রমজানেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দক্ষিণ চট্টলার জনসাধারণের চরম যাত্রীদুর্ভোগ

সোমবার, ২৮ মে ২০১৮

মোহাম্মদ রিদওয়ান, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

রমজানেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দক্ষিণ চট্টলার জনসাধারণের চরম যাত্রীদুর্ভোগ

রমজানেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দক্ষিণ চট্টলার জনসাধারণের চরম যাত্রীদুর্ভোগ

চট্টগ্রাম : দুপুর গড়িয়ে বিকাল তথা সন্ধ্যা নামলেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া-চন্দনাইশ-সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে যাত্রীবাহী বাস, হাইস-মাইক্রোবাসের চালক-কর্মচারীরা। দীর্ঘ সময় ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও ট্রাফিক বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যার ফলে নিদারুণ দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ব্রীজ থেকে পটিয়া পর্যন্ত যাত্রীদের স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া গুণতে হয় বিকাল তথা সন্ধ্যা নামলেই। এ দৃশ্য সারাবছরের মত রমজান মাসেও প্রায় প্রতিদিনকার। নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে সরকারি ছুটির দিন এবং বৃহস্পতিবার-শুক্রবার আসলেই সে ভাড়া তিনগুণ-থেকে চারগুণ পর্যন্ত আদায় করছে যাত্রীবাহী বাস-হাইস-মাইক্রোবাসের চালক-হেলপাররা। বিকাল হলেই বাস চালকরা বাস না ছেড়ে যাত্রীদের হেনস্থা করতে দেখা যায়, পরিবহন শ্রমিকরা কৃত্রিম পরিবহন সংকট তৈরি করে জিম্মি করে তিনগুন ভাড়া আদায় করছে। ফলে নতুনব্রীজ এলাকায় ঘরমুখো মানুষদের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মাত্রা চরম পর্যায়ের মধ্যে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

রমজানেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দক্ষিণ চট্টলার জনসাধারণের চরম যাত্রীদুর্ভোগ

বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাত্রীসাধারনের সাথে চালক-হেলপারদের বিভিন্ন সময় বাড়াবাড়ি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে এবং নিয়মিত ঘটে চলেছে। অনেকটা জিম্মি ও বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ ধেকে তিনগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ছুটতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। কেউ কেউ আবার ছোট ছেলেমেয়ে ও মহিলাদের নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েন।

এ ব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কারও কোন রকম মাথাব্যাথা নাই। কথিত আছে বাসমালিক সমিতি কর্তৃক নিয়মিত মাসোহরা যায় ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। আর এসব কার্যক্রম চলে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায়। আমাদের অনুসন্ধানে উক্ত ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বাস-মালিক সমিতি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে কোনরূপ বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

এদিকে গত কয়েকবছর আগে পটিয়ার যাত্রীসাধারনের দূর্ভোগ লাঘবের জন্য বিআরটিসি’র দ্বিতল বাস চালু করা হলেও বর্তমানে অদৃশ্য কারণে সন্ধ্যা নামলেই এসব বাস সমূহকে নতুনব্রীজ-পটিয়া রুটে দেখতেই পাওয়া যায় না। অনুসন্ধানে দেখা যায় এসব বাস নতুনবীজ-পটিয়া রুটের বদলে প্রায় সময়ই বিকালের পরে নতুনব্রীজ-২নং গেইট রুটেই বেশী চলাচল করে। অনুসন্ধানে আরও তথ্য পাওয়া যায়, বিআরটিসি’র চালক-হেলপার-কর্মকর্তা এবং পটিয়া বাস-মালিক সমিতির নেতা-কর্মীদের যোগসাজশে সাধারণ বাসের ভাড়া দ্বিগুণ-তিনগুণ আদায়ের লক্ষ্যে উক্ত প্রগাপন্ডা চালানো হচ্ছে।

মহসিন কলেজে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী রীতিমত অভিযোগ করে বসে যে, বাস শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের থেকে হাফ নেওয়া তো দূরের কথা!!!  উল্টো শিক্ষার্থীদের দেখলে গাড়িই থামাতে চায়না, তার উপরে ভোগান্তি পোহায়ে গাড়িতে উঠার পরে শিকার হতে হয় বিভিন্ন বিড়ম্বনার, মাঝে মাঝে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে শিক্ষার্থীদের লাঞ্চিত হওয়ার ও অভিযোগ আসে। এই পরিবহন শ্রমিক নামের কতিপয় বখাটের হাতে বিভিন্ন সময় ইভটিজিং সহ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের প্রতি বিভিন্ন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গী প্রদর্শনের ঘটনাও নাকি ছাত্রীদের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেটা সত্যিই ন্যাক্কারজনক।

সাধারণের সাথে কথা বলে জানা যায়, অফিসগামী চাকুরীজীবীগণ, নিয়মিত চট্টগ্রাম শহরে আগত ব্যবসায়ীগণ,শিক্ষার্থীরা সহ সর্বসাধারণের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলকে বারবার জানানো হলেও তাহারা এসবের প্রতিকারে কর্ণপাতই করছেনা।

আপনার মতামত দিন....

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.