শাহপরীর দ্বীপের ‘দুঃখ’ ঘুচতে আরো ছয় মাস লাগবে

বেড়িবাঁধ নির্মাণে ১০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম,  নিউজ ডেস্ক

শনিবার, ২৭ আগস্ট ২০১৬

Teknaf_sahporirdiwp_05-11-04.11.48-800x600

অবশেষে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মানুষের দুঃখ ঘুচতে চলেছে। টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০৬ কোটি টাকা। তবে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হতে সময় লাগবে আরও ছয় মাস।

বাংলাদেশ মানচিত্রের সর্বদক্ষিণের স্থানটির নাম শাহপরীর দ্বীপ। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এলাকাটি। লোকসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে এই দ্বীপের পশ্চিম পাশে এক কিলোমিটারের মতো বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছিল। এই ভাঙা বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রায় ৯৭ কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু ভাঙা বাঁধ জোড়া লাগেনি। ফলে এলাকার লোকজনকে পানিবন্দী জীবন কাটাচ্ছে হচ্ছে।

এখনো টেকসই বেড়িবাঁধ হবে কি না-এ নিয়ে চিন্তিত এলাকার মানুষ। তাদের দাবি, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাঁধের নির্মাণকাজ হোক। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাবিবুর রহমান বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। টেকসই বেড়িবাঁধ হবে। ঠিকাদারের মাধ্যমেই হবে সেই কাজ। কঠোরভাবে কাজের তদারকিও হবে। তখন লোকজনের ‘দুঃখ’ মুছে যাবে। তবে কাজ শুরুর জন্য পাঁচ-ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ১৬ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) একসভায় শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০৬ কোটি টাকার অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন টাকা ছাড়ের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষা। এরপর কাজের বিপরীতে দরপত্র আহ্বান করা হবে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হবে টেকসই বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ। ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এই কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ থাকলেও ২০১৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা আছে।

পানিবন্দী জীবন: গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, শত শত মানুষ নৌকায় করে ডুবে থাকা ফসলি জমির ওপর দিয়ে টেকনাফ আসছেন। আবার টেকনাফ থেকে একইভাবে লোকজন শাহপরীর দ্বীপে যাচ্ছেন। পাশেই ছিন্নভিন্ন ‘টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ’ সড়কটি। সড়কের পিচঢালাই বহু আগেই উঠে গেছে। ভেঙে গেছে সড়কের একাধিক কালভার্ট। গাড়ি চলা তো দূরে, হাঁটাও দায়। এদিকে দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, ঘোলাপাড়া ও দক্ষিণপাড়া অংশের প্রায় দুই কিলোমিটার ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে প্রায় ১৫টি গ্রামের ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে।

শাহপরীর দ্বীপ বাঁচাও কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ হাশেম জানান, গত ১৫ বছরে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে এই শাহপরীর দ্বীপের প্রায় ১০ হাজার একরের চিংড়ি ও ফসলি জমি সাগরে তলিয়ে গেছে। বিলীন হয়েছে, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ অন্তত চার হাজার ঘরবাড়ি। ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ভেঙে ফেলেছে শাহপরীর দ্বীপ থেকে টেকনাফ সদরে যাতায়াতের ১৩ কিলোমিটারের সড়কটির প্রায় পাঁচ কিলোমিটার।

শাহপরীর দ্বীপ বাঁচাও কমিটির সভাপতি জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মৎস্য আহরণের অন্যতম স্থান শাহপরীর দ্বীপ এখন বিচ্ছিন্ন জনপদ। বর্ষা মৌসুমে তো কোনো রকমে নৌকায় চলাফেরা করা যায় কিন্তু শীতে লোকজনের ভোগান্তি বাড়ে। ভাটার সময় পানি কমে গেলে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকে। তখন ভাঙা সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। অথবা কাদা মাড়িয়ে হেঁটে পাঁচ কিলোমিটার জমি পার হতে হয়। এখন টেকসই বাঁধের জন্য ১০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নিয়ে সন্দিহান মানুষ। দ্বীপের মানুষ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই সংস্কারকাজ করার পক্ষে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান বলেন, ভাঙা বাঁধটি নির্মাণের জন্য পাউবো ৯৭ কোটি টাকা খরচ করেছে। কিন্তু দুর্নীতির কারণে বাঁধ ভাঙাই রয়ে গেছে। তাই এবার মানুষ বাঁধ নির্মাণকাজে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধান চাইছে। একই দাবি জানান সাবরাং ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নুর হোসেনও।

১০৬ কোটি টাকায় কী হবে: শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, মাঝেরপাড়া, ঘোনারপাড়া হয়ে দক্ষিণ পাড়া পর্যন্ত ২ দশমিক ৬৪৫ কিলোমিটার লম্বা স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মিত হবে। উচ্চতা হবে সাড়ে ৬ মিটার, প্রস্থ সাড়ে ৪ মিটার। বাঁধ রক্ষার জন্য এক পাশে (সমুদ্রের দিকের অংশে) বসানো হবে পাথরের সিসি ব্লক।

স্থানীয় লোকজন জানান, ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি ভেঙে যাওয়া পাঁচ কিলোমিটার সড়কেরও সংস্কারকাজ শুরু করতে হবে। নইলে শাহপরী দ্বীপবাসীর কষ্ট থেকেই যাবে।

এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া বলেন, আগে বেড়িবাঁধ নির্মাণ হোক। তারপর ভাঙা সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হবে। বাঁধের আগে সড়ক নির্মাণ করা হলে তা টিকবে না। তথ্য সূত্র প্রথম আলো

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.