শট।
লড়াইটা হবে মূলত বাংলাদেশের বোলিং বনাম ভারতের ব্যাটিং। বাংলাদেশের হোম ওয়ার্ক স্বাভাবিকভাবেই কোহলি-ভিত্তিক হবে। তবে কোনভাবেই রোহিত শর্মাকে তার সহজাত ব্যাটিং করতে দেয়া যাবে না। ভারতের শক্ত ব্যাটিং লাইনআপে যে কেউ দাঁড়িয়ে যেতে পারে কিন্তু উল্লেখ্য দুই’য়ের কেউ একজন দাঁড়ানো মানেই ম্যাচকে আমাদের আয়ত্তের বাইরে নিয়ে যাওয়া। নিজেদের দিনে ম্যাচ-ফ্যাক্টর আপনার পক্ষে আসতেই পারে তবে এসব খুঁটিনাটি ম্যাচের লাগাম টেনে ধরতে সাহায্য করবে।
কিন্তু ‘রানের লাগাম টেনে ধরা’ গত ম্যাচের মতোই তাসকিনের উপর বর্তায়। কেবল মিতব্যয়ী বোলিংই নয়, উইকেট টেকিং বোলার আল আমিনের বাড়তি রান দেয়াকেও তার পুষিয়ে দেয়া লাগতে পারে। সাকিবকে হতে হবে বোলিং-বৃত্তের কেন্দ্র, যাকে কেন্দ্র করে বৃত্তের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়বে। মাশরাফি যদি তার স্পেল ৮-১৪ ওভারের মধ্যে শেষ করে, সুবিধে হয়। স্লগ ওভারে মুস্তাফিজ-দীর্ঘশ্বাস অব্যাহত থাকবে এটা মেনে নিয়েই বোলিং মেন্যু সাজাতে হবে। পঞ্চম অপশনে পরিবর্তন আসবে কি না কে জানে, অতিরিক্ত বোলার হিসেবে মাহমুদুল্লাহ ভালো অপশন। কার্যকরী বোলিং জয়ের সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করবে এ ব্যাপারে দল সন্দেহাতীত থাকুক।
মিথুন-ভুমিকা নিয়ে কোচ হাতুরেসিংহের দ্বিধা দর্শকমনেও সংক্রমণ হয়েছে। কিন্তু গত ম্যাচে তার রাখা ‘ভূমিকা’ দিয়ে সমতা আনার চেষ্টা করাই যায়। আমিরের ফুল লেংথ বলে সাকিব বোল্ড, মুহূর্তেই মাঠে পিন পতন নীরবতা! কে নামবেন মিথুন না মাশরাফি? এমন নীরবতা ভেঙ্গে রক্ষাকর্তার ভূমিকায় আসলেন দলপতি মাশরাফি। খেলতে হবে ম্যাচের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বোলার আমিরকে। নেমেই ফুল লেংথের বলে চার মারলেন স্ট্রেট ব্যাটে। সাত নম্বর পজিশনে মাশরাফির ব্যাট করতে নামা থেকে আমিরের ফুল লেংথে স্ট্রেট ড্রাইভ পুরোটাই পূর্বপরিকল্পিত! চিন্তা আর কার্যকারিতায় ভাগ বসালেন হাতুরেসিংহে এবং মাশরাফি। আর তাতেই ভয় গলে জয় এলো । যোগান-উৎপাদনের এমন সংযোগ ফাইনালেও হোক।
দেশের পরিপ্রেক্ষিতে, উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে ঠাসা ফাইনাল ক্রিকেটীয় অন্তর্জাল ছিঁড়ে বাংলা-জয়ে উদ্ভাসিত হোক। শিরোপা মাশরাফির হাতেই উঠুক।






